সংস্কৃতি

বেজে ওঠে পঞ্চমে স্বর

অন্তর্জালে প্রাপ্ত দুখানি ভিডিওঃ

ছোট বর্মনের ড্রয়িং রুমে চলছে সাক্ষাৎকার। সাংবাদিক জিজ্ঞেস করলেন যে, আপনার ওয়েস্টার্ন প্যাটার্নের সুর করতে ভাল লাগে না ইন্ডিয়ান ক্লাসিকাল প্যাটার্ন এ?…

রাহুল উত্তর দিলেন, ‘উমম, ভাল লাগে সবই।ভাল যা লাগে তা করিও।তা বলে এভাবে কখনই বলতে পারব না যে মালকোষে কোশিশ করে অমুক সুরটা করলাম বা তমুক সুর করতে আমায় ঝিঞ্ঝোটির ঝঞ্ঝাট পেরোতে হল। এভাবে কিছু পারি না’ -বলেই হাসতে লাগলেন…

প্রায় একই সময় নাগাদ গুলজার বলছেন, ‘খুব কম লোকে জানে হিন্দুস্থানী ক্লাসিকাল এর ওপর ওর কি দখল’….

★          ★          ★

আত্মবিস্মরণ না কি প্রতিক্ষণে নিজের ‘আমি’কে অবচেতনেই চুরমার ক’রে চলা!?

‘বহুমুখীনতা’, ‘বৈচিত্র্য’, ‘সময়ের থেকে এগিয়ে’,’ নিরন্তর পরীক্ষা নীরিক্ষা’-সৃজনসাম্রাজ্যের যে কোন মানুষকে নিয়ে লিখতে বসলে খুব কমন এই শব্দগুচ্ছ চলে আসেই।ভ্যান গখ, চার্লি চ্যাপলিন, সুকুমার রায়, অস্কার ওয়াইল্ড থেকে বব ডিলান,গুরুদত্ত-এঁদের যাঁকে নিয়েই আপনি ভাবুন, এই শব্দ বা শব্দবন্ধগুলো অনিবার্য হয়ে ওঠে…এবং  এই সারণীর ঠিক পরের নামটাই হতে পারে  রাহুল দেব বর্মণ যাঁর নিজেকে এভাবে নস্যাৎ করার কথাই সর্বাগ্রে ম’নে আসে আজকের সোস্যাল মিডিয়া কালীন স্বস্বীকৃত কেউকেটাদের দাপাদাপির যুগে। ১৬ই জুন সবেমাত্র আমরা পেরিয়ে এসেছি বাংলা তথা বলিউডের আর এক বিরাট সঙ্গীতব্যাক্তিত্ব হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন, এবং শতবর্ষের গোড়ায় দাঁড়িয়ে যাবতীয় মাধ্যম জুড়ে এই প্রখর প্রবল গ্রীষ্মে যে পরিসরে ‘হেমন্ত বর্ষণ’ চলেছে, তাতে ঠিক দশ দিনের মাথায় এই আর.ডি চর্চ্চাকালে পুনঃপ্রয়োগজনিত যে কোনোরকম শব্দসঞ্চার থেকে এ লেখাকে মুক্ত রাখার রাস্তা একটাই -সরাসরি তাঁর কাজের ডিটেলে চ’লে যাওয়া।

জনপ্রিয় ছবির জগতে ছবির মতই গান নির্মাণেরও নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র থাকে। রোম্যান্টিক আবহে সফরসঙ্গীত চিত্রায়ণের ক্ষেত্রে ট্রেন, বাস,বাইক,হুড খোলা জীপ প্রভৃতির সঙ্গে ঘোড়ার গাড়ী একটা অন্যতম বিশেষ জায়গা ক’রে নিয়েছে,কারণ ট্রেন ছাড়া এই একটিমাত্র যানেরই রয়েছে তার নিজস্ব ছন্দ,যার সঙ্গে প্রায় সবক্ষেত্রেই কম্পোজাররা গানের ছন্দ মিলিয়ে দিয়েছেন।অশ্বচলনকে  প্রায় মনোপলি ক’রে ফেলা ও.পি নাইয়ার এর ‘পিয়া পিয়া পিয়া মোরা জিয়া পুকারে’ (‘বাপ রে বাপ’) ‘মাঙ্গ কে সাথ তুমহারা'(নয়া দৌড়)  সলিল চৌধুরিরর গান ‘হাল্কে হাল্কে চল সাঁওরে’ (টাঙ্গেওয়ালী) হেমন্তবাবুর ‘এক পলকের একটু দেখা’ (লুকোচুরি) বা ওদিকে আরও আগে সেই ১৯৪০ এর ডাক্তার ছবিতে নারকেলের মালা ঠুকে পঙ্কজ মল্লিকের মিউজিক’চলে পওয়ন কি চাল’; ঘোড়ার ক্ষুরের যে অনুরণন  বারবার সজ্জিত,সমৃদ্ধ  করেছে ইন্ডাস্ট্রির দারুণ হিট,স্মরণীয়  এই গানগুলিকে, তার প্রত্যেকটির ক্ষেত্রেই ক্ষুরের নাল আর রাস্তার সংযোগ বোঝাতে ধাতব ‘টকাটক’ ‘টক  টক’ শব্দের নির্মাণ বিশেষভাবে স্পষ্ট হয়েছে।এবং এতজন দিকপাল সঙ্গীতস্রষ্টা, প্রত্যেকেই এই একই পথে হেঁটেছেন। আর এইখানেই আর ডি হয়ে গেলেন এক্কেবারে স্বতন্ত্র‍্য। একই পথ তিনিও পাড়ি দিলেন ; ভিন্নভাবে। ঘন্টা আর ঝুমঝুমির মিলিত ব্যাবহারে ছন্দময় তুরগ-চলা দারুণভাবে ধরা পড়ল গানে কিন্তু ‘টকাটক’ থেকে ‘ঝুমঝুম’ এ বদলে গিয়ে এক নতুন আস্বাদ দিল শ্রোতার শ্রবণকে।  

আবার এই ‘ঝুমঝুম’ আর ‘টকাটক’ পাশাপাশি বসিয়ে কি অপরূপ প্রিলিউড তৈরি করলেন এক দশক পরের বাংলা বেসিক ‘বৌ কথা কও’ গানে।গাওয়ালেন যা আশা ভোঁসলেকে দিয়ে। ওই সিরিজেরই গান  ‘কি যাদু তোমার চোখে’,  ইয়ে নয়না ইয়াদ হ্যায় পিয়া কি ভুল গ্যায়ে’

জীবনের প্রথম পর্বের কাজ,’ও হাসিনা জুলফোঁওয়ালি’র রেকর্ডিং এ শাম্মী কপুর যখন ‘ট্রেন্ডসেটিং সং, ট্রেন্ডসেটিং’ ব’লে উচ্ছ্বসিত ,তাঁর বিশেষ কিছুই এসে যায় নি। সেট করা ট্রেন্ড হেলায় ফেলে চলে আজীবন গেছেন নতুন নিরীক্ষায়।কপিবুক বা নির্দিষ্ট কোন কিছুর তোয়াক্কা না করাই রাজরক্তবাহী বর্মন কুমারের চরিত্রের এক দারুণ বৈশিষ্ট্য ছিল বলে ম’নে হয়,যার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে গুলজার বলছেন ‘উসকা অন্দর কা বচপনা, যো কভি নেহী গিয়া’।

সামনে চা দেওয়ামাত্রেই যেমন সেই চায়ে ঢেলে দিতেন জল, তারপর খেতেন;কিম্বা সিগারেট জ্বালিয়ে টেবলের ওপর সটান রেখে দিতেন,শেষ হলে আবার জ্বালতেন, সেই রাজকীয় খেয়ালেই মূহুর্তের দাবী মেনে কখনও বালতি ভর্তি জলে কোন একটা ইন্সট্রুমেন্ট ডুবিয়ে সেই জলশুদ্ধ ইন্সট্রুমেন্ট তুলতে তুলতে তাকে বাজিয়ে সাউন্ড এফেক্ট আনছেন, আবার কখনও  এন্টায়ার স্ক্রিপ্টটাকেই শুদ্ধু রিদ্ মে ফেলে এমন নাম্বার তৈরি করছেন ( মেরা নাম শবনম,প্যার সে লোগ মুঝে শব্বু ক্যাহতে হ্যায় -‘কাটি পতঙ্গ’)  যে গানের ফর্ম্যাট,সুর হুবহু কপি হয়ে দক্ষিণী ছবিতে বহুল ব্যাবহৃত হয়ে আবার হিন্দিতে ডাবড হচ্ছে এবং সে গানের অফারও আসছে আশা ভোঁশ্লের কাছেই। আবার ‘কিতাব’ ছবির ‘আ আ ই ই/মাষ্টারজী কি আ গ্যায়ী চিটঠি’ গানের রেকর্ডিং এ এলেন কেবল কিছু ডেস্ক,টেবল সামনে রেখে। ফলে সেই টেবল বাজানোটাই হয়ে উঠল,শুধু গানেরই নয়, দৃশ্যায়নেরও মূল।

বোধ হয় এতখানি মৌলিকত্ব ছিল ব’লেই আহরণটুকুর কথাও জনদরবারে স্বীকার করতে এতটুকু আটকায় নি । দূরদর্শনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অবলীলায় বলে যান তাঁর ট্রেড সিক্রেট। রওশন এর করা ‘মম্ তা’র ‘রহে না রহে হাম’ গানের মিটার অদলবদল করেই যে করেছিলেন ‘সাগর কিনারে’ (সাগর -১৯৮৫) বা তাঁর বাবার গুণগুণ করতে থাকা বহু পুরোনো ‘বেলা ব’য়ে যায়’ কেই যে একদম বসিয়ে দিয়েছিলেন ‘৭২ সালের ‘অমর প্রেম’ এর ‘রয়না বীতি যায়’ তে।বাবার ‘আমি ছিনু একা’ই ত ইজাজত ছবিতে হয়ে যায় ‘খালি হাথ শাম আয়ি হ্যায়’ – এ কথাও বলে দেন ঘরভর্তি রেকর্ডিস্ট,মিউজিশিয়ানদের আড্ডায়।শুধু এখানেই থামেন না, বলতেই থাকেন যে যাবতীয় মিউজিক ডিরেক্টরদের গান তিনি শুনতে থাকেন এবং সেসব গান  থেকে এমন তিনি করেই থাকেন।এরপর হাসতে হাসতে দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ‘এমন কোন গান আপনাদের কানে ধরা পড়ে গেলে সেটা আপনারা আমাকে অবশ্যই লিখে পাঠাবেন কিন্তু’। জিনিয়াস এভাবেই বোধ হয় তাঁর সব তাস উপুড় ক’রে দেন টেবলের ওপর। আসলে তিনি আর ডি। স্বর, সঙ্গীত,তাল,লয়,ছন্দ থেকে সুরযন্ত্র বা তালবাদ্যকে প্রতিক্ষণে নবজন্ম দেওয়া  তাঁর ধমনীগত।টনসিল অপারেশনের পর ভয়েস পাতলা হয়ে গেল ব’লে সেই ভয়েসকেই খানিক অন্যভাবে ব্যাবহার, এবং প্রাপ্তি ‘য়াম্মা য়াম্মা'( )  বা ‘মেহবুবা’ (শোলে ১৯৭৫)।ঠিক যেন হাঁফানির টান ব্যাবহার করে ছবি বিশ্বাসের সংলাপ বলার মতই। তাঁর বাতিল গানটাও শোনার পর দেব আনন্দ থমকে যান। রেকর্ডিং ইউনিটের সব্বাই তখন জেদ ধরেছে ছবিতে যদি নাও দেওয়া যায়,এ গান যেন ডিস্কে অবশ্যই থাকে। দেব কিছু বেশিই করলেন, কেবলমাত্র মুখড়া আর অন্তরা বিশিষ্ট গানটিকেই আবার পিকচারাইজ করলেন ‘হরে রাম হরে কৃষ্ণ’র টাইটল ট্র‍্যাক হিসেবে যে ট্র‍্যাক ২০১৩ এ ‘Heineken’   বিয়ারের বিজ্ঞাপনে ব্যাবহার করল নিউইয়র্কস্থিত কোম্পানিটি। অথবা ২০১৮র মার্চে  অ্যামেরিকায় লঞ্চ হওয়া  ‘X’ আই ফোনের কথা ত সব্বার আগে আসে এ প্রসঙ্গে। যারা তাদের ১ মিনিট ০৬ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের গোটা মিউজিকটাই  হুবহু নিলেন ‘দ্য বার্নিং ট্রেন’ থেকে। আসলে  ‘কালোত্তীর্ণ’ বা ‘দেশ মহাদেশের সীমানা পেরিয়ে’ জাতীয় শব্দাবলী নিয়ে আমজাদ খানের আদরের বন্ধু ‘ঘচু’ কখনই মাথা ঘামান নি এত্তটুকু।হ্যামলিনের বাঁশিওলার মতই তিনি জানতেনই যে এ শব্দগুলো তাঁর পিছে পিছে আসবেই।

চলে আসি আবারও তাঁর আর একটি উজ্জ্বলতম স্বাতন্ত্র‍্যের নিদর্শনে।বলিউডি গানে ফ্ল্যাশব্যাক একটি পরিচিত  trait ।

১৯৭৫ এ কল্যানজী আনন্দজীর ধর্মাত্মা ছবির ‘তুমনে কিসিসে কভী প্যার কিয়া হ্যায়’ গানে রেখার সঙ্গে গাইতে গাইতে ফিরোজ খান যতবারই হেমার স্মৃতিতে ফিরছেন ততবারই একই ধরণের ইন্টারলিউড মিউজিক, এবং শেষপর্বে এসে বাস্তব কল্পনা একাকার হয়ে যে মিউজিক দ্রুত বদলানো কাটে হেমা-রেখা-হেমা-রেখা-হেমা-রেখা হতে হতে প্রয়োজনীয় ইঙ্গিত দিয়ে শেষ হয়।

১৯৭৭ এ রাজেশ রওশন এর ‘দুসরা আদমী’ ছবির ‘চল কঁহী দূর নিকল যায়েঁ’ গানে একবারই  রাখী বাস্তব থেকে চলে যান  স্মৃতিতে। কণ্ঠ বদল, সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার মিউজিক এবং সর্বোপরি নিস্তব্ধতা – এই তিনটির প্রয়োগে সেই ফ্ল্যাশব্যাক আবার ফিরে আসে  বাস্তব গানে এবং এই স্মরণপর্বটি একেবারেই প্রক্ষিপ্ত হয়ে থাকে মূল গান থেকে।

১৯৭১ এ ‘দুর কা রাহী’র বেকারার দিল তু গায়ে যা’ গানে কিশোর কুমার তনুজার মৃত স্বামীর স্মৃতিচারণার অংশটুকু একেবারেই সমবেত কণ্ঠের ক্যারল জাতীয়  হামিং দিয়ে ভরে দিলেন এবং রিপিটেড ইন্টারলিউডের সুর ধরেই পরে ফিরিয়ে আনলেন বাস্তবের গানে।

এ তালিকা দীর্ঘ না করে চলে আসি ১৯৮৭র ‘ইজাজত’ এর সেই গানে।আশা গাইলেন ‘মেরা কুছ সামান’। প্রথম অন্তরায় গাছের শুকনো পাতার আবহে মেয়েটি আনমনা হয়, এবং বাস্তবে ফিরে আসে। দ্বিতীয় অন্তরায় অনেকটা পথ পেরিয়ে মেয়েটি আস্তে আস্তে ডুব দেয় অতীততলে। ঝাপসা সবুজ পেরিয়ে দূর পথে ধাবমান দুই প্রাণময় নরনারী।তীক্ষ্ণ তারযন্ত্রের ঝালা, সঙ্গে wind instrument এর অভিঘাত নিয়ে সঙ্গে চলা যে সুর তৈরি হয়,সরোদ জাইলোফোন হয়ে নাসিরুদ্দিনের পিঠে রঙের আঁকিবুঁকি পেরিয়ে ঘন বৃষ্টির ধারায় ভিজিয়ে  সে সুর তখন, কখনও ঐশ্বর্যসন্ধানী,কখনো নিবিড়, একান্ত এবং অবশেষে বাস্তবে ফেরা।পরের অন্তরায় সুরের চলন একই থাকে শুধু এবারে ওই তীক্ষ্ণতা আর নেই। সেতারে একলা এক এক ক’রে খেলে যাওয়া আঙুল আমাদের আবার নিয়ে গিয়ে ফেলে সেই অতীতে, খোলা কালো চুলের মেয়েটি যেখানে খুনসুটিতে মগ্ন প্রিয় পুরুষটির সঙ্গে। চেনা পথেই এগোয় সুর, কিন্তু এক পরত বেশী কোমল লাগে যেন।

এই একটা গান নিয়েই মানুষের কেটে যেতে পারে একটা জীবন।রাহুলের কাটত একটা মূহুর্তমাত্র।পরক্ষণেই তিনি আদ্যন্ত সাদামাটা ঘরোয়া মানুষটি, চান করতে করতে মুখ বাড়িয়ে গীতিকার প্রণব রায়ের পুত্র প্রদীপ্ত রায়কে বলেন, ‘এসেছিস? দেখ, ওখানে দই আর আদাবাটা রাখা আছে। পোনা মাছে মাখা ওগুলো। আমি বেরিয়ে রান্নাটা করছি। অমিত,ভূপেন দা,মনোহারি দা – এরা দই মাছ সবাইই ভালবাসে; এসে পড়ল বলে’।

ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে  গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ধারাবাহিক প্রযোজনা পর্বে ওঁকে পেয়েছিলেন ‘৯২ এর দিকে কিছুটা সময়।দীপন চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ীতে নিয়মিত আসতেন,থাকতেন স্বপন চক্রবর্তীও। বাড়ীতে মা অর্থাৎ মীরাদেবী তখন শয্যাশায়ী। পরপর ছবির একটাও লাগে নি। চুপ করে বসে থাকতেন।গৌতম দা’র পরিচয় পেয়ে বলেছিলেন, ‘আগে আস নি কেন?’

‘তোমার সিরিয়ালের মিউজিক কেন যাকে তাকে দিয়ে করাও?’

অর্থ কম শুনে বলেছিলেন, ‘আমার কাছে এস, মিউজিক দিয়ে দেব।যা পারবে দিও’। কিন্তু সে সুযোগ আসার আগেই…..

আসলে এ দিনও তাঁর দেখাই ছিল।  ‘কারভাঁ’ ছবির গানে তাঁর লিরিক তাই বলে,

”হো সকতা হ্যায় দেখ না,

সমঝো মিট্টিকো সোনা

পল ভরকা হাসনা হো জায়ে জীবন ভর কা রোনা”।

এমন সোনার মানুষের দাম আর দেয় নি ইন্ডাস্ট্রি  সেদিন। বিগতদিনের হাসিমুখেরা ছেড়ে গেছেন সবাইই।কিন্তু আর ডি থেকে গেছেন শাশ্বতকালের হাস্যোজ্জ্বল। কারণ ভানহীন,আড়ম্বরহীন সাদামাটা মাটির  মানুষটি  অমরত্বের স্বর্ণমুকুট পরিয়ে গেছেন তাঁর সৃষ্টিকে আর নিজে থেকে গেছেন মাটির মতই নিখাদ,নিঃসীম,নিবিড় হৃদয়জয়ী হয়ে…

Leave a Reply