— শ্রী পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়
আহা! কী দারুণ স্নিগ্ধ সকাল, অমলিন ছেলেবেলা
ছাতিমের গাছে বন্য চড়ুই, কাঠবেড়ালীর খেলা
মনে পড়ে; যেন ছবির ঝিলিকে বিস্মিত চোখ দুটি
কুয়াশার শীতে ফলসার ঝোপে ফড়িংয়ের ছুটোছুটি।
প্রজাপতি কাঁটাগুল্মের বনে, জোনাকিরা ঘাসে ঘাসে
উড়ে যে বেড়াত সারা দিন-রাত অপলক উচ্ছ্বাসে।
আজও বিস্ময়, সেই ছেলেবেলা, মুগ্ধতা অবিরল
বুনো শসা, ডাঁটো আমের কুশি ও দু-চারটে পানিফল
এই ছিল পাওয়া পলাতক ছুটি চেনা দুপুরের থেকে,
মাটির গেলাসে খেজুরের রস ছেলে-বুড়ো প্রত্যেকে
খেতাম দু’বেলা; নারকেলি কুল, দুটো কচি তালশাঁস
চাইলে তখন ঠিকই পাওয়া যেত, খুশি ছিল একরাশ।
ছোট ছোট নুড়ি, বালি দিয়ে গড়া পুতুলের খেলাঘর
বারান্দা জুড়ে ঝুলনের খেলা খেলেছি নিরন্তর।
খাতা ছিঁড়ে শুধু নৌকা ভাসানো ছিল বর্ষার দিনে
রঙিন খেলনা হাওয়াকল নিয়ে, মার্বেল গুলি কিনে
বাড়ি ফিরতাম, লম্বা লেজের ঘুড়িখানা যেত দেখা,
হাতের তালুতে লাটিম-পৃথিবী ঘুরে যেত একা একা।
পৌষের মেলা, পিঠে-পুলি আর স্নেহে অফুরান হাসি
সঙ্গী ছিল যে মাটির বেহালা, তালপাতা দিয়ে বাঁশি।
দোলের আবীরে ছিল রাসমেলা, রথের রশিতে টান,
গাজনের দিনে বহুরূপী নাচ, উদাসী বাউলগান
মনে পড়ে যায়, শিশুকালে পাওয়া রবীন্দ্র-নজরুল
আজও প্রাঞ্জল ভোরের শিশিরে শিউলি ও জুঁইফুল!
(লেখক পরিচিতি – মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক। জাতীয়তাবাদী কবি ও প্রাবন্ধিক। প্রকাশিত গ্রন্থ : রাত বারোটার সূর্য (কাব্যগ্রন্থ), প্রকাশ্য আড়াল ( কবিতা বিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ ), লিমেরিক ৫০ (ননসেন্স ভার্স), এবং ‘বাঙালি হিন্দুর ধূসর ভবিষ্যৎ’ (নিবন্ধগ্রন্থ)।)


