আঙিনা

‘ইংরেজি টিংরেজি কিছু’

বহুদিন পর ফিরে এলাম। আজকে আলোচনা করব কিছু শব্দের উচ্চারণ নিয়ে।

আচ্ছা, আপনি ফেইসবুক বা ওয়াটসএপে কি ‘স্ট্যাটাস’ দেন? বা নিজের সোশ্যাল ‘স্ট্যাটাস’ নিয়ে গর্বিত? এবার থেকে আর দেবেন না। গর্বও করবেন না নিজের ‘স্ট্যাটাস’ নিয়ে। কেন বলুন ত? উচ্চারণটা এক্কেবারে ভুল। ওটার বিশুদ্ধ ইংরেজ-উচ্চারণ হল ‘স্টেইটাস’। অতটা যদি করতে না চান তবে নিদেনপক্ষে ‘স্টেটাস’ বলুন। এই একইভাবে Satanic হল ‘সেইটানিক’ বা ‘সেটানিক’। ‘স্যাটানিক’ নয়। এবার আপনি বলতে পারেন, কিন্তু এমেরিকানরা ‘স্ট্যাটাস’ বলে বলেই শুনেছিলুম যেন! হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছিলেন কিন্তু সম্পূর্ণ শোনেননি। ওরা sta কে স্ট্যা উচ্চারণ করার পাশাপাশি t টাকে d এর মতো উচ্চারণ করে। ফলে, status এর মার্কিনী উচ্চারণ হয়ে দাঁড়ায় ‘স্ট্যাডাস’। আপনি যদি এমেরিকান বলতে পছন্দ করেন তবে অবশ্য বলুন কিন্তু, সেক্ষেত্রে প্রতিটি ইংরেজি শব্দই ওদের মতো করে উচ্চারণ করবেন বলে লোকের মনে প্রত্যাশা তৈরি হবে কিন্তু!

এবার আসি আরেকটা প্রসঙ্গে। ‘ঘ’ ধ্বনিটি ইংরেজিতে নেই, জানেন! অতএব কোথাও gh দেখলেন আর সঙ্গে সঙ্গে ভেবে নিলেন ঘ উচ্চারণ করবেন তা কিন্তু হবে না। যেমন ধরুন ghost. বেশিরভাগ বাঙালি এটাকে ঘোস্ট উচ্চারণ করেন যেটা ঠিক নয়। এর উচ্চারণ হল ‘গৌস্ট’। এবার ঐ ‘ঔকার’টা কেন? তার উত্তর অন্য দিন দেবো। একইভাবে, ghastly হল ‘গাস্টলি’, ghetto হল ‘গেটো’, ইত্যাদি।

এবার ch এর প্রসঙ্গে আসি। আমরা জানি ch এর উচ্চারণ হল ‘চ’। হ্যাঁ, সেটা ঠিকই কিন্তু, ফরাসী শব্দ হলে কিন্তু ওটা আর ‘চ’ থাকে না, ‘শ’ হয়ে যায়। যেমন champagne হল ‘শ্যাম্পেন’, parachute হল ‘প্যারাশ্যুট’, charlatan হল ‘শাহলেটন’, chandelier হল ‘শ্যান্ডেলিয়াহ’ ‘ইত্যাদি। কিন্তু তাবলে যদি ভাবেন যে সব ch ওয়ালা ইংরেজি শব্দই ফরাসী থেকে এসেছে এবং সব গুলোই ‘শ’ হবে তবে কিন্তু বিরাট ভুল হবে। অ-ফরাসী শব্দগুলোতে ch চ’ও হতে পারে, ‘ক’ও হতে পারে। Pinocchio নামের বিখ্যাত ইটালিয়ান শিশু উপন্যাস ত অনুবাদে পড়েইছেন! উচ্চারণ কিন্তু ‘পিনোশিয়ো’ নয়, ‘পিনোকিয়ো’। নিও-ব্যাবিলনীয়ান সাম্রাজ্যের সম্রাট Nebuchadnezzar এর উচ্চারণ নেবিউকাডনেজাহ।

এ, ও, এই স্বরবর্ণগুলোর কোনো English equivalent নেই, জানেন? অবাক হচ্ছেন ত? হ্যাঁ, গোড়াতেই গলদ নিয়ে আমাদের ইংরেজি উচ্চারণ শিক্ষা সাধারণত শুরু হয়। ইংরেজি বর্ণমালার প্রথম অক্ষর ‘এ’ নয়। A হল ‘এ-ই’! একই ভাবে, K হল ‘কে-ই’, J হল ‘জে-ই’ এবং O হল ‘ও-উ’। আর, F এবং V উচ্চারণ করার সময় মনে রাখবেন ওদুটি যথাক্রমে ‘ফ’ এবং ‘ভ’ এর English equivalent নয়। ফ এবং ভ উচ্চারণ করুন ত! দুটো ঠোঁট পরস্পরকে ছুঁচ্ছে তাই ত? V আর F এ কিন্তু ছোঁবে না। বাতাসই উচ্চারণটা করিয়ে দেবে। সেজন্য, যদি কখনও ইংরেজি হরফে ‘ভাত’ বা ‘ফুলকো’ লিখতে হয়, তবে যথাক্রমে ‘bhat’ এবং ”phulko’ লিখুন – vat এবং fulko নয়।

আর ঐ যে একটু আগেই বললুম, a হল ‘এ-ই’, সেকারণেই name, game, tame, fame, ate, sadism, Facebook — এই শব্দগুলোর উচ্চারণ যথাক্রমে ‘নেইম’, ‘গেইম’, ‘টেইম’, ‘ফেইম’, ‘এইট’, ‘সেইডিজম’, এবং ‘ফেইসবুক’। নেম, ‘গেম’, ‘টেম’, ‘ফেম’, এট’, ‘স্যাডিজম’ এবং ‘ফেসবুক’ নয়।

আবার, অস্ট্রেলিয়ায় এই A ই হয়ে যায় ‘আ-ই’। তাই ওরা উচ্চারণ করে ‘নাইম’, ‘গাইম’, ‘টাইম’, ইত্যাদি। এই সংক্রান্ত একটা মজার গল্প বলে এই কিস্তি শেষ করি। একবার এক ইংরেজ অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। তাকে হাস্পাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ডাক্তার তাকে দেখতে এসে জিজ্ঞেস করছে, “সো ইউ কাইম হিয়াহ টু ডাই?” (So you came here today?); ইংরেজটা প্রবল ভয় পেয়ে উত্তর দিচ্ছে, “নৌ, নৌ, আই কেইম হিয়াহ টু লিভ!”

চলুন পরের কিস্তি নিয়ে কয়েকদিন পর আবার আসছি। কাঞ্জিকের বাকিটা পড়ে ফেলুন এবার।

Leave a Reply