তর্পণে প্রণত মসীশাশ্বত সনাতনস্বভূমি ও সমকাল

|| দেব রাজবংশ ও হিন্দু প্রতিরোধ (১২৩১-১৪১৮ খ্রি:)- বাঙ্গালী জাতিস্বত্ত্বার নির্মাণ || – ১

 – স্নেহাংশু মজুমদার

ত্রয়োদশ শতকে ভারতবর্ষে যবন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে হিন্দু প্রতিরোধে বঙ্গজ কায়স্থ দেববংশের গুরুত্ব সর্বাধিক । ১১৫৬, ১১৫৮ ও ১১৬৫ শতাব্দে রাজা দামোদরদেব যে তিনটি তাম্রলিপি খোদাই করিয়েছিলেন (তাঁর রাজত্বের ৪র্থ, ৬ষ্ঠ ও ১৩শ বছরে) তা থেকেই এই রাজবংশের ইতিহাস জানা যায়। ১১৬৫ শতাব্দের দামোদরদেবের চট্টগ্রাম তাম্রলিপি থেকে এই রাজবংশের প্রথম তিন রাজার কথা জানা যায়। এই রাজবংশের প্রথম রাজা ছিলেন পুরুষোত্তমদেব। তিনি ছিলেন গ্রাম-প্রধান বা “গ্রামণী”। তাঁর পুত্র মধুমথন বা মধুসূদনদেব ছিলেন এই রাজবংশের প্রথম সার্বভৌম রাজা। তিনি “নৃপতি” উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। দিল্লি সালতানাতের আক্রমণে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বাংলার বিভিন্ন ভূখণ্ডসমূহকে পুনরায়  ঐক্যবদ্ধ করে এক স্বাধীন “বাঙ্গালা সাম্রাজ্য” প্রতিষ্ঠা হয় দেববংশের শাসনকালে । ধর্মপ্রাণ বৈষ্ণব দেব রাজবংশের শাসনে মধ্যযুগে বাংলায় ৩৬ শ্রেণীয়কুল সমন্বয়ে ও তিন-ভূখণ্ডকে একত্রিত করে এক অখণ্ড ভৌগোলিক রাষ্ট্রীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও এক ঐক্যবদ্ধ ‘বাঙ্গালী’ জাতিস্বত্ত্বার নির্মাণ সম্ভব হয়।

👑★ অরিরাজচানূরমাধব রাজা দামোদর দেব (১২৩১-১২৫৫ খ্রি:) :

পরমভাগবত রাজা মধুসূদন দেব’র পুত্র রাজা দামোদর দেব ছিলেন দেববংশীয় চতুর্থ নৃপতি এবং মহাপরাক্রান্ত রণযোদ্ধা । তিনি কাশীবিজয়ী পরমসৌর বঙ্গাধিপ গৌড়েশ্বর বিশ্বরূপ সেন’-র সামন্তনৃপতি হিসেবে সমতট ও চট্টগ্রাম শাসন করতেন । ত্রিপুরা-চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রাপ্ত রাজা দশরথের মহিষী কন্দর্পদেবী কর্তৃক প্রদত্ত পাকামোড়া তাম্রশাসন থেকে তাঁর যুদ্ধজয়ের বিষয়ে অনেক বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় । এই ত্রিপুরা-চট্টগ্রাম অঞ্চলে রাজা দামোদর দেবের মোট তিনটি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে । সেগুলো দেখলে বোঝা যায় তিনি আনুমানিক ১২৩১ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং ১২৫৫ অবধি রাজত্ব করেছিলেন। তিনি “অরিরাজ-চানূর-মাধব-সকল-ভূপতি-চক্রবর্তী” উপাধি গ্রহণ করেছিলে। কুমিল্লা তাম্রলিপি থেকে জানা যায়, তাঁর রাজ্য আধুনিক বাংলাদেশের কুমিল্লা-নোয়াখালি-চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রসারিত ছিল।

  • ⚔️ গৌড় বিজয় (১২৩৫ খ্রি): দিল্লি সালতানাত এর প্রশাসক ইউজউদ্দিন খিলজির সময় শিখরভূমের ছাতনা রাজ্যের সামন্ত রাজা উত্তর হামীর রায় রাঢ় অঞ্চলের সমস্ত নৃপতিদের একত্রিভূত করে রাজনগর আক্রমণ করেন। খিলজিদের পরাজিত করে রাঢ়ীয় সৈন্যবাহিনী লক্ষ্মনুর দুর্গ জয় করে । এসময় ইউজউদ্দিন খিলজি বঙ্গভূম আক্রমণ করে । খিলজি আক্রমনের সংবাদ পেয়ে মহারাজ বিশ্বরূপ সেন সমতটাধীশ রাজা দামোদরদেবকে পুন্ড্রবর্ধনভুক্তি অঞ্চলে নৌবাহিনী সংযোগের নির্দেশ দেন। দামোদর দেবের নেতৃত্বে বিক্রমপুরের বিশাল কৈবর্ত্য নৌবাহিনী নিয়ে করতোয়া নদীর পূর্বপাড় সম্পুর্ন ঘিরে ফেলেন ।

         °⚔️ বিক্রমপুর সেনা খিলজিদের দুই দিক থেকে সাঁড়াশি আক্রমণে চেপে ধরেন ও বিক্রমপুরের তীরন্দাজবাহিনী                   অগণিত বাণবর্ষণে খিলজিদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় । ইউজউদ্দিনকে পরাজিত করে রাজা দামোদরদেব ক্রমশ পশ্চিমে অগ্রসর হয়ে গৌড়নগরে প্রবেশ করেন । গৌড়নগর বিজয় করে রাজা দামোদরদেব ১২৭ টি প্রাচীন ভগ্ন মন্দির সংস্কার করে পুনঃস্থাপন করেন ও সনাতনধর্মের বিজয়প্রতিষ্ঠায় জগদীশ্বর মহাবিষ্ণুর উদ্দেশ্যে বৃহৎ উপাসনা ও মহোৎসব সম্পন্ন করেন ।

📜 পাকামোড়া তাম্রশাসনের ভাগবত বিষ্ণুচক্রের নিম্নলিখিত বঙ্গাক্ষরীয় উল্লেখ রয়েছে – তিনিই সুদর্শনধারী বিষ্ণুপদধন্য দেবান্বয় কুলকমল নৃপতি দামোদর, যিনি গৌড়দেশের নষ্টশ্রী উদ্ধার করে গৌড়ে মহোৎসব সম্পন্ন করেছিলেন (“খ্যাতো গৌড়মহীমহোৎসবময়ং চক্রে পুনশ্চ শ্রিয়া”)।


(অরিরাজ চানূরমাধব রাজা দামোদর দেব -এর পাকামোড়া তাম্রশাসন)

 

👑★ অরিরাজদনুজমাধব মহারাজাধিরাজ দশরথদেব/ রাজা দনুজ রায় :

বিষ্ণুপদধন্য রাজা দামোদরদেবের পুত্র ও দেববংশীয় পঞ্চম নৃপতি ছিলেন পরমেশ্বর পরমভট্টারক মহারাজাধিরাজ অরিরাজদনুজমাধব দশরথ দেব, যিনি বঙ্গেশ্বর দনুজ রায় নামেই অধিক প্রসিদ্ধ । কুলাচার্য হরিমিশ্রের বঙ্গজ কায়স্থ কুলকারিকা ও আবুল ফজলের ‘আইন-ই-আকবরি’ তে বঙ্গেশ্বর দনুজ রায়’র শৌর্য বীর্যের প্রভূত কিংবদন্তি লিপিবদ্ধ হয়েছে । বাংলা রামায়ণ রচয়িতা কবি কৃত্তিবাস ওঝা’র আত্মপরিচয়ে তিনি ‘বেদানুজ’ বলে উল্লিখিত হয়েছেন ।

📜(“পূর্ব্বেতে আছিল বেদানুজ মহারাজা ।

তা’হার পাত্র আছিল নারসিংহ ওঝা ।

বঙ্গদেশে প্রমাদ হইল সকলে অস্থির ।

বঙ্গদেশ ছাড়ি ওঝা আইলা গঙ্গাতীর ।”)

 

  • ⚔️ গৌড় বিজয় (১২৭২ খ্রিস্টাব্দ):

বঙ্গাধিপ গৌড়েশ্বর পরমসৌগত মধুসেন’-র সামন্তনৃপতি হিসেবে দনুজ রায় ১২৭২ খ্রিস্টাব্দে গৌড় আক্রমণ করেন ও দিল্লি সালতানাতের গভর্নর শের খান’কে পরাজিত ও নিহত করে গৌড় বিজয় করেন ।দনুজ রায়’র আদাবাড়ী তাম্রশাসনে উল্লিখিত হয়েছে, মহারাজ দশরথদেব বৈকুণ্ঠ অধীশ্বর ভগবান নারায়ণের অনুগ্রহে গৌড়রাজ্য অধিকার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ১২৮১ তে মহারাজ দশরথ দেবের বিক্রমপুরে বিজয়ের পর রাজধানী থেকে এই তাম্রশাসন প্রদত্ত হয় । আদাবাড়ী তাম্রশাসনে লাঞ্ছন হিসেবে চারিহস্ত-বিশিষ্ট যোগাসনস্থ শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্মধারী নারায়ণমূর্ত্তি বিরাজিত । তাম্রশাসনে উল্লিখিত –

📜(“ইহ-খলু বিক্রমপুর সমাবাসিত শ্রীমৎ বিজয় স্কন্ধাবারাৎ শ্রীমন্নারায়ণ চরণকৃপা-প্রসাদমাসাদিত গৌড় রাজ্য অশ্বপতি গজপতি নরপতি রাজত্রয়াধিপতি দেবান্বয় কমলবিকাশভাস্কর সোমবংশ প্রদীপপ্রতিপন্ন কর্ণসত্যব্রত গাঙ্গেয় শরণাগত বজ্রপন্থর পরমেশ্বর পরমভট্টারক মহারাজাধিরাজ  অরিরাজদনুজমাধব শ্রীমদ্দশরথদেব পাদা- বিজয়িন:”)

 

  • ⚔️ বিক্রমপুর বিজয় (১২৮১ খ্রি:):

এসময় পূর্ববঙ্গের রাজনৈতিক চলচিত্র অত্যন্ত জটিল হয়ে পরে । তিব্বতদেশীয় লামা তারানাথ’র বৌদ্ধ নথি হতে জানা যায়, পরমসৌগত মধুসেন’র মৃত্যুর পর তাঁর পুত্রদ্বয় লবসেন ও বুদ্ধসেন’র মধ্যে সিংহাসন নিয়ে চরম ভ্রাতৃদ্বন্দ্ব শুরু হয় । সাভারের আরেক সেনবংশীয় রাজা ধীমন্তসেন (কার্ত্তিক)’ও এসময় বিক্রমপুরের সিংহাসন অধিকার করতে আসে । সেনবংশের এই অন্তর্ঘাতের সুযোগে লখনৌতির গভর্নর মুঘিসুদ্দিন তুঘ্রাল এসময় সুবর্ণগ্রাম দখল করে নেয় ।

আসন্ন বহিঃআক্রমন ও সেনবংশধরদের অন্তর্ঘাত দেখে রাজা দনুজ রায় পূর্ববঙ্গে রাজনৈতিক সুস্থিতি আনা মনস্থ করেন । ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে রাজা দনুজ রায় বিক্রমপুর আক্রমন করেন । ধীমন্তসেন’র পুত্র পরমস্কন্দ রণধীর সেন এই যুদ্ধে দেবপক্ষের সেনাপতিত্ব করেন ও ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ অঞ্চলে শিবির বানিয়ে উত্তর দিক থেকে বিক্রমপুর আক্রমন করেন । রণধীর সেন একজন মহাবীর যোদ্ধা ছিলেন, সাভার শিলালিপিতে তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে- ধীমন্তপুত্র রণধীরসেন দেবসেনাপতি কার্তিকেয়’র ন্যায় অতুল বলশালী সংগ্রামবিজেতা এবং তিনি হিমালয় পর্যন্ত সমগ্র ভূভাগ জয় করে সম্বার নামক স্থানে রাজধানী স্থাপন করেন ।

📜(ধীমন্তপুত্রো রণধীরসেনঃ

সংগ্রামজেতা ইব কার্ত্তিকেয়ঃ ।

হিমালয়ব্যাপ্ত দেশান্‌বিজিত্য

সারপুৰ্য্যামবসৎ প্রবীরঃ ॥”)

উত্তরে রণধীরসেন ও দক্ষিণ থেকে রাজা দনুজ রায়’র আক্রমণে সেনবংশের পতন হয় । রাজা দনুজ রায় শ্রীবিক্রমপুর জয় করে সেনবংশের উচ্ছেদ ঘটিয়ে দেববংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন । রণধীর সেন এসময় দেববংশের সামন্তশাসক হিসেবে ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ ও সাভার অঞ্চলে শাসন করতে থাকেন । পাকামোড়া পট্টোলীতে এ বিষয়ে উল্লিখিত, পূর্ববর্তী রাজগণের নির্বুদ্ধিতার ফলে বঙ্গভূমে শত্রু আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিল, প্রজাগণ বিকল ও ভয়াকুল হয়েছিলেন, কিন্তু রাজা দনুজমাধব পুনরায় প্রজাদের নিরাপত্তাবিধান করে তাঁদের ধর্ম অর্থ কাম বিষয়ে সমৃদ্ধিবিস্তার সুনিশ্চিত করেন। দেববংশজ কুলগ্রন্থে প্রাচীন কুলাচার্য হরিমিশ্রের উক্তিতে পাওয়া যায়,

📜(“প্রাদুরভবৎ ধর্মাত্মা সেনবংশাদনন্তবম্ ।

দনৌজামাধব: সর্ব্ব ভূপৈ: সেব্যপদাম্বুজম ।।”)

  • বাঙ্গালা-দিল্লি চুক্তি (১২৮১ খ্রি:) : দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান বাঙ্গালার সম্রাট দনুজ রায়’কে :-

মুসলমান ইতিহাসবিদ জিয়াউদ্দিন বারানি’র রচিত, ‘তারিখ-ই-ফিরোজশাহী’ (تاریخ فیروزشاهی) থেকে জানা যায় সুলতান-এ-দেল্লেহ গিয়াসউদ্দিন বলবনের সাথে বঙ্গসম্রাট দেবান্বয়কুলপ্রদীপ মহারাজ দশরথদেব’র ঐতিহাসিক চুক্তির কথা । ১২৮০ খ্রিস্টাব্দে বিহার-লখনৌতি’র মামলুকবংশীয় গভর্নর মুঘিসুদ্দিন তুঘ্রাল দিল্লির সুলতানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে । গিয়াসউদ্দিন বলবনের, তুঘ্রালকে দুদিক থেকে ঘিরে ফেলার জন্য জন্য বাঙ্গালার সম্রাট দনুজ রায়ের সাহায্য প্রয়োজন ছিল । প্রসঙ্গত এই বিদ্রোহী তুঘ্রাল, বলবন ও দনুজ দুয়েরই শত্রু ছিল, তাই ‘শত্রুর শত্রু মিত্র’ এই নীতিবাক্য স্মরণ করে বলবন রাজা দনুজ রায়ের সাথে সন্ধি করা ঠিক করেন । 

দিল্লির সুলতান গিয়াসুদ্দিন বলবন বাংলায় এসে বিক্রমপুরের সম্রাট দশরথদেব দনুজ রায়ের সাক্ষাৎ প্রার্থনা করেন ও মিত্রতা কামনা করেন । এই সাক্ষাৎকারের সময় সুলতানে দিল্লিকে একটি দ্বিধায় পড়তে হয় – পরাক্রমগর্বিত বঙ্গরাজ দনুজ রায় শর্ত রাখেন, তাঁর সাক্ষাৎকার পাওয়ার জন্য দিল্লির সুলতানকে তাঁর সামনে উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানাতে হবে, অতঃপর বঙ্গসম্রাট এই চুক্তিতে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হবেন । এই শর্তে বলবন সমস্যায় পড়েন। দিল্লির সুলতানের পক্ষে বাংলার কাফের রাজাকে এভাবে সম্মান দেখানো চলে না, অথচ বঙ্গসম্রাট দনুজ রায়কে সম্মান অভিবাদন না দেখালে চুক্তি সম্ভব হবে না।

শেষ পর্যন্ত নিরাপদ উপায়ে বঙ্গাধিপের সাক্ষাৎ পাওয়ার পথ বার করলেন তুগরাল অভিযানের দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাপতি মালিক ইখতিয়ারউদ্দিন নেকতারস। তিনি বুদ্ধি দিলেন, সুলতান আগে থেকেই একটি বাজপাখি হাতে নিয়ে দরবারে বসে থাকবেন। এরপর বঙ্গরাজ দনুজমাধব এলেই সুলতান উঠে দাঁড়িয়ে বাজপাখিটি উড়িয়ে দেবেন। সবাই ভাববে, সুলতান বুঝি পাখি ওড়াতেই উঠে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু এই পথে বঙ্গাধিপ দনুজমাধব’কে সুলতানের অভিবাদন জানানোও হয়ে যাবে ।  বুদ্ধিদাতা এরজন্য সুলতানের কাছ থেকে পুরস্কার পেলেন।

নিরুপায় সুলতান বলবন তাই সেই পথই অনুসরণ করলেন । মিত্রতা চুক্তি সাধনে আর কোনও বাধা রইল না। দিল্লির সুলতান যে হিন্দু নৃপতির সম্মানে অভিবাদন জানাতে উঠে দাঁড়াতে বাধ্য হন, সেই বঙ্গসম্রাট নিঃসন্দেহে ত্রয়োদশ শতকের ভারতবর্ষের সর্বাধিক প্রতাপশালী শাসক তো বলাই বাহুল্য ।

প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ড: রমেশচন্দ্র মজুমদার তাঁর ‘The Delhi Sultanate’ গ্রন্থের ষষ্ঠ খণ্ডে উল্লেখ করেছেন –

“The Sultan sat on the throne with a falcon on his hand, and on the approach of Rai Danuj stood up and let the falcon go, so that the people would surmise that he left the throne only to set the bird in motion. The Muslim honour was saved by playing a trick upon the unsuspecting Hindu king.”

The fact that such an incident was remembered and recorded. nearly two hundred years later, by an eminent Muslim historian, speaks volumes about the way in which a Muslim Sultan was apt to regard even an independent Hindu king, not to speak of lesser potentates or individuals. ”    

 

 

 

(চিত্র – অখন্ড বাঙ্গালী জাতিস্বত্ত্বার নির্মাতা দেবান্বয়কুলতিলক বাঙ্গালা-সম্রাট দনুজমর্দন রামনাথদেব)

(চিত্রাঙ্কন : শ্রী ঋতঙ্কর দত্তচৌধুরী)

(লেখক – শ্রী স্নেহাংশু মজুমদার উদ্ভিদবিজ্ঞান স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষ। বঙ্গীয় সনাতনী ইতিহাস সন্ধানী ও প্রচারক।
সদস্য :- গৌড়ীয় ওয়ারিয়র্স)……

(আগামী সংখ্যায় সমাপ্ত)

Leave a Reply