সংস্কৃতি

কাগজ কে ফুল

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

(পর্ব – ২)

কাগজ কে ফুল ট্র্যাজিক ট্রিলজির মধ্যে সবচাইতে বেশী আত্মজৈবনিক এবং যে অন্ধকারের কথা আমরা প্যায়াসার ক্ষেত্রে বলেছিলাম এখানে তার ছায়া আরও গাঢ়তর হয়েছে । সময় তার তীব্র ধ্বংসাত্মক অভিঘাত নিয়ে এখানে উপস্থিত । ছবির পুরো কাহিনীই বর্ণিত হয়েছে ফ্ল্যাশব্যাকে যাতে আমরা সময়ের এই ধ্বংসাত্মক অভিঘাতকে আরও তীব্রভাবে অনুভব করতে পারি ।

ছবির একদম শুরুতেই সুরেশ সিনহাকে আমরা দেখি মলিন কাপড়ে একটি বিশাল পাখির নীচে । এই বিশাল পাখির মূর্তিটা সেই হৃদয়হীন ব্যবস্থার প্রতীক যা শিল্পের বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করে । যে বাজারে একজন শিল্পী যতক্ষণ পর্যন্ত ডেলিভার করতে পারে , বাণিজ্যিক সফলতা দিতে পারে , ঠিক ততক্ষণ পর্যন্ত টিঁকে থাকতে পারে , যেই মুহূর্তে সে পারে না , এই নির্মম বাজার তাকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় বিস্মৃতির আস্তাকুঁড়ে , ঠিক যেমন সুরেশ সিনহার সাথে হয় । এই পাখির চিত্রকল্পটি অবশ্যই মনে পড়ায় প্রমিথিউস আনবাউন্ডকে , যেখানে একটি শকুন প্রমিথিউসের যকৃত ছিঁড়ে নেয় । এই দৃশ্যটির প্রতিতুলনায় একটি সম্পূর্ণ অন্য ধারার ছবির একটি দৃশ্যকে আমরা রাখতে পারি । হিচককের নর্থ বাই নর্থ ওয়েস্টের সে অবিস্মরণীয় দৃশ্যটি যেখানে একটি এরোপ্লেন জন লেমনকে আক্রমণ করে । বার্ডসে আমরা দেখেছিলাম পাখিরা সংঘবদ্ধ হয়ে মানুষকে আক্রমণ করছে , কিন্তু এখানে দেখলাম একটা প্লেন একটা মহাকায় পাখির মতো মানুষকে আক্রমণ করছে । যাই হোক ছবির কথায় ফিরে আসা যাক । নিঃস্ব রিক্ত সুরেশ স্টুডিওর পরিচিত পরিবেশে শান্তি খুঁজতে চায় । তারপরই ফ্ল্যাশব্যাকে আমরা দেখি সফল সুরেশ সেই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে , কেবল তফাৎ একটাই , এখন তার চারদিকে অনুগ্রাহীদের ভীড় । তারা অটোগ্রাফের খাতা বাড়িয়ে দেয় । সুরেশ মাথা নীচু করে বেরিয়ে যায় । আমরা বুঝি এই ভীড়ের মধ্যেও সে নিঃসঙ্গ ।

এখানে যে গানটি ব্যবহৃত হয়েছে সেই ‘ বিছড়ে সবহি বারি বারি’ সম্বন্ধে কয়েকটি কথা বলতেই হবে । এই গানে একটি পুরুষ কন্ঠ এবং কোরাস ব্যবহৃত হয়েছে । একক পুরুষ কন্ঠটি সুরেশের স্বগত কথন । এর পাশাপাশি কোরাসের ব্যবহার ছবির মূল যে দ্বন্দ্ব ব্যক্তিমানুষের স্বাধীনতা ও সমাজ , যা রোম্যান্টিসিজমের মূল কথা তাকেই ব্যক্ত করে । এইভাবে একদম প্রথমে এই গানটির মাধ্যমেই ছবির মূল সুরটি বেঁধে দেন পরিচালক । এই ছবির প্রথম দৃশ্যেই এমন একটা সমাপনের ইঙ্গিত আছে যা গভীরভাবে তাতপর্যপূর্ণ । সুরেশের জীবনে অতীত আছে , আছে বর্তমান , কিন্তু কোন ভবিষ্যৎ নেই । এই কোরাসের ব্যবহার এভাবে সময়ের সেই তীব্র ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা যা দিয়ে সে প্রতিনিয়ত মানুষের জীবনকে প্রতিনিয়ত পিষে চলেছে তারই দ্যোতক হয়ে ওঠে । শচীনদেব বর্মন এমন শিল্পসম্মতভাবে কোরাসের ব্যবহার বোধহয় আর একবারই করেছিলেন ‘ চলরি সজনি আব কেয়া সোচে’ গানটিতে । এটি নিশ্চয়ই পুরোপুরি সমপাতন নয় যে বোম্বাই কা বাবুর পরিচালক রাজ খোসলা দীর্ঘদিন গুরু দত্তের সহযোগী ছিলেন ।

আমরা আগেই বলেছি স্পেসের ব্যবহার কাগজ কে ফুলের একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় । আমরা দেখি সুরেশ তার বিশাল বাংলোয় সম্পূর্ণ একা । তার নিজস্ব জায়গা বলতে ঠিক সেই ছোট ঘরটি যেখানে তার মেয়ে পামির পুতুলটা রাখা আছে । বাকি খালি বাড়িটা যেন তার নিঃসঙ্গতাকেই আরও প্রকট করে তোলে ।

স্টুডিওর সঙ্গে সুরেশের সম্পর্কটায় এক আশ্চর্য ভালো লাগা প্রচ্ছন্ন আছে । এখানে আমরা একটা আশ্চর্য বৈপরীত্য দেখতে পাই । যে বাড়ি তার একান্ত নিজস্ব সেখানে সে শান্তি পায় না , কিন্তু স্টুডিও , যে জায়গাটা যে কেউ ভাড়া করতে পারে সেখানে সে শান্তি পায় । ঠিক যেমন বিজয় আশ্রয় পায় গুলাবের কাছে । গুলাব , যে কিনা একজন পতিতা যাকে যে কেউ পয়সার বিনিময়ে ভোগ করতে পারে । স্টুডিও এবং পরিচালকের পারষ্পরিক সম্পর্ক নিয়ে কিছু ভালো ছবি আমরা পেয়েছি । বিলি ওয়াইল্ডারের সানসেট বুলেভার্ড , ভিনসেন্ট মিন্নেলির দ্য ব্যাড অ্যান্ড দ্য বিউটিফুল , প্রেস্টন স্টার্জের সালিভানস ট্রাভেলস । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে সালিভানস ট্রাভেলসের সঙ্গে গুরু দত্তের ছবির চমকপ্রদ সাদৃশ্য আছে । প্যায়াসার মতোই এই ছবিতেও ট্রেনে চাপা পড়া ব্যক্তিটিকে নায়ক হিসাবে ধরে নেওয়া হয় ।

ফ্রয়েড বলেছিলেন মানুষের জীবনের প্রথম ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা হলো গর্ভের ভিজে , ঊষ্ণ অন্ধকার থেকে পৃথিবীর রূঢ় আলোর দিকে যাত্রা । এই যাত্রার অভিজ্ঞতা তার অবচেতনে প্রসুপ্ত থাকে । মানুষ পরবর্তী জীবনে গর্ভস্থ ভ্রূণের এই ঊষ্ণ নিরাপত্তাকে খুঁজে পেতে চায় । সে কুঁকড়ে শুয়ে থাকে , শৈশবে টেবিলের তলায় খেলা করে , ঘরের কোণে গিয়ে লুকোয় । একটু বড়ো হওয়ার পর সে যখনই জীবনে রূঢ় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় সে তখনই গর্ভের অভিজ্ঞতার মধ্যে আশ্রয় খোঁজার চেষ্টা করে । ভিয়েতনাম যুদ্ধের ওপর একটি ছবিতে আমরা দেখি একজন মহিলা যুদ্ধবিধ্বস্ত ধ্বংসস্তূপে বসে নিজেকে জড়িয়ে ধরে আস্তে আস্তে দুলতে থাকে । মহিলা তার গর্ভের অভিজ্ঞতাকে পুনর্নিমানের চেষ্টা করে । কাগজ কে ফুলে শূন্য স্টুডিও সুরেশকে এই গর্ভের নিরাপত্তা দেয় । তাই এই স্টুডিওটিই হয়ে ওঠে একজন নিঃস্ব মানুষের অন্তিম আশ্রয় ।

শান্তি সুরেশকে তার কোট ফেরত দিতে আসে স্টুডিওতে এবং ইতস্তত ঘুরতে থাকে । সে একটা ফ্রেমের মধ্যে ঢুকে পড়ে , যেখানে একটা ক্রেন শট নিচ্ছে । শান্তি ভয় পায় এবং ক্যামেরায় ধরা পড়ে তার ভয়ার্ত মুখ । রাশ দেখার সময় সুরেশ তাকে দেখে এবং নিজের ছবির নায়িকা হিসাবে নির্বাচন করে । শুরুর দৃশ্যের সেই পাখির চিত্রকল্পটিকে আবার ফিরিয়ে আনেন পরিচালক । এবার পাখিটি এসেছে পাখি হিসাবে নয় ক্রেনের রূপকে । এবং তারপর শান্তির ভয়ার্ত মুখ , চারপাশের রূঢ় পৃথিবীতে একমাত্র সরলতার প্রতীক । কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক হলেও একটা কথা না বলে থাকতে পারছি না । এর বহুবছর পর এই দৃশ্যটিকে নিজের মতো করে ট্রিবিউট দিয়েছিলেন এক বাঙালী পরিচালক । তিনি ঋতুপর্ণ ঘোষ । আবহমান ছবিতে শিখা আর অনিকেতের প্রথম পরিচয়ের দৃশ্যটিতে ।

আর একটি দৃশ্যের কথা ধরা যাক । শান্তি মামলায় হেরে যাওয়ার পর আবার কাজ করতে বাধ্য হয়েছে । সে সুরেশের সঙ্গে দেখা করতে এসেছে । সুরেশ ভয়াবহ দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে । তার পোষাক আষাক , যেখানে সে বাস করে সেই জায়গার পরিবেশ , সবকিছুই সাক্ষ্য দেয় তার অপরিসীম দারিদ্র্যের । শান্তিকে বসতে দেওয়ার মতো একটা চেয়ারও তার নেই । কিন্তু সুরেশ কিছুতেই নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দেবে না । সে শান্তিকে প্রায় চ্যাপলিনিয় ভঙ্গীতে একটা উল্টোনো বালতিতে বসতে অনুরোধ করে । শান্তি এখন সুরেশের জন্য ছবিতে অভিনয় করতে চায় । কিন্তু সে জানে যে সুরেশ তার এই অনুগ্রহ নেবে না । তাই সে সুরেশকে বলে যে সুরেশ খুব ভালো পরিচালক বলেই সে তার সঙ্গে আবার কাজ করতে চায় । সুরেশ বোতল থেকে মদ গলায় ঢালে এবং বলে যে শান্তি যদি ভালো অভিনেত্রী হয় তাহলে সেও একজন ভালো পরিচালক । এই দৃশ্যটির অন্তর্নিহিত প্যাথস অবশ্যই মনে পড়াবে চ্যাপলিনের লাইম লাইটস । একটা ঘরে অনেকগুলো আয়না থাকলে যেমন অবচেতনেই নিজের মুখে হাতটা চলে যায় এটা দেখতে যে কোনটা আমি । এই দৃশ্যটা দেখলেই ঠিক তেমনই মনে হয় । মনে হয় হঠাত আমরা ওয়াহিদা আর গুরু দত্তের ব্যক্তিগত জীবনে ঢুকে পড়েছি । এই একটি মুহুর্তের আত্মউন্মোচন একটা ভিন্নতর মাত্রা পায় ।

কিন্তু সুরেশের এই যে ক্রমাগত নিজের আত্মসম্মানের কথা বলে গুটিয়ে যাওয়া এ আসলে তার মর্ষকামী স্বভাবেরই বহিঃপ্রকাশ । এ এক অদ্ভুত আত্মধ্বংসী নার্সিসিজম যা শুধু তার নিজের নয় শান্তির জীবনকেও ব্যর্থ করে দিয়েছে । দর্শকদের একটা প্রত্যাশা তৈরি হয় যে সুরেশ হয়তো শান্তিকে নিয়ে ঘর বাঁধবে , কিন্তু আমাদের অস্বস্তি হয় যখন আমরা দেখি যে সুরেশ সচেতনভাবে শান্তিকে এড়িয়ে চলতে চায় । সুরেশ শান্তিকে বলে যে তারা পরষ্পরকে খুব ভালো বোঝে এবং তারপরই বলে ওঠে “ লোকে যে কেনো একে অন্যকে বোঝার চেষ্টা করে” । সুরেশের এই অহেতুক আত্মনিপীড়ন শুধু তার নিজের ধ্বংসের পথই প্রশস্ত করে না শান্তিকেও বাধ্য করে এক নিঃসঙ্গ জীবন বেছে নিতে , যেখানে সে কেবল নিজের শহীদ প্রেমিকের জন্য সোয়েটার বুনতে পারে , কিন্তু তাকে একান্ত করে পেতে পারে না ।

ওয়াক্ত নে কিয়া কেয়া হাসিঁ সিতম গানটির চিত্রায়ণের কথায় আসি । সুরেশ স্টুডিওতে এসেছে । স্টুডিওর এই একান্ত নিভৃতিটুকু বড়ো প্রিয় তার । আগের দিন তার একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে । সুরেশ শান্তিকে স্টুডিওতে দেখে আশ্চর্য হয় । সুরেশ জিজ্ঞাসা করলে শান্তি জানায় যে সে সুরেশের জন্য সোয়েটার তৈরি করছে । সুরেশ পাইপটা ধরাতে পারে না , শান্তি তার অসুবিধার কথা বুঝতে পেরে দেশলাইটা ধরায় । সারা স্টুডিওর নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে তাদের মুখ প্রায় দেখাই যায় না । শুধু মুহুর্তের জন্য শান্তির মুখটা দেশলাইয়ের আলোয় দেখা যায় । এরপর তারা আবার নিজেদের জায়গায় ফিরে যায় । এবার ক্যামেরা তাদের শরীরের লাইন অফ অ্যাট্রাকশন ধরে এগোয় । এবার ব্যাকগ্রাউন্ডে গানটি শুরু হয় । স্টুডিওর বিস্তৃত পরিসরে গানটি যেন এক আশ্চর্য নৈঃশব্দ তৈরি করে । শচীন দেব বর্মন সুজাতার একটি গানে ‘ নানহি কলি শোনে চলিতে নৈঃশব্দকে বাঙ্ময় করেছিলেন । এখানে নৈঃশব্দকে বাঙ্ময় করতে দৃশ্যায়নও একটা বড়ো ভূমিকা নিয়েছে । এরপরই একটি আলোর বিমে তাদের মানসিক সত্ত্বার মিলন হয় । বাস্তব জীবনে যা সম্ভব হয়নি, স্টুডিওর একান্ত নিভৃতিতে তা সম্ভব হয় ।

কিন্তু এই যে শান্তির সঙ্গে তার সম্পর্কে self – assertion এর অভাব তা যেমন শান্তির সঙ্গে তার সম্পর্কের পথে অন্তরায় হয়, তেমনই তার নিজের জীবনকেও শেষ করে দেয় । ফ্রয়েড Mourning and Melancholia প্রসঙ্গে বলেছেন যে “A correlation of melancholia and mourning seems justified by the general picture of two conditions… mourning is regularly the reaction to the loss of some abstraction which has taken the place of one , such as an ideal . As an effect of the same influences , melancholia instead of a state of grief, develops [ into ] … a morbid pathological disposition. ফ্রয়েড আরও বলেছেন “The distinguishing mental features of melancholia , are profoundly painful dejection and abrogation of interest in the outside world, loss of the capacity to love, and inhibition of all activity”. এই মানসিক অবস্থা আমরা প্যায়াসায় বিজয়ের মধ্যে দেখেছি, তা আরও প্রকট হয়েছে সুরেশের মধ্যে । এই মেলানকলিয়া প্রায় মর্বিডিটির পর্যায়ে পৌঁছে , ফলে যে ট্র্যাজিক এফেক্ট তৈরি হতে পারতো তা হয়নি । সুরেশের অরন্তুদ যন্ত্রণা তার নিজের সৃষ্টি করা কারাগারে মাথা কুটে ফিরেছে , বেরুবার পথ পায়নি । এই প্রসঙ্গে ড্যারিয়াস কুপারের বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য ।

“The audience wants to see Shanti taking him to his directorial chair in the studio in recognition of his talent and creativity . Instead they are offered Suresh’s masochism, which takes him back to his directorial chair only to deposit him there as a corpse. As a film maker he could have created life . As a corpse, he can only offer death” এই বক্তব্যটিই অদ্ভুত আয়রনির সঙ্গে উচ্চারিত হয় পরের দিন সকালে, সেই পরিচালকের গলায় যে বলে “ তোমরা কী করছো? আগে কখনও মড়া দেখনি নাকি । যাও সরিয়ে নিয়ে যাও, শুটিং শুরু করা যাক”।

তাঁর এই বিশেষ মনোভঙ্গী ভারতীয় চলচ্চিত্রে এতটাই খাপছাড়া যে তাঁর সমসময়ে তাঁর যথার্থ মূল্যায়ণ হয়নি । তাঁর এই নিরবচ্ছিন্ন নেতিবাদ মেনে নিতে আজও বোধ করি দর্শকদের অসুবিধা হয় । আকস্মিক দূর্ঘটনা যদি তাঁকে অকালে কেড়ে না নিতো , তাহলে তাঁর ছবির ধারা কোন দিকে বাঁক নিতো বলা শক্ত । তবে বলিউডের যাবতীয় সীমাবদ্ধতার মধ্যেও যে আশ্চর্য সৃজনশীলতার পরিচয় তিনি দিয়েছেন তা সত্যিই বিস্ময় উদ্রেককর।

(ক্রমশ)

Leave a Reply