তর্পণে প্রণত মসীশাশ্বত সনাতনস্বভূমি ও সমকাল

গৌড়েশ্বর মহীপাল –

|| পালবংশীয় বাঙ্গালী সম্রাট যিনি গজনভিদের আক্রমণ প্রতিহত করে বারাণসীধাম রক্ষা করেছিলেন ||

গৌড়েশ্বর সম্রাট মহীপাল ছিলেন পাল সাম্রাজ্যের একাদশতম সম্রাট ও পালাধিপতি দ্বিতীয় বিগ্রহপালের পুত্র। তিনি আনুমানিক ৯৮০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১০৩৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন । তাঁর রাজত্বকালে তিনি পিতার হৃতরাজ্য পুনর্বিজয় করে খণ্ডবিখণ্ড পালসাম্রাজ্যকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করে সাম্রাজ্যের বৃহদাংশ উদ্ধার করেছিলেন। বাণগড় তাম্রশাসনে উল্লিখিত রয়েছে –

“হত সকল বিপক্ষঃ সঙ্গরে বাহুদর্পা —
দনধিকৃত বিলুপ্তং রাজ্য মাসাদ্য পিত্র্যং ।
নিহিত চরণ-পদ্মোভূভৃতাং মুর্দ্ধিতস্মা –
দভবদবনিপালঃ শ্রীমহীপাল দেবঃ ।।”

বাঙ্গালার একাধিক লোকশ্রুতিতে সম্রাট মহীপালের কীর্তি গৌরবান্বিত হয়ে আছে। একজন প্রবলপ্রতাপী সনাতনী সামরিক প্রশাসক হিসেবে তাঁর সর্বাধিক গৌরবময় কৃতিত্ব হলো কুখ্যাত গজনভি আক্রমনকারী মাহমুদ গজনভি ও মাসুদ গজনভিকে পরপর দুবার পরাজিত করা এবং পবিত্র তীর্থক্ষেত্র বারাণসীধাম ও এই পুণ্যক্ষেত্রের অসংখ্য মন্দির ধ্বংস হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা । তদুপরি তিনি তৎকালীন চোল আক্রমণকারী রাজেন্দ্র চোলকে পরাজিত করে বাঙ্গালাকে রক্ষা এবং দক্ষিণ ভারতে সৈন্য অভিযান চালিয়ে মলয় পর্বত পর্যন্ত অঞ্চল পাল সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য প্রণম্য ।

(গৌড়েশ্বর মহীপালের নামাঙ্কিত মুদ্রা)

দশম শতকের প্রথমার্ধ ভারতীয় ইতিহাসে মাহমুদ গজনভির ১৭ বার ভারত আক্রমণ এবং অগণিত মন্দির ধ্বংসের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছে। এই অভিযানগুলি ভারতীয় অর্থনীতিতে যেমন ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে, তেমনই লুঠ হয়েছে একাধিক মন্দিরের বহুমূল্যবান সম্পদ । কিন্তু প্রায় সমগ্র উত্তর ভারতে একতরফা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েও মাহমুদ কখনই বারাণসী মন্দির ধ্বংস করতে সক্ষম হয়নি, কারণ শক্তিশালী পালবংশীয় সম্রাট মহীপাল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মাহমুদকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে দৃঢ়তার সাথে রক্ষা করেছিলেন এই পবিত্র মন্দির-নগরী।

● প্রথম পাল-গজনভি যুদ্ধ (১০১৮-১০১৯ খ্রি.) :-

১০১৩ খ্রিস্টাব্দে, মাহমুদ তৎকালীন আফগানিস্তানে রাজা আনন্দপালের হিন্দু শাহী রাজ্য আক্রমণ করে এবং পেশোয়ারের কাছে হিন্দ শাহী রাজধানী ওয়াহিন্দের যুদ্ধে তাকে পরাজিত করেন। তারপর ১০১৪ খ্রিস্টাব্দে মাহমুদ থানেশ্বর দখল করেন এবং ১০১৫ খ্রিস্টাব্দে কাশ্মীর আক্রমণ করে।

১০১৮ সালে মাহমুদ মথুরা আক্রমণ করেন এবং শাসকদের জোটকে পরাজিত করেন। সুলতান মাহমুদের নির্দেশে নিতান্ত মূর্তিপূজক বিদ্বেষী গজনভি বাহিনী মথুরা ও কনৌজের বিশাল কৃষ্ণ মন্দির সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। অতঃপর কনৌজ দখলের পর মাহমুদ এবার শৈব তীর্থক্ষেত্র বারাণসী আক্রমনের উদ্দেশ্যে এগোতে থাকে । এই সময় সম্রাট মহীপাল বারাণসী ধামের পবিত্রতা রক্ষার জন্য বিশাল গৌড়ীয় বাহিনী নিয়ে কাশীর দিকে যাত্রা করেন। গৌড়েশ্বর মহীপাল এক বিধ্বংসী যুদ্ধে মাহমুদ গজনভিকে পরাজিত করেন। ফলস্বরূপ, গজনভির অত্যাচার কনৌজে সীমাবদ্ধ ছিল এবং বারাণসীধাম তার ধ্বংসলীলা থেকে রক্ষা পায়।

● সারনাথ শিলালিপি : শতসংখ্যক ঈশান-চিত্রঘন্টা মন্দির নির্মাণ –

আর্যাবর্ত থেকে গজনভিদের বিতাড়িত করার পর, গৌড়েশ্বর মহীপাল বারাণসী ধামে ১০০র অধিক শিবশক্তিরূপেণ ‘ঈশান-চিত্রঘন্টা’ মন্দির নির্মাণ করে সনাতন ধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। ১০৮৩ বিক্রম সম্বৎ-এ (১০২৬ খ্রি) উৎকীর্ণ তাঁর সারনাথ শিলালিপি অনুসারে,
গৌড়াধিপ সম্রাট মহীপাল বারাণসী ধামে ঈশান-চিত্রঘন্টার (শিব-শক্তির অভিন্ন রূপ) শতাধিক মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

“বারাণসীসরস্যাং গুরব শ্রীবামরাশিপাদাব্জং ।
আরাধ্য নমিতভূপতি-শিরোরুহৈঃ শৈবলাধীশং ।।
ঈশানচিত্রঘণ্টাদিকীর্তিরত্নশতানি যৌ ।
গৌড়াধিপো মহীপালঃ কাশ্যাং শ্রীমানকারয়েৎ ।।”

সম্রাট মহীপালের সারনাথ শিলালিপিতে আধুনিক বঙ্গলিপির বিকাশের আদিরূপ লক্ষ্য করেছেন রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় । তাঁর ‘The Origin of Bengali Script’ গ্রন্থে তিনি সম্রাট মহীপালের সারনাথ শিলালিপিতে ‘অ, শ, হ, ল, ণ, ন’ প্রভৃতি অক্ষরকে সম্পুর্ন বিকশিত বঙ্গীয়রূপ বলে উল্লিখিত করেছেন ।

(সম্রাট মহীপালের সারনাথ শিলালিপি)

● পাল- চোল যুদ্ধ (১০১৯ খ্রি.) :-

এমন কঠিন সময়ে যখন মহারাজা মহীপাল শৈবতীর্থক্ষেত্র বারাণসী রক্ষা করতে গজনভিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যস্ত, সেই সুযোগে চোল বংশের প্রথম রাজেন্দ্র চোল বাঙ্গালার দিকে আক্রমণ শুরু করেন। ১০১৯ খ্রিস্টাব্দে, চোল বাহিনী কলিঙ্গ জয় করে গঙ্গা নদীর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো তৎকালীন ভারতে চোলরাও এক গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু শক্তি ছিল, কিন্তু হিন্দুজাতির সেই কঠিন মুহূর্তে গজনভি আক্রমণকারীদের প্রতিহত করার পরিবর্তে, চোলরা গজনভি আক্রমনের সুযোগ নিয়ে পূর্ব ভারতের হিন্দু রাজ্যগুলিকে আক্রমণ করে । চোল আক্রমণকারীরা দক্ষিণবঙ্গে জটার দেউল মন্দিরে ব্যাপক লুঠপাট চালায় ও মন্দির থেকে বিখ্যাত নটেশ্বর না নর্তেশ্বর শিবমূর্তিটি চুরি করে নেয় ।

এইরকম পরিস্থিতিতে পূর্ববঙ্গের চন্দ্রবংশীয় বঙ্গাধিপতি রাজা গোবিন্দচন্দ্র মেঘনা নদীতে সফলভাবে চোল আক্রমন প্রতিহত করেন । রাজা গোবিন্দচন্দ্রের সুশৃঙ্খল চন্দ্রবাহিনী বঙ্গাল-ডিঙ্গি নৌসেনা চোল যুদ্ধজাহাজগুলোকে সর্বোত্তমভাবে ধ্বংস করে । বস্তুত চন্দ্রবাহিনীর ডিঙ্গি নৌকাগুলি চোল যুদ্ধজাহাজগুলিকে কৌশলপূর্ণভাবে বেষ্টন করে দূর থেকে জ্বলন্ত বারুদ-বলয় নিক্ষেপ করতে থাকে, যার প্রতি আক্রমণে একাধিক চোল যুদ্ধজাহাজের মেঘনা নদীর জলে সলিলসমাধি ঘটে । চন্দ্রবাহিনীর আক্রমণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধজাহাজ খুইয়ে ভীত রাজেন্দ্র চোল দক্ষিণবঙ্গ থেকে পলায়ন করে তক্কনলাঢ়মে আশ্রয় নেয়, যাকে তিরুমালাই লিপিতে যাকে ‘தக்கனாலதம்’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে । ঐতিহাসিকদের মতে এই তক্কনলাঢ়ম হলো উড়িষ্যা সংলগ্ন বাঙ্গালার দক্ষিণরাঢ় অঞ্চল (তক্কন- দক্ষিণ, লাঢ়- রাঢ়) ।

চোল আক্রমনের শুরুর দিকে গৌড়েশ্বর মহীপাল উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে সুলতান মাহমুদ গজনভির সাথে যুদ্ধে ব্যস্ত ছিলেন । অতঃপর মাহমুদ মহীপালের কাছে পরাজিত হয় ও বারাণসী জয়ের আশা ত্যাগ করে গজনী ফিরে যায় । এদিকে রাঢ়ক্ষেত্রে চোলদের আক্রমণের খবর শুনে মহারাজ মহীপাল দ্রুত গৌড়ে ফিরে আসেন এবং গঙ্গার তীরে চোলদের পুনরায় আক্রমন করেন । গৌড়েশ্বর মহীপালের শক্তি এবং পরাক্রম বিষয়ে রাজেন্দ্র চোল পূর্বেই অবগত ছিলেন, সম্রাটের রাজধানীতে অনুপস্থিতির সুযোগেই সে বাঙ্গালা আক্রমন করার সাহস করে । আকস্মিকভাবে মহারাজ মহীপালের সৈন্যসহ প্রত্যাবর্তন ও আক্রমনের খবর শুনে হতোদ্যম চোল রাজা গঙ্গা পার হওয়ার সাহস করতে পারেননি এবং তৎক্ষণাৎ তক্কানালাঢ়ম থেকে পলায়ন করেন।

● দক্ষিণ ভারত অভিযান ও মলয় পর্বত বিজয় :

দক্ষিণ ভারত অভিযান করে নিজরাজ্যে চোল আক্রমনের প্রতিশোধ সম্রাট মহীপাল সফলভাবেই নিয়েছিলেন । রাজেন্দ্র চোলের পলায়নের সাথেই সম্রাট মহীপাল বিশাল গজেন্দ্র-হস্তীবাহিনী নিয়ে চোল অধিকৃত দক্ষিণ ভারতে প্রবেশপূর্বক সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন ও দক্ষিণে মলয় পর্বত পর্যন্ত অঞ্চল জয় করে গৌড় সাম্রাজ্যের বিজয়ধ্বজ স্থাপন করেন । সম্রাট মহীপালের শাসনকালে প্রদত্ত বাণগড় তাম্রশাসনের একাদশ স্তবকে উল্লিখিত রুয়েছে –

ওঁ স্বস্তি
দেশে প্রাচি প্রচুরপয়সি স্বচ্ছ মাপীয় তোয়ং
স্বৈরং ভ্রান্তা তদনু মলয়োপত্যকাচন্দনেষু।
কৃত্বা সান্দ্রৈস্তরুষু জড়তাং শ্রীকরৈরভ্রতুল্যাঃ
প্রালেয়াদ্রেঃ কটকমভজন্ যস্য সেনা-গজেন্দ্রাঃ।

অর্থাৎ, গৌড়েশ্বর মহীপালের গজেন্দ্র-সেনাসকল মলয় পর্বতের উপত্যকাভূমির চন্দন-তরুতলে মৃদুমন্দগতিতে ভ্রমণ করে ও ঘনীভূত শীকর সমূহ দ্বারা বৃক্ষসমূহের জড়ত্ব বিধান করে, সম্রাট মহীপাল হস্তীবাহিনী সেনাগনের সাহায্যে পূর্বদিকের সমুদ্রপর্যন্ত ভূমি (চট্টগ্রাম), উত্তরে হিমালয় পর্বতের কটক প্রদেশ পর্যন্ত ক্ষেত্র ও দক্ষিণে মলয় পর্বত পর্যন্ত বিস্তীর্ণ ভূভাগ অধিকার করে প্রভুত্ব স্থাপন করে ।

(মহীপাল দীঘি, কুশমুণ্ডী, দক্ষিণ দিনাজপুর)

 

● দ্বিতীয় পাল-গজনভি যুদ্ধ (১০৩৩ খ্রি:) :-

ফার্সি ইতিহাস নথি “তারিখ-ই-বাইহাকি” (تاریخ بیهقی) অনুসারে গজনীর সুলতান মাহমুদের পুত্র মাসুদ গজনভি এবং লাহোরের নবাব আহমেদ নিয়ালতিগিন ১০৩৩ খ্রিস্টাব্দে পুনরায় কাশীধাম আক্রমণ ও লুঠপাট করেন। আকস্মিকভাবেই সকালে গজনভি বাহিনী কাশীতে প্রবেশ করে এবং দুপুরের দ্বিতীয় নামাজের পর বাজারে ব্যাপক লুটপাট শুরু করে। অতঃপর অপরাহ্নকালে সম্রাট মহীপালের পুত্র যুবরাজ গোপালদেবের নেতৃত্বে পরাক্রমশালী গৌড়ীয় বাহিনী কাশীধামে প্রবেশ করে এবং গজনভিদের সাথে গৌড়ীয় সেনার ব্যাপক যুদ্ধ শুরু হয় । ব্রিটিশ ঐতিহাসিক হেনরি এলিয়ট এই যুদ্ধকালীন উল্লেখযোগ্য বর্ণনা দিয়েছেন,

“To resume: Rai Mahipál was alarmed at this accession to the forces of his enemy. Four days after the two armies joined in battle. Mas’ud was engaged in conversation with Sharfu-l Mulk, when Gopál, son of Mahipál, charged him, and, aiming with his mace at his head, wounded him on the nose, and struck ont two of his teeth.”

অর্থাৎ মাসুদ সেসময় সরফ-উল মুলকের সাথে কথাবার্তায় লিপ্ত ছিলেন যখন মহীপালের পুত্র গোপাল তাকে আক্রমন করে, তার মাথায় গদা দিয়ে আঘাত করে, তার নাসিকা আহত করে এবং তার দুটি দাঁত বের করে দেয়। বস্তুত সূর্যাস্তের সাথেই গৌড়ীয় সেনা কাশীতে গজনভিদের সমাধি বানিয়ে দেয় এবং তাদের প্রচণ্ড আক্রমণে অবশিষ্ট গজনভি লুটেরাবাহিনী কাশী থেকে পালাতে বাধ্য হয়।

বারাণসীধামকে গজনভিদের আক্রমন থেকে দুবার রক্ষা করার জন্য, গৌড়েশ্বর মহীপালকে সমগ্র ভারতবর্ষে সম্মানের সাথে সংবর্ধিত করা হয়েছিল। আর্যক্ষেমেশ্বর রচিত “চণ্ডকৌশিক” নাটকে গৌড়াধিপ মহীপালকে “চন্দ্রগুপ্ত-স্বরূপ” হিসাবে বন্দনা করা হয়েছে । বাংলার লোকায়ত ক্ষেত্রে “মহীপালের গীত” সম্রাট মহীপালকে স্মরণীয় করে রেখেছে। তাঁর নামাঙ্কিত বাঙ্গালার বিভিন্ন নগর, যেমন- রংপুরের মাহীগঞ্জ, বগুড়ার মহীপুর, দিনাজপুরের মাহীসন্তোষ, মুর্শিদাবাদের মহীপাল এবং দীঘি – দিনাজপুরের মহীপালদীঘি, মুর্শিদাবাদের সাগরদীঘি আজও তাঁর গৌরবের স্মৃতি বহন করছে।

● তথ্যসূত্র :

1) Muhammadan Historians of India Vol ll, Henry Miers Elliot, pp- 531-532

2) Tarikh-i-Bayhaqi, Abul-Fazl Bayhaqi.

3) বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস, প্রাচ্যবিদ্যামহার্ণব নগেন্দ্রনাথ বসু, পৃ: ১৬০- ১৬১ ।

4) গৌড়ের ইতিহাস – রজনীকান্ত চক্রবর্ত্তী, পৃ: ৮১-৮২

5) Dr. E Hultzsch’s South Indian Inscriptions. Vol. I. p. 99.

 

লেখায় : শ্রী স্নেহাংশু মজুমদার
চিত্রাঙ্কন : শ্রী অরিজিৎ ঘোষ

(লেখক – শ্রী স্নেহাংশু মজুমদার উদ্ভিদবিজ্ঞান স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষ। বঙ্গীয় সনাতনী ইতিহাস সন্ধানী ও প্রচারক।
সদস্য :- গৌড়ীয় ওয়ারিয়র্স)……

Leave a Reply