আঙিনাতর্পণে প্রণত মসীসংস্কৃতি

জীবনারণ্যের দিনরাত্রি

আমরা, অর্থাৎ ৮০র দশকের শৈশব পেরোনো বাচ্চারা দূরদর্শনের শনিবারের বিকেলে বাংলা ছবির কল্যাণে, জয়শলমীরের মরু প্রান্তর কি বেনারসে ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ানো গোয়েন্দা বা ‘জীবনে কি পাব না’র টুইস্ট নাচিয়ে, সর্বোপরি ‘এক চড়েতে ঠাণ্ডা’ হ’য়ে যেতে পারা ধেড়ে খোকাদের পাণ্ডার সঙ্গে পরিচিত হতে শুরু করেছিলাম মা কাকিমা, পিশিমণির আঁচল ধ’রেই।কিন্তু,অন্যদের সঙ্গে আমার তফাত যেটা ছিল তা হল,এই দৃশ্যগুলো সাদাকালো শাটার টানা টিভিতে ফুটে উঠতে থাকলেই অডিওটা বদলে যেত।যৌথ পরিবারে বাবা কাকা কখনও দাদুর আলোচনায় নেমে আসত এক অন্য সময়। চল্লিশ দশকের শেষার্ধ।হাওড়া জেলা স্কুলে একই ক্লাসে পড়া দুই দুরন্ত কিশোরের অফুরান বন্ধুত্বের স্মৃতিচারণ যেন ধারাবিবরণীর মত চলতে থাকত ছবির সংলাপ ভলিউমকে শূন্য ক’রে দিয়ে। (ইনসেটে চিত্র – ছায়াছবি – “অতল জলের আহ্বান”)

টিভিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ছবি মানেই আসবে হাওড়ার সল্ট গোলায় তাঁদের বাড়ির কথা। নির্জন হাওড়া রোডের সে কোয়ার্টার্স এর ধার দিয়ে কিভাবে সিঁড়িটা উঠে গিয়েছিল, এবং রাস্তার বাইরে থেকেই দেখা যেত – এ আমার মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল শুনে শুনে।মির্জাপুর স্ট্রিট থেকে বাবার প্রোমোশন হয়ে সে বাড়িতে এসেছিলেন ওঁরা। বাবা কাকারা বলত, স্কুল ফেরত, কতদিন নিজের বাড়ি না গিয়ে বন্ধুর বাড়ীতে চ’লে আসা; সেখানে মাদুরে শুয়ে এক থালা থেকে তার সঙ্গে রুটি বেগুনভাজা খাওয়া, তারপর উঠে ব’সেই বন্ধুর সব ভায়েদের জড় ক’রে ক্যারম খেলা। এই এত্ত গল্প শুনতে শুনতে শুনতে,আর নিত্যনতুন চমৎকৃত করা ফেলুদা কাহিনীর প্রচ্ছদে তাঁর ছবি দেখতে দেখতে কেবল ম’নে হত যাঁকে নিয়ে এত গল্প, তা ঘোড়ার মুখ থেকে অর্থাৎ পুলুর ক্লাসমেট আমার জেঠুর,কাছ থেকেই শুনি না কেন। অধ্যাপনাসূত্রে দুরে থাকা জেঠু এই সিনেমাকালীন গল্পে কোনোদিনও হাজির থাকতেন না যদিও,কিন্তু ঘনঘন আনাগোনাতেও এ প্রসঙ্গ কখনও তাঁর সামনে উত্থাপিত হতে দেখি নি। অকালপক্ব আমি একদিন জিজ্ঞেস করেই ফেলেছিলাম।সদাশয় জেঠু সেদিন এমন এক অদ্ভুত চোখে তাকিয়েছিলেন যে,তাতে ও প্রসঙ্গ আমার নিজের কলেজে ওঠা অব্দি আর তোলা সহজ মনে করি নি।

হাওড়ার প্রখ্যাত ডাক্তার ও হিন্দুমহাসভার নেতা ডঃ অমূল্যরতন ঘোষ ১৯৪৬ এ প্রয়াত হবার পরে ক্রমশ কমছিল তাঁর পারিবারিক গৌরব। একমাত্র ডাক্তারিতে তাঁর উত্তরাধিকার বজায় রেখে চলেছিলেন তাঁর জামাতা ডঃ মধুসূদন ঘোষ।তাঁরই বড় ছেলে গোপাল আর সল্টগোলার পদস্থ অফিসার মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের মেজ ছেলে সৌমিত্র ছিল হাওড়া জেলা স্কুলের দুই অভিন্নহৃদয় বন্ধু।নীচু ক্লাস থেকে শুরু করে এই বন্ধুত্ব ক্লাস নাইনে এমন একখানা নাটক উপহার দিয়েছিল স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে, মাষ্টারমশাইরা মুগ্ধ হয়েছিলেন।N.C.C নিয়ে দিনরাত মেতে থাকা গোপালকে দিয়ে সৌমিত্র এমন অভিনয় করালো তবে!!!N.C.C তখন সবে শুরু হচ্ছে স্কুলে।লোকের মনে কোন ধারণাই ছিল না এ নিয়ে। ভিক্টোরিয়ার পেছনের মাঠ থেকে সেরিমোনিয়াল প্যারেড ক’রে ট্রামে ক’রে ফেরা দুই কিশোরকে দেখে প্রায়শই লোকজন একটু অবাক হয়ে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, ‘দেখ, ছোট ছোট ছেলে কেমন মিলিটারিদের মত পোষাক পরা।’ দুই কিশোর তখন তাদের বুঝিয়ে বলত ব্যাপারখানা কি।

এমনই ছিল উদয়ণ পণ্ডিতের স্কুলবেলা।

বন্ধুর টানে তার বাড়ী আসত বটে, কিন্তু বন্ধুপিতার সঙ্গেও তার আড্ডা জমতে দেরী হত না। বাবা কাকার মুখেই শোনা, “বাবার ডিস্পেন্সারিতে ব’সে দীর্ঘক্ষণ গল্প করত সৌমিত্র দা।” পেশায় ডাক্তার মধুসূদনের হিন্দু শাস্ত্র, গ্রীক মাইথোলজি থেকে শুরু ক’রে অর্থনীতি, ইতিহাস প্রভৃতি বিষয়ে ছিল সুগভীর জ্ঞান। পুত্রসম পুলুর সঙ্গে কথা বলতে ক্লান্ত হতেন না কখনোই। তাঁর নিজের ছেলেরা বাবার সঙ্গে ‘আপনি আজ্ঞে’র দুরত্বে থেকে গেলেও সৌমিত্রকে তাঁর ডাক্তার মেশোমশাই তাঁর ডিস্পেন্সরিতে ঝোলানো ছবি থেকে শুরু ক’রে দুষ্প্রাপ্য বই ডেকে উপহার দিতে বেশ ভালবাসতেন।

এই মেশোমশাইয়েরই এজেন্ট হয়েছিলেন সৌমিত্র ১৯৫২র ইলেকশনে। হাওড়া গোলমোহর এলাকায় আন্তর্জাতিক স্তরের জর্দা ব্যাবসায়ী ফারুক মিয়ার কারখানার একাংশে হয়েছিল বুথ।সে সময় নিয়ম ছিল ফলস ভোটার ব’লে এজেন্ট কাউকে চ্যালেঞ্জ করলে,তাকে দশটাকা জমা রাখতে হত।ভোটার ফলস প্রমাণিত না হলে সে সেটাকা সরকারের পকেটে যেত,আর প্রমাণ হলে এজেন্টের কাছে আসত। সৌমিত্র খোলামকুচি ভরা একটা পুঁটলি নিয়ে বসেছিলেন,অর্থাৎ যা দেখে ভোটারের মনে হতে পারে যে- ফলস ভোটার ধ’রে এত পয়সা জমেছে,সূতরাং সে আর আসবেই না ভোট দিতে। এই উপায় সেবারে খুব কাজে লেগেছিল।

কোনো কোনো দিন পুলু বসত গোপালের ভাইদের কাছে জমাট ভূতের গল্প নিয়ে। সল্টগোলায় যে কোয়ার্টার্স এ ওঁরা থাকতেন,সেখানে আগে ছিল একটি ইংরেজ পরিবার। পুলুরা বহুদিন রাতে জলের আওয়াজ পেয়ে উঠে দেখতেন বেসিনে হাত ধুচ্ছেন এক ব্রিটিশ মহিলা।

শ্যামাপ্রসাদের দাদা রমাপ্রসাদ ছিলেন সৌমিত্রের পিশেমশাই।সেই সূত্রে শ্যামাপ্রসাদের বাড়ীর অনুষ্ঠানেও বন্ধুকে টেনে নিয়ে যেত পুলু। সেখানেই এক বিরল ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল সবাই,কিন্তু সে কাহিনীর পরিসর এটা নয়।

সময় এভাবে গড়াতে গড়াতে কিশোরেরা যৌবনের দ্বারে এল। বাবা মা’র সঙ্গে সৌমিত্ররা সব ভাইবোনেরাই বেশ বন্ধুভাবাপন্ন ছিলেন।তখন টেলিফোনে ‘নম্বর প্লিজ’ এর যুগ। সৌমিত্র নিয়মিত দীর্ঘসময় ব্যারাকপুরে ফোন করতেন জানতে পেরে বাবা মোহিত চট্টোপাধ্যায় একদিন চায়ের টেবিলে হাসতে হাসতে ছেলেকে বললেন, ‘পুলু, আমার উর্ধ্বতন কর্তারা যদি ‘ব্যারাকপুরে’ এত ফোনের কারণ জিজ্ঞেস করেন, তবে কি তাঁদের বলব ‘ব্যারাকপুরের গঙ্গা থেকে খুব নুন উঠছে।তাই এত ফোন?’

লজ্জিত,বিড়ম্বিত পুলু এরপর ব্যারাকপুরের যাবতীয় ফোন সারতেন বন্ধুর বাড়ী থেকেই।

বিড়ম্বিত,লজ্জিত সৌমিত্র একবার চূড়ান্ত হয়েছিলেন।

সাল ১৯৬৯। তিনটে ছবিকে টপকে ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ রিলিজ করা হল,সংরক্ষণ সমিতি প্রতিবাদে মুখর হল,যে সংরক্ষণ সমিতিতে ছিলেন প্রোডিউসার, হল মালিক উত্তম কুমার এবং ইণ্ডাষ্ট্রির প্রায় সব নায়িকারাই। ফলে মূল ক্ল্যাশটা হল উত্তম বনাম সত্যজিৎ এবং তারই ফলশ্রুতিতে সৌমিত্রের সঙ্গে দুরত্ব।এ ঘটনার কিছুদিন পর,একটা অনুষ্ঠানে পাশাপাশি রয়েছেন ভানু আর উত্তম। কমিউনিস্ট দর্শন অনুসারী সৌমিত্র প্রণাম করায় তেমন বিশ্বাসী ছিলেন না।কিন্তু,সেদিন ভানুবাবুকে প্রণাম করলেন; আর পাশেই উত্তম কুমারকে দেখে ঠিক কি করবেন বুঝে উঠতে না পেরে খানিকটা হাত তুলে নমষ্কারের ভঙ্গি করবেন কি করবেন না এমন অবস্থা। ভানুপুত্র গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে শোনা, অসম্ভব আবেগপ্রবণ উত্তমের মুখটা লাল হয়ে উঠল।ভ্রাতৃপ্রতিম পুলু তাঁকে সম্মান জানাতে দ্বিধা করছে!!.. থাকতে না পেরে বলেই ফেললেন, ‘মুখে দাদা বলিস,আর প্রণাম করলে বেশি হয়ে যাবে কি না ভাবছিস?’.. এই একটি কথাই যথেষ্ট ছিল। উত্তমের পা ছুঁতে আর দেরী হয় নি, আর উত্তমও আবার বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন অনুজ অভিনেতাকে।

এ প্রসঙ্গেই পলাশ ব্যানার্জির (তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রাতুষ্পুত্র এবং তপন সিনহার সহকারী) কাছে শোনা ঘটনার উল্লেখ করতেই হচ্ছে।স্বাধীন পরিচালক হিসেবে পলাশ বাবু ‘বিজয়িনী’ ছবি করবেন ঠিক হয়েছে।সুচিত্রা সেন নির্বাসন ভেঙে ফিরবেন সে ছবিতে। মূল ভূমিকায় উত্তমকুমার। প্রায় সবকিছু ঠিক হ’য়ে শুটিং শুরু হয় হয়,এ অবস্থায় উত্তম চ’লে গেলেন।ফলে সুচিত্রাও উইথড্র করলেন নিজেকে। কাজ করলেন শেষ অব্দি সৌমিত্র, এবং কোন ইগো না রেখেই। অজয় কর আর সৌমিত্র বলতেই আমরা এক কথায় ‘সাত পাকে বাঁধা’ ব’লে লাফিয়ে উঠি কিন্তু এ ছবির পুরো ফোকাস টেনে নিয়েছিলেন সুচিত্রা।সাবডিউড ছিলেন সৌমিত্র। কিন্তু ঐ যে সামান্য নিষ্প্রভ থাকাটাই যে তাঁর অভিনয়, সেই মনোযোগে, মনে হয়, খুব কম দেখা হয়েছে সুখেন্দুর চরিত্রটি। কিন্তু, এ ত আমাদের জানা।আমরা বরং খানিক পরের ‘বর্ণালী’ তে যাই।ক্যামেরা আর আলোর জাদুকর অজয় বাবু কি striking আলোছায়া ক’রেছিলেন এ ছবিতে,এবং সৌমিত্রের অবয়ব,এক্সপেরিমেন্টাল আলোকে চেহারায় নেবার মুন্সিয়ানাই ক্যামেরাম্যান পরিচালক অজয় বাবুকে হাত খুলে খেলতে সাহায্য করেছিল। তাই খুব কম আলোচিত হয়েও আলোর ব্যবহার আর ভিস্যুয়াল নির্মাণে, এ ছবি অনুরাগীদের ম’নে থেকে যাবে চিরকাল। (ইনসেটে চিত্র – ছায়াছবি – “বর্ণালী”)

আসলে উত্তম বনাম সৌমিত্র বিতর্কে ব্যক্তিগতভাবে আমি যতই উত্তমে থাকি না কেন, একইসঙ্গে স্বীকার করতে বাধ্য হই অত্যন্ত কম আলোচিত একটা অসামান্য ছবি ‘একই অঙ্গে এত রূপ’ বা ‘বাঘিনী’ যতবারই দেখেছি,ম’নে হয়েছে এই দুটো চরিত্র বোধহয় মহানায়কের থেকেও অনেক বেশী সার্থক হয়েছে সৌমিত্রবাবুর রূপায়নে।’একটি জীবন’ ছবি করাকালীন ৯ ঘন্টাব্যাপী মেকাপ নেওয়া এবং তোলায় কোনোদিন এক বিন্দু ধৈর্য্যহারা হন নি,বিরক্ত হন নি – এ তথ্য আমরা মাথায় রাখি না ‘পা’ ছবিতে অমিতাভের মেক আপ এর আলোচনায় মাতি যখন।সর্বোপরি, ছ’দশকব্যাপী ক্রিজে টানা ব্যাট ক’রে যাবার পিছনে যে অমিত ধৈর্য্য, নিষ্ঠা ও নিজেকে একভাবে ঠিক রেখে মারণরোগ শরীরে নিয়েও পারফরম্যান্স এর ধারাবাহিকতা দেখিয়ে যাওয়া – অশীতিপর শিল্পীর গোটা জীবন থেকে পাওয়া এ বোধ হয় আমাদের সব্বার এক পরম শিক্ষা।যে কোনো পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার অনন্য ক্ষমতা, শুটিং স্পটে চারপাশের আর সবকিছু সম্পর্কে নির্লিপ্ত হ’য়ে নিজেকে কেবল চরিত্রটুকুতেই ফোকাসড রাখা, এগুলো যদি আজকের জুনিয়র অভিনেতারা এতটুকুও ফলো ক’রে থাকেন,তবে সেটুকুই লাভ।

ভিড় করছে অনেক কথাই।আকাশবাণী এফ এম এ চলচ্চিত্র নিয়ে ধারাবাহিক ১৩ বছর কাজ ক’রে যাবার পর্বে চলচ্চিত্র জগতের অনেক মানুষের সংস্পর্শে এসেছি,যাঁদের অভিজ্ঞতালব্ধ ঘটনায় পূর্ণ আমার স্মৃতি। পলাশবাবুর থেকেই শুনেছিলাম, ‘হুইলচেয়ার’ ছবির জন্য প্রত্যেকদিন নিয়ম ক’রে কয়েকঘন্টাব্যাপী হুইলচেয়ার নিয়ে কিভাবে প্র‍্যাকটিশ করে যেতেন তিনি। কিন্তু এ সব কথা আজ অনেকেই লিখবেন।

আমি এই পুরো শ্রদ্ধার্ঘ্য জুড়ে,তাই,চেষ্টা করলাম এমন একটা পর্ব তুলে ধরতে যে পর্ব সব্বার কাছে অজানা।

আলোকবৃত্ত জোরালো হ’লে আপনিই ঝাপসা হয়ে আসে তার বাইরের বলয়।তাই মহান অভিনেতার স্মৃতি থেকেও হয়তো মুছেই গিয়েছিল এ পর্ব,যা তাঁর অভিন্নহৃদয় সহপাঠীর বেদনার্ত নৈঃশব্দ্য ছাপিয়েও সব্বার অজান্তে লালিত হ’তে হ’তে ছড়িয়ে গেল প্রজন্মান্তরে। জীবন আমাদের কত বাঁকই যে চেনায়…

এসব কাহিনী পরতে পরতে জড়িয়ে রয়েছে আমার শৈশবকে। আজ সবার জন্য তুলে দিলাম।কারণ,আমি বিশ্বাস করি, শিল্পীর কাজ,তাঁর অভিব্যক্তি একেবারেই তাঁর জীবনসঞ্জাত। তাই ময়ূরবাহনের তুখোড় তলোয়ারচালনার নেপথ্যে হয়তো থাকে সেই হাওড়া জেলা স্কুলের প্রথম ব্যাচের N.C.C Cadet এর ক্ষিপ্রতা।’ক্ষুধিত পাষাণ’ এর অভিব্যক্তি হয়তো রচিত হয়েছিল সেই রাতে ইংরেজ মহিলাকে নির্জন কোয়ার্টার্স এর বেসিনে হাত ধুতে দেখায়। ‘বসন্ত বিলাপ’ বা ‘তিন ভূবনের পারে’ বা যদি ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’র কথাই ধরি, ঐ যে একদল বন্ধুকে নিয়ে মেতে যাওয়া,হৈ হৈ করা, এর বীজও কি তাঁর সেই সহপাঠীর সঙ্গে বন্ধুত্বযাপনের দিনগুলিতে এতটুকুও নিহিত নেই??… (ইনসেটে চিত্র – ছায়াছবি – “একই অঙ্গে এত রূপ”) 

ভাবনার দ্বার খোলা রইল পাঠকের জন্য।

Leave a Reply