বিপন্নতার মানব মুখ

সেন্ট জেভিয়ার্স পানিহাটিতে স্কুল কর্তৃপক্ষের তুঘলকি আচরণে ধুন্ধুমার –

স্কুল কর্তৃপক্ষের স্বৈর আচরণে স্তম্ভিত অভিভাবকেরা

মাত্র পাঁচদিনের ব্যবধানে অফলাইন পরীক্ষার চাপ কি পড়বে শিশুদের কোমল মনে তা কি স্কুল কর্তৃপক্ষ বুঝছেন না বা বুঝতে চাইছেন না!? এই প্রশ্নটিই এখন আবর্তিত হচ্ছে পানিহাটিস্থিত সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের চারিপাশে। স্কুল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২১শে ফেব্রুয়ারি স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা/offline examination অনুষ্ঠিত হবে। বলা বাহুল্য, করোনা-জনিত অতিমারীকে কেন্দ্র করে বিগত দু-বছর ধরে যে অস্থিরতা রাজ্য তথা সমগ্র ভারতবর্ষের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনুভূত হয়েছে ও online class-এর temporary settlement-এর দিয়ে তাকে মোকাবিলার প্রচেষ্টা হয়েছে দেশজুড়ে তা থেকে পানিহাটির সেন্ট জেভিয়ার্স ব্যতিক্রম নয় কোনমতেই। কিন্তু এতদিন ধরে online class এ সাবলীল শিশুদের স্কুল খোলার সাথে সাথেই offline examination -এর ঘোষণা স্তম্ভিত করেছে অভিভাবকদের। আজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সেই বিষয় সংক্রান্ত একটি আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে ৫ম ও ৬ষ্ঠ শ্রেণীর অভিভাবকদের একাংশ স্কুলে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রথম থেকেই সেন্ট জেভিয়ার্স কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতা এক অসামান্য অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছে। সংবাদসূত্রে প্রকাশ, স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, অনিচ্ছুক অভিভাবকদের (যাঁরা তাঁদের সন্তানদের offline examination এ যেতে দিতে অরাজি) transfer certificate দিয়ে দেওয়া হবে promotion সহ।

প্রশ্ন – ১) স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই রূঢ় আচরণ কি প্রত্যাশিত? বিশেষত যখন বিগত দু-বছর ধরে বন্ধ থাকা স্কুলের সমস্ত খরচ আগামী মার্চ মাসের মধ্যে মিটিয়ে দিতে অভিভাবকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?

প্রশ্ন – ২) এতদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রমে যুক্ত থাকা শিশুরা (online class) কি সহসা অচেনা আর একটিতে (offline examination) অভ্যস্ত হয়ে উঠবে?

প্রশ্ন – ৩) করোনা সংক্রান্ত অতিমারী কি সহসা থেমে গেছে? সমগ্র স্কুলে কি vaccination সমাপ্ত? শিশুরা অসুস্থ হয়ে গেলে তার দায়িত্ব কার উপর বর্তাবে?

পরিশেষে, এটি শুধু সেন্ট জেভিয়ার্স পানিহাটির সমস্যা বলে দেখলে ভুল হবে। একই সমস্যা এ রাজ্যের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও সত্য, বিশেষত যেখানে শিশুরা পড়তে যায়। স্থানীয় প্রশাসন তথা রাজ্য সরকারের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ সত্বর একটি নির্দেশনা জারি করা হোক এক সুস্থ ভবিষ্যতের ও অভিভাবকদের উদ্বেগ থেকে রক্ষা করার স্বার্থে। এইপ্রকার আগ্নেয়গিরির উপর থেকে যত দ্রুত রাজ্য নিস্তার পাবে সামগ্রিক সুস্থতার দিকে অগ্রসর হওয়া তত সম্ভবপর হবে।  আমরা রাজ্য প্রশাসনের কাছে বিনীত আবেদন করি। 

 

Leave a Reply