আঙিনা

‘ইংরেজি টিংরেজি কিছু’

(আগের পর্বের লিঙ্ক)

খাওয়া দাওয়া দিয়ে শেষ করেছিলাম গত পর্বে। মাঝেমধ্যে নিজেদেরকে জিজ্ঞেস করলে দেখবেন মজা লাগবে, যেসব জিনিস আমরা খাই তাদের ক’টির ঠিকঠাক ইংরেজি প্রতিশব্দ আমরা জানি। সে শাক সব্জীই হোক, মাংস প্রভৃতিই হোক, বা মশলাপাতি!

এসব বলতে গেলে সবার প্রথমেই আমার যেগুলো মাথায় আসে সেগুলোই সবার আগে না হয় বলে নিই!

১. বেগুনঃ এই সব্জীটির ইংরেজি কী বলুন ত! Brinjal বললেন ত? উঁহু, brinjal নয়। আমি “ইংরেজি” বলেছি। আমাদের এই বহুল ভক্ষিত সব্জীটির ইংরেজি হল Aubergine. আর এমেরিকানরা একে বলে eggplant. Eggplant কেন বলুন ত? খুব সোজা। এটির যে varietyটিকে উত্তর এমেরিকায় প্রথম নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেটির রঙ ছিল সাদা। সব মিলে দেখে মনে হত গাছে বড় বড় ডিম ফলে রয়েছে। তাই এই নাম। Aubergine শব্দটা ইংরেজিতে এসেছে ফরাসী থেকে। তবে এখানে আরও বড় মজা অপেক্ষা করছে। অষ্টাদশ শতকের শেষ পর্বে ফরাসী থেকে Aubergine এলো ইংরেজিতে। তার আগে ফরাসীতে এলো Spain এর ক্যাটালোনিয়ার ভাষা থেকে। ক্যাটালান শব্দটি ছিলঃ alberginia. এই ক্যাটালান শব্দটির উৎস ছিল আরবী শব্দ al-bāḏinjān যা এসেছে ফারসি (পারসিক) bādingān থেকে। এবং, এই পারশিক শব্দটির উৎস আমাদের দেবভাষা। হ্যাঁ, সংস্কৃত। শব্দটি হল vātiṃgaṇa. উচ্চারণ, “বাতিঙ্গনা”।

এবার তবে brinjal এ আসি। এই জনপ্রিয় শব্দটি তবে এলো কোত্থেকে?

সংস্কৃত বাতিঙ্গনা পারসিক হয়ে আরবীতে হয়েছে আল-বাদিঞ্জন একথা ত বললামই। এই আরবী আল-বাদিঞ্জন Portugal এ গিয়ে হয়ে গেল berinjela. আর ইংরেজি aubergine এর বিবর্তনের ইতিহাস ত বলেইছি। এই Portuguese ‘berinjela’ আর ইংরেজি aubergine – এই দুই শব্দের অপভ্রংশ একই শব্দে ঠাঁই পেয়ে brinjal হয়ে গেছে। তাই, আমার পরামর্শ, aubergine ই বলুন। প্রথমতঃ aubergine সারা পৃথিবীর লোকে বুঝবে,শুধু এই উপমহাদেশের লোকেরা নয়। দ্বিতীয়ত, এ আমাদেরই পূর্বপুরুষদের ব্যবহৃত একটি শব্দের বংশধর। তবে এমেরিকান ভাষা বলতে চাইলে eggplant ও আরামেই বলতে পারেন। মোদ্দা কথা “Brinjal” avoid করুন। ইংরেজি নয় ওটি।

আজকের আলোচনায় পরবর্তী সব্জী ঢ্যাঁড়স। ভেন্ডিও বলে অনেক বাঙালি। এর ইংরেজি কী? না না ladies’ finger নয়। একদম নয়। ঢ্যাঁড়স এর ইংরেজি হল Okra. অষ্টাদশ শতকের প্রথম দিকে পশ্চিম আফ্রিকার একটি শব্দ থেকে এই ইংরেজি শব্দের সৃষ্টি। তবে ladies’ fingers কেন? নামটাতেই ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। ঘটনাটি হল, বিংশ শতকের প্রথম দিকে এমেরিকায় ঢ্যাঁড়সের একটা ছোট variety কে এই নামে ডাকা হত। নারীর সুন্দর, পেলব হাতের আঙুলের সঙ্গে তার চেহারার মিল দেখে। কালক্রমে কোনো অজ্ঞাত কারণে বহু অ-ইংরেজ মানুষ সব ধরণের ঢ্যাঁড়সকেই এই নামে ডাকা শুরু করেন। আমাদের দেশে এটা কি মহাযুদ্ধ চলাকালীন বহু মার্কিনী সৈন্যদের থানা গাড়াটাই কারণ ছিল? জানি না। মোদ্দা কথা, ladies’ fingers বলা বন্ধ করুন। উপমহাদেশের বাইরে গিয়ে কাউকে “আমি ladies’ fingers খেয়ে এলাম” বললে বিশ্রী case খেয়ে যেতে পারেন। শ্রোতা আপনাকে শুধু নরখাদকই ভাববে না, বরং, ভাববে এমনি নরখাদক যে, বিশেষ করে নারী-অঙ্গুলি চর্বণ করতে ভালোবাসে।
চলুন, এই হপ্তার মতো বিদায় নেয়ার আগে বেশ কয়েকটি সব্জীর ইংরেজি নাম ঝালিয়ে নিই।

১. পেঁয়াজ – ইংরেজিটা জানেন আমি নিশ্চিত কিন্তু, উচ্চারণ “ওনিয়ন” বা “অনিয়ন” নয়। উচ্চারণ হল “আনিয়ন”। আর ২. পেঁয়াজকলি হল spring onion (ইংলন্ড) বা green onion (এমেরিকা)।
৩. আলু – potato, spud, tater, tuber, yam
৪. উচ্ছে – bitter gourd
৫. কচু – arum
৬. শীম – beans
৭. বীনস – guar/cluster beans
৮. বরবটি – asparagus beans
৯. সজনে – drumstick
১০. ঝিঙে – luffa

চলুন, আজ উঠি। আসছে পর্বেও রান্নাঘরের মধ্যেই থাকব। ততক্ষণের জন্য বিদায়। আপনারা ” কাঞ্জিক” এর বাকিটুকু পড়ে ফেলুন।

 

(চিত্রঋণ: Picfair)

Leave a Reply