আঙিনা

‘ইংরেজি টিংরেজি কিছু’

(আগের পর্বের লিঙ্ক)

(পর্ব – ৪)

 

গত পর্বে বলেছিলাম slang আপনিও use করেন। বাড়িতেও করেন। ছেলেমেয়ের সামনেই করেন। আপনি বিরক্তি, বিস্ময়, তাচ্ছিল্য, আর করুণা নিয়ে আমার দিকে তাকালেন। কিন্তু, বিশ্বাস করুন, আপনি সত্যিই করেন। সেদিন ত ছেলের সামনেই বন্ধুকে পরামর্শ দিলেন কী যেন একটা ব্যাপারে ‘বিন্দাস’ থাকতে! দেননি? স্ত্রীকে এর মধ্যেই মেয়ের সামনেই কবে যেন বললেন না, বাঃ ঝিনচ্যাক শাড়ীতে তোমায় এখনও দিব্যি দেখায়? আপনার ছেলেকে সেদিন যখন Whatsapp এ তার জন্য আপনার পছন্দ করা জামাটার ছবি জামা কাপড়ের দোকান থেকে পাঠালেন, সে তখন লিখে পাঠাল না, এরকম রং এর জামা আমি পরব? Lols! তুমি পারোও বাবা! ROFL! আপনার স্ত্রী মেয়ের গৃ্হশিক্ষিকা হিসেবে অমুকের নাম প্রস্তাব করার সময় বলেননি, মেয়েটা একদম উপযুক্ত হবে এব্যাপারে, কারণ ওর একই সঙ্গে এতগুলো বিষয়ে ‘ফান্ডা’ আছে? এরপরও বলবেন আপনি স্ল্যাং ব্যবহার ত দূর, পছন্দই করেন না?

হ্যাঁ, এই সবগুলোই slang. বিন্দাস, ঝিনচ্যাক, Lols, ROFL, funda, সব। এবার বলুন ত এরমধ্যে গালাগালি /খিস্তিখেউড়, অশ্লীলতা প্রভৃতি কোথায় পেলেন! এটাই বলতে চাইছি। Slang মানেই অশ্লীল শব্দ নয়। কোনো একটা slang অশ্লীল হতে পারে, না হতেও পারে। চলুন এবার দেখি slang মানে কী! সেখান থেকেই বোঝা যাবে লোকজন একে খিস্তির সমার্থক শব্দ ভেবে নিয়েছে কেন।

Slang হল এমন একধরণের ভাষা যা, মাত্রাতিরিক্তভাবে হেটো মেঠো। মানে, সেই ভাষা তৈরি হয় এমন সব শব্দ দিয়ে যেসবের মধ্যে গাম্ভীর্য বা আনুষ্ঠানিকতার লেশমাত্র নেই এবং তাই, লেখার চাইতে বলার সময়েই সেসব শব্দ ব্যবহার হয় বেশি। আপনার বস আপনাকে আপনার কুশল জিজ্ঞাসা করে ইমেইল পাঠালে আপনি নিশ্চয়ই তাঁকে লিখবেন না আপনি ‘বিন্দাস’ আছেন! আর, এই ভাষার প্রতিটি শব্দই দেখবেন কোনো না কোনো সামাজিক গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত। তারাই শব্দটির জন্ম দিয়েছে এবং তারাই মূলতঃ ব্যবহার করে। যেমন ধরুন Lols (laughing out loud) বা ROFL (rolling on the floor with laughter) এইদুটিই হল internet slang. Netizens অর্থাৎ internet এর জগতের citizen রাই এদুটোর উদ্ভব ঘটিয়েছেন, বারংবার ব্যবহার করেছেন, এবং ছড়িয়ে দিয়েছেন সর্বত্র।

তাহলে slang = অশ্লীল গালাগালি, এমনি ধারণার কারণ কী? খুব সহজ। কেউ কাউকে যখন গালাগালি দেয় সে কি আনুষ্ঠানিক (formal) ভাষায় দেয়, সাধারণতঃ? তৎসম/অর্ধতৎসম/তদ্ভব প্রয়োগ করে কেউ থোড়িই খিস্তি দেবে! তখন ত একেবারে কাঁচা সব হেটো মেঠো শব্দই জিভে উঠে আসবে, তাই না? আর হেটো মেঠো শব্দ, শব্দ যা চরম informal, অসংস্কৃত, সেগুলো ত slang ই। অতএব, ব্যাপারটা অনেকটা সেই নীচু ক্লাসে পড়া “সকল ক্ষারই ক্ষারক কিন্তু সকম ক্ষারক ক্ষার নয়” এর মতোই। (প্রায়) সব অশ্লীল গালাগালিই slang কিন্তু slang মাত্রেই অশ্লীল গালাগালি নয়। উপরেরগুলোই ত নির্বিষ slang এর উদাহরণ!

অতএব, খিস্তির ইংরেজি হিসেবে coarse slang, abusive words, vulgar words/language, phrase(s) of censure ইত্যাদি ব্যবহার করুন। Slang নয়। 

যাকগে, কথা বলতে বলতে আপনার বাড়ি এসে গেছে। আমিও আপনার সঙ্গে আপনার বাড়ি ঢুকতে প্রস্তুত হচ্ছি। গাড়ি ব্রেইক কষেছে। নামতে গিয়েই দেখছেন আপনার পড়শী স্যুটকেইস ইত্যাদি নিয়ে নিজের বাড়ি থেকে বেরোচ্ছেন। আপনাকে দেখে উনি বললেন “কয়েকদিন আউট অভ স্টেইশন থাকব”! আপনি হেসে বললেন, ” আচ্ছা!” আচ্ছা আপনার একবারও মনে হল না যে, উনি শহরের বাইরে থাকবেন ত তাতে স্টেইশন এর ব্যাপারটা এলো কোত্থেকে? বা, আগেও কখনও মনে হয়নি, এই প্রসঙ্গে station শব্দটা কী করছে? কোন station? হাওড়া, শিয়ালদা, চিতপুর? আচ্ছা উনি ত শহরের বাইরে ট্রেইনের বদলে উড়োজাহাজ বা বাস বা ছোটগাড়ি বা স্টীমারেও যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে এই station শব্দটার প্রাসঙ্গিকতা কোথায়? হ্যাঁ, আশেপাশে লোকে হরবখত বলছে কিন্তু তাও, প্রশ্ন জাগেনি কখনও? 

শুনুন তবে, এটা ব্রিটিশ রাজের উত্তরাধিকার। বহু বহু বছর আগে এদেশে ওরা বাস করার সময় এই “out of station” phrase টা ওরা ব্যবহার করত। এর অর্থ ছিল, the person concerned is out of the place (a city/town) where he is stationed. এবং এই station অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছিল একটি army station. সুতরাং, ২০২০তে এর অসুবিধে বহুবিধ। প্রথমতঃ যারা এটা বলত তারাই আর বলে না অতএব দেশের বাইরের কেউ আপনার এই out of station এর মাথা মুন্ডু কিসসু বুঝতে পারবে না। তার মনে প্রশ্ন জাগবে, ১) আপনি কোন (রেইলওয়ে) স্টেইশনের কথা বলছেন এবং ২) সেখান থেকে বেরোনোর মধ্যে বলবার মতো কী আছে! দ্বিতীয়ত, এই military talk শুনে কেউ আপনাকে আপনি ফৌজি না হওয়া সত্ত্বেও ফৌজি ভেবে বসতে পারে। এছাড়া আরও বেশ কিছু অসুবিধের কথা বলা যায় কিন্তু আর প্রয়োজন দেখছি না তার। তবে কী বলবেন out of station এর বদলে? আরে মশাই সারা পৃথিবীর লোক যেটা বলে সেটাই বলবেন। খুব simple. বলুন out of town. এবার সব দেশের লোকই বুঝতে পারবে। 

২০২০তে ইংরেজি বলতে হবে ২০২০’র মতোই। ঊনবিংশ শতাব্দীর ইংরেজি এখন চলবে না। জোর করে চালাতে গেলে নিজের comfort zone এর বাইরে বেরোলেই আপনার সমস্যা হবে। 

আজ এ’পর্যন্তই। আবার দেখা হবে সামনের পর্বে। কাঞ্জিক এর সবটাই পড়বেন কিন্তু! দেখবেন, ঠকবেন না।

Leave a Reply