আঙিনা

বরিশাল গণহত্যা –

— শ্রী পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়

 

তেরোই ফেব্রুয়ারির দুপুর, ঊনিশশো পঞ্চাশ
দুই অজ্ঞাত পরিচয় যুবা গুজবে ছড়ায় ত্রাস।
বরিশালে দ্রুত উত্তেজনাতে বন্ধ দোকানপাট
হিন্দুর প্রতি বিদ্বেষে ভরে চকিত রাস্তাঘাট।
শুরু হয় আরও মিথ্যা রটনা, এ কে ফজলুল হক
খুন হয়েছেন কলকাতা পথে, সে মৃত্যু ভয়ানক !
আকাশে তখন প্রতিহিংসার কালো ডানা ঘুরপাক
আটটি এলাকা, তিরিশটি বাড়ি আগুনেই পুড়ে খাঁক।
আধপোড়া দেহ, দগ্ধ অস্থি, ইঁদুরের খাওয়া চোখ
গৌরনদী ও ঝালকাঠি জুড়ে জিহাদি শানায় নখ।
নলছিটি সাব ডিভিশনে চলে ব্যাপক অত্যাচার
ঢাকা-বরিশাল স্টিমারগুলিতে হিন্দুরা ছারখার।
কত লাশ ছুঁড়ে ফেলেছে নদীতে, কত না অর্ধমৃত
কত ভীত সন্ত্রস্ত হিন্দু — হলো যে নিগৃহীত।
বরিশালে নৌবন্দরে আর মুলাদিতে দলে দলে
পুলিশ স্টেশন কম্পাউন্ডে পাশব হত্যা চলে।
স্কুলের হিন্দু শিক্ষক হওয়া মহাপাপ ছিল তাই
হতভাগ্যকে জ্যান্ত জ্বালিয়ে ছাত্ররা করে ছাই।
বাবুগঞ্জের মাধবপাশায় জমিদার বাড়িটিতে
করে দুশো জন হিন্দু হত্যা, উচিত শিক্ষা দিতে।
চল্লিশজন অর্ধেক মরে বেঁচে ছিল বহুকাল
তারই ভয়ার্ত স্মৃতি নিয়ে যেন কৃষ্ণচূড়াটি লাল।
ভুলতে পারি কি আজও সেই কথা? বিস্মৃতি কতদিন !
সে অস্পষ্ট বাসভূমি জ্বলে চোখের কোটরে ক্ষীণ ।

 

 

(লেখক পরিচিতি – মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক। জাতীয়তাবাদী কবি ও প্রাবন্ধিক। প্রকাশিত গ্রন্থ : রাত বারোটার সূর্য (কাব্যগ্রন্থ), প্রকাশ্য আড়াল ( কবিতা বিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ ), লিমেরিক ৫০ (ননসেন্স ভার্স), এবং ‘বাঙালি হিন্দুর ধূসর ভবিষ্যৎ’ (নিবন্ধগ্রন্থ)।)