– শ্রীমতী দোলন ঘোষ
কমল মিত্রের কথায় আসি এবার।।এমন ডাকসাইটে ডাকাবুকো বাপ,বাঘ আর গরুকে এক ঘাটে জল খাওয়াতে তাঁর যেন জুড়ি নেই। ‘সূর্য্যতোরণ’ এর স্থপতি ইউ এন রায়, বিজনেস আর আর্কিটেকচারে প্রায় মুকুটহীন সম্রাট, যাঁর মুখের প্রতিটি অভিব্যক্তিকে ডরিয়ে চলে সে যুগের কর্পোরেট মহল। আবার দেয়া নেয়া ছবির বাবার কথাই যদি ধরি। ‘তার মানে আপনি বলতে চাইছেন।,গান বাজনা করলে এ বাড়ীতে থাকা যাবে না!!!??” বিস্ময়াহত উত্তমের এই প্রশ্নের জবাবে এই ২০২৬ এও প্রায় ভাইরাল হওয়া সেই মিমের বিষয় হয় বাপ কমল মিত্রেরই সেই আইকনিক সংলাপ, ‘বলতে চাইছি নয়, বলছি’।
কমল মিত্রের ব্যতিক্রমী অভিনয় যদি বলতে হয়, তবে ‘কঙ্কাবতীর ঘাট’ ছবির কথা সবার আগে মনে আসে। এক অসামাজিক গুণ্ডা,মস্তান – যে চরিত্রে তাঁকে কল্পনাও করা যায় না। সরু চোখের চাউনি থেকে শুরু করে, গলার রুমাল প্যাঁচানো থেকেই এস আই বা বেল্টিং বাজার এলাকায় গ্রিলের কাজ করেন কেউ।আছেন?.. আর্জেন্ট।
কমেন্টে ফোন নম্বর দিন নিয়ে ভাষার অ্যাক্সেন্ট। কমল মিত্র সত্যিই যেন জাত চিনিয়েছিলেন,কিন্তু দুর্ভাগ্য, তাঁকে বাবা ছাড়া খুব বেশী অন্য রোলে আর পাওয়াই গেল না।
কমল মিত্র বলতে গিয়ে ‘বিভাস’ এর অনুল্লেখ নিতান্তই অন্যায় হবে।তারকেশ্বর ডাক্তারের ডাক্তারীর অন্তরালে আসলে কোন চেহারাটা বর্তমান,তার আঁচ গোটা গ্রামবাসী কেন, কেউই পায় না। কিন্তু গোটা ছবি জুড়ে কেমন সর্বক্ষণ এক দমবন্ধ করা চাপ। এক রহস্যের কুয়াশা যেন। ছবির শেষে নিতান্ত সাধাসিধে কম্পাউন্ডার বিভাসের শক্ত শিরদাঁড়ার পরিচয় মিলতে থাকে ধীরে ধীরে, তারকেশ্বর ডাক্তারের সেই পরতে পরতে ভেঙে পড়া এক অন্য কমল মিত্রকে উন্মোচিত করে না কি!??
কমল মিত্র নিয়ে যে কোনও লেখায় মূলত তাঁর জীবন চরিতই উঠে আসে বারবার। কাঞ্জিকের পাতায় প্রয়াস রইল তাঁর অভিনয় বিশ্লেষণের। এ নিয়ে আরও বিশদ থাকবে পরের পর্বে।

শ্রীমতী দোলন ঘোষ বিগত ১০ বছর যাবৎ আকাশবাণী এফ এম এ উপস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত আছেন। তৎসহ দীর্ঘদিন ধরে তিনি চলচ্চিত্র গবেষণায় নিবিষ্ট ও নিজস্ব স্বাধীন ব্যবসার সাথেও যুক্ত।এবং বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্সের এক সক্রিয় কর্মী।

