তর্পণে প্রণত মসীরাজনীতিশাশ্বত সনাতন

১৯৪২-র সেই ৯ই আগস্ট

-শ্রীমতী সন্ধ্যা সিনহা 

এক মায়ের উপহার –

একান্ত ব্যক্তিগত জীবনে, জ্ঞানানুশীলন, নিয়মানুবর্তিতা, বাস্তবোধেরর ক্ষেত্রে শ্রীমতী সন্ধ্যা সিনহা অদ্বিতীয় । তাঁর জীবনাদর্শের অত্যুচ্চ স্তরটি ছিল সাধারণের ধরাছোঁয়ার একেবারেই বাইরে। সাধারণ হয়েও তার জীবনের পরতে পরতে প্রচ্ছন্ন ছিল অসাধারণত্ব । 

জীবনের প্রথমার্ধে দেখা তাঁর স্বপ্নগুলি অপূর্ণ র’য়ে গেলেও, তাঁর জন্যে  দমে যাবেন সেই ধাতুতে গড়া ছিলেন না সন্ধ্যা। অতএব, যখনই সুযোগ পেলেন করলেন তিনি তার সদ্ব্যবহার। শিক্ষয়িত্রী হয়ে ওঠার প্রায় আজন্ম লালিত স্বপ্ন পূর্ণ করতে কোন বাধাই মানলেন না। উচ্চ শিক্ষার জন্য তাঁর অনুরাগের প্রমাণ পাওয়া যায় বিস্তর-  লখনৌর শ্রেষ্টতম ইংরেজি বিদ্যালয়ে তাঁর সন্তানদের শিক্ষাপ্রাপ্তি; বিবাহের ১৭ বছর পর পুনরায় বিদ্যাচর্চায় প্রবৃত্ত হওয়া, ইংরেজি সাহিত্যে এমএ উপাধি লাভ ও নারী শিক্ষা নিকেতনের মতো প্রথম শ্রেণীর মহিলা কলেজের সাথে নিযুক্ত থাকা ও অতঃপর, বরিষ্ঠ শিক্ষিকা রূপে প্রতিষ্ঠান থেকে অবসর গ্রহণ। 

প্রথম জীবনে তিনি ছিলেন সন্ধ্যা মিত্র। ১৯২৮ সালে তাঁর জন্ম হাজারীবাগে, কর্মসূত্রে তাঁর পিতা ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার, ঐকান্তিক দেশপ্রেমিক, এবং চাকুরী সূত্রে বদলি হতেন প্রায়ই। ফলতঃ, সন্ধ্যার ছাত্রীজীবন অতিবাহিত হয় পাটনা শহরে। ১৯৪৭ সালে তিনি বিএ (পার্ট ওয়ান) পাশ করেন বাংলা ভাষায় উৎকৃষ্টতার জন্য স্বর্ণপদক সহ। মাত্র কয়েক মাস পরেই তাঁর বিবাহ হয় শ্রী বিশ্বনাথ দত্ত, তৎকালীন UP Secretariat র উচ্চপদস্থ কর্মচারী। বিবাহসূত্রে তাঁর গন্তব্য হল লখনৌ, একটি একান্নবর্তী পরিবারে। এবং ত্রিশের মধ্যেই পঞ্চ সন্তানের জননী হয়ে সংসারজগতে হলেন নিমজ্জিত। 

ইংরেজি ভাষার উপর সন্ধ্যা সিনহার দখল ছিল প্রশংসনীয়।  তিনি ইংরেজিতে ডায়রি লিখতেন নিয়মিতভাবে ও অতি যত্নের সাথে; তাঁর হস্তাক্ষর ছিল এক কথায়, চমৎকার । প্রায় এমন কেউই ছিলেন না যিনি তাঁর ইংরেজি হস্তাক্ষরে মুগ্ধ হননি। কিন্তু তিনি তাঁর নিজস্ব বক্তব্য, গল্প, ভ্রমণকাহিনী, অধ্যাত্মবাদের উপরে চিন্তার প্রকাশের জন্য বেঁচে নিলেন বাংলা ভাষাকেই। বিশেষ কোন কারণ? একটিই যুক্তি – বাংলা ভাষায় তাঁর পান্ডিত্য ছিল অসাধারণ । বঙ্গভূমি, বঙ্গীয় সংস্কৃতি, সাহিত্য, সঙ্গীত ও ইতিহাসের প্রতি তাঁর মুগ্ধতা চিরন্তন। এবং সেজন্যই তাঁর বাংলায় লেখাপত্র আরও চিত্তাকর্ষক রূপে অনুভূত হয়। তাঁর লেখা বেশ কিছু প্রবন্ধ প্রকাশিত হয় লখনৌ এর বঙ্গীয় সাহিত্য সমাজের পত্রিকায়। অবশ্যই উল্লেখযোগ্য, এই সমাজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন শ্রীমতী সুচেতা কৃপালানী।

সন্ধ্যা সিনহা নিজেও এই সমাজের সদস্য ছিলেন, এবং তাঁর সাথে লখনৌতে অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশন ও সারদা সঙ্ঘের সাথে যোগাযোগ ছিল অতি ঘনিষ্ঠ। তাঁর প্রবন্ধরাজির আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হল অন্তর্নিহিত সাবলীলতা, পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, ভাষার শুদ্ধতা; পাঠকমন তাতে আকৃষ্ট হতো শনৈঃ শনৈঃ। 

এইবার সবেচেয়ে আশ্চর্যের কথা – সন্ধ্যা দেবী লেখালেখির জগতে প্রবেশ করেন ৭৫ বছর বয়সে। এবং ইতিমধ্যে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনটি অতিবাহিত করেছেন  বিভিন্ন পর্যায়ে।  এক সচেতন, তীক্ষ্ণ নারী হয়ে তিনি মাতা, সমাজ সেবিকা, প্রাজ্ঞ বন্ধু, সমাজ নেত্রী ও অধ্যাত্মবাদের অভিযাত্রী প্রভৃতি ভূমিকা তিনি জীবনভোর সুচারু রূপে পালন করেছেন। এবং এই ব্যস্ততার মাঝে ক্ষণিকের অবসর হলেও বিভিন্ন প্রবন্ধ ও ছোট গল্পের মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর আপন বিচার বোধ প্রকাশ করেছেন।  অবশিষ্ট রইল কি কিছু? মুক্ত সময়ে ব্যস্ত রইতেন তিনি আপন ঘটনাবহুল জীবনের স্মৃতির উদ্ধারে, সন্তান ও নাতি-নাতিনীদের লেখার মাধ্যমে তা উপহার দেওয়ার জন্য। 

মূল প্রবন্ধ –

আমাদের এই হুজুগের দেশে আবার একটা হুজুগের মওকা মিলেছে। ১৯৪২আন্দোলনেরসুবর্ণজয়ন্তী,অতএব জোরদার কিছু একটা করার তাগিদে কাগজে কাগজে লেখালেখি, গালভরা বুলি কপচানো, লম্বা চওড়া ভাষণে জনগণকে উদুব্ধ করার ভুয়ো প্রয়াস–সবই সোচ্চারে চলছে। ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ওপর এইসব অগুন্তি লেখা জোখা ও বক্তৃতায় ঝুঠো মহিমার প্রলেপ পড়ছে। ১৯৪২ এর তাণ্ডব অথবা সে সময়কার দেশের মানুষের ত্যাগ ও ঐকের যে ছবিটি অধুনা ভারতের আশী ভাগ নরনারী চোখে দেখেননি বা তার আঁচটুকুও স্পর্শ করতেপারেননি –তাঁদের মনে কতটুকুই বা রেখাপাত করবে ১৯৪২ নিয়ে এই সাময়িক মাতামাতি? যারা প্রত্যক্ষ করেছিলেন ১৯৪২এর সেই স্বতঃপ্রবৃত্ত গণবিক্ষোভ আর দাবানলের মত তার ছড়িয়েপড়া, দেশের কোণে কোণে মানুষের মনের আগুন জ্বালিয়ে তোলার ঘটনা,তাঁরাই জানবেন ১৯৪২এর প্রকৃতমর্ম। এমন নজীরবিহীন শক্তিময় গণআন্দোলনের ঢেউ শহরে শহরতলীতে গ্রামেগঞ্জে এতো প্রচন্ড বেগে আছড়ে পড়েছিল যে সেই ঢেউয়ের ঘূর্ণীটানে ইংরেজ শাসনের বুনিয়াদে ফাটল দেখা দিল–নিরস্ত্র জনসাধারণকে শাসনে রাখার জন্য সশস্ত্র গোরাপল্টন বাহিনী আমদানী করতে হয়েছিল বহু সংখ্যায়।বড়লাট লিনলিথগো বিদ্রোহী দমনের জন্য আকাশ থেকে গুলিবর্ষণের হুকুম জারী করেছিলেন।          

আজকের দিন আর সেদিনের জমীন আসমান ফারাক।দেশের তরুণ-সম্প্রদায় তখন স্বাধীন ভারতের যদিচ্ছাচার আদর্শে বুঁদ হয়ে থাকেনি।‘সব মানুষের অধিকার সমান’এই মন্ত্রের মদিরা পান করে আধুনিক যুব-সম্প্রদায় যে স্বার্থময় ভোগ-লালসাবৃত্তিতে গা ঢেলে দিয়েছে তখন তা ছিলোনা।পরাধীন ভারতের নিরন্ন দরিদ্র মানুষের যে মূল্যবোধ ছিলো, দেশপ্রেমের যে দীক্ষা ছিলো স্বাধীন ভারতের শিক্ষা তা ফিরিয়ে দিতে পারেনি।সে সময়ের মানুষ পরাধীনতার গ্লানী থেকে মুক্ত হবার জন্য কায়িক ও মানসিক যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করত। সহিষ্ণু এই জাতটার নিষ্ঠা ছিল, ত্যাগের শক্তি ও সাহস ছিলো আর ছিলো নেতাদের ওপর অখণ্ড বিশ্বাস।কচি বয়স থেকেই দেশের ও দশের প্রতি একাত্মবোধ গড়ে তোলার শিক্ষা দিতে পরিবারের বড়োরা ও স্কুলের শিক্ষক-সম্প্রদায় দ্বিধা করতেন না। এ যুগের ছেলেমেয়েরা এ ধরণের কথাবার্তা বুঝতে পারে কী?

কোথা দিয়ে পঞ্চান্নটা বছর পার হয়ে গেল কিন্তু আজও সেই ৯ই আগস্টও ১১ই আগস্টের মর্মঘাতী ঘটনাবলী ও অকল্পনীয় তাণ্ডব চোখের সামনে যেন স্পষ্ট দেখতে পাই। তখন আমার প্রায় বছর চোদ্দ বয়স, পাটনায় বাঁকীপুর গার্লস স্কুলে নবম শ্রেণীতে পড়ি, থাকি পাটনা সেক্রেটারিয়েটের একেবারে বাঁ পাশে ৮ নং ম্যাংগ্লস রোডে, প্রশস্ত সুন্দর মস্ত হাথাওলা সরকারী বাংলো বাড়ীতে।সামনে কালো পিচের চওড়া রাস্তা এবং তার সামনে বিস্তীর্ণ মাঠ সুদৃশ্য সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংএর বেড়া পর্যন্ত–রাস্তার দু’ধারে আম জাম কাঁঠাল বট অশ্বত্থ গাছের সারি – ঝাঁক ঝাঁক টিয়া পাখী সকাল সন্ধ্যেয় উড়ে যায় ও আসে।ডানদিকে হার্ডিঞ্জ রোডেও ঠিক এমনি পরিচ্ছন্ন সরকারী বাংলোর সারি, সামনে মাঠ।হার্ডিঞ্জ রোড ও ম্যাংগ্লস রোডের সংযোগকেন্দ্র থেকে দুপাশে গাছের সারি সমেত চওড়া মসৃন রাস্তা চলে গেছে সেক্রেটারিয়েটের বিরাট লৌহফটকের ভেতর পর্যন্ত।সমস্ত পরিবেশটি নিয়ন্ত্রিত, গম্ভীর ও শান্তিপূর্ণ। বৃটিশ শাসনের অনুকুল ব্যবস্থা।অথচ ভাগ্যের বিড়ম্বনায় সশস্ত্র ইংরেজ শাসকের বিরুদ্ধে নিরস্ত্র জনতার দুঃসাহসিক অভিযান আর তার রক্তক্ষয়ী পরিণামের সাক্ষ্য এই পথটি ইতিহাসকে দিতে পারে। ১১ই আগস্টের দুপুরে আঠারোটি বলিষ্ঠ তরুণের রক্তে রাঙ্গা হয়ে গিয়েছিল – এই সেই রাস্তা। 

আজকালের মতো তখন টি.ভি. ছিলো না, রেডিও ছিলো, কিন্তু রেডিও পরিবেশিত খবরে ও তথ্যে ঝুড়িপ্রমাণ মিথ্যের সমাবেশ পাওয়া যেত।বাঙ্গালীর গর্ব ও আশা–ভরসার একচ্ছত্র নায়ক সুভাষচন্দ্র শাসকবর্গের চোখে ধুলো দিয়ে দেশত্যাগী হয়েছেন, জাপানের সাহায্যে ইংরেজ শাসন সমূলে উচ্ছেদ করার অসাধ্যসাধন করতে বদ্ধপরিকর। বাড়ীর সবাই মিলে বন্ধ ঘরে সতর্ক গোপনীয়তায় কখনো কদাচ ‘আমি সুভাষ বলছি’ রুদ্ধশ্বাসে শুনতাম। প্রচণ্ড ক্ষোভ ও মনোবেদনা অনুভব করেছি এই ভেবে যে দেশের নেতারা আর আমাদের বড়োরা চেষ্টা করলেই সুভাষের স্বপ্ন সফল হতে পারে, কেন তা করেন না!         

ক্রিপস্ সাহেব কি একটা লাভজনক বোঝাপড়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন তা কার্যকরী হয়নি বলে গান্ধীজী ও অন্য নেতারা ভয়ানক বিক্ষুব্ধ হয়েছেন জেনে আমি ও আমার বন্ধুবর্গ ক্ষুব্ধ হলাম। স্কুলে গরম আলোচনা হোত, রাজনীতি সচেতনতা জাহির করার এমন সুযোগ কি হাতছাড়া করা চলে? সবাই অবশ্য এ রোগে ভুগতো না। সহপাঠী ছাত্রীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ছিল যাদের রক্ত নীল, বৃটিশের তাবড় তাবড় বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের পুত্র-কন্যাকুল। তাচ্ছিল্যভরে আমাদের কথাবার্তা শুনত। একদিন একটি ঊর্দুভাষী মেয়ে নেতাজীকে ‘তোজোকাকুত্তা’ বলে বসল, আমরা তাকে হিড়হিড় করে টেনে ঘরের বাইরে বার করে দিয়েছিলাম traitor নাম দিয়ে আর কখনও তার সঙ্গে কথা বলিনি।

কীভাবে জানিনা কিন্তু বুঝতে পারতাম একটা চাপা অসন্তোষের আগুনে বড়োরা ভেতরে ভেতরে জ্বলছেন।এই পরিস্থিতির মধ্যে গান্ধীজী ‘ভারতছাড়ো’র ঐতিহাসিক ডাক দিলেন আর সেই আন্দোলন সফল করার দায়ভার সমস্ত ভারতবাসীর ওপর ন্যস্ত করলেন ‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’ পণস্বরূপ। এমন বেপরোয়া গণ আন্দোলনের আহ্বান দিলে তার খেসারত যে কারাবাস এ আশঙ্কা নেতাদের নিশ্চয়ই ছিলো।তেমন ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশভক্ত মানুষ পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্ত হবার আপ্রাণ চেষ্টায় আন্দোলন চালিয়ে যাবে এই অধিকার যেন সাধারণ মানুষকে দেওয়া হোল।আশঙ্কা অমূলক হোল না। রাতারাতি সমস্ত কংগ্রেস নেতাদের দূরদূরান্তরের জেলে পুরে ফেলল বৃটিশ সরকার। পুঞ্জীভূত বারুদে সহসা অগ্নিসংযোগ হোল।

৯ই আগস্ট একটি অবিস্মরণীয় দিন। সকালে যথারীতি ১৪নং বাসে স্কুল যাবার পথে দেখলাম জায়গায় জায়গায় উত্তেজিত মানুষের জটলা, তিরঙ্গা পতাকা হাতে কোথায় সব চলেছে। বাঁকীপুর গার্লস স্কুলের সামনে বিখ্যাত গোলঘর আর কাছেই পাটনার ময়দান। লোকেরা ছুটে চলেছে ময়দানে।স্কুল গেটের সামনে অসংখ্য লোক, বড়ো মুস্কিলে একটার পর একটা স্কুলবাস ভেতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে লোহার বিশাল ফটক বন্ধ হয়ে গেল।ভেতরে মাঠে দাঁড়িয়ে প্রিন্সিপাল মিসেস চারুশীলারজা, দু–চারজন টিচারও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। বাস থেকে নামামাত্রই সোজা স্কুলের পেছনে prayer shade  এ সব মেয়েদের যেতে বলছেন।

ওদিকে দোতলার বারান্দায় বড়ো ক্লাসের মেয়েরা পতাকা হাতে আকুল হয়ে সবাইকে ওপরে ডাকছে। তারাদি (তারকেশ্বরী সিনহা্জী) এমনিতেই খদ্দর পরত, সেদিন লালপাড় সাদা খদ্দরের শাড়ী, কেঁদে চোখ–মুখ লাল, ডাকছে ‘চলে আয়, ভয় নেই, করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে, ভারত ছোড়াকে রহেঙ্গে’। ‘বন্দেমাতরম্’ ধ্বনিতে গোলঘর যেন ফেটে পড়ছে। দোতলা থেকে বড়ো মেয়েরা প্রত্যূত্তর দিচ্ছে।শোনামাত্রই এক অদ্ভুত উদ্দীপনায় ভয়ডর উবে গেল। মিসেস রজাকে অগ্রাহ্য করে দুড়দাড় শব্দে আমরা দোতলায় পৌঁছলাম।বড়ো মেয়েরা বলল “নেতাদের বন্দী করে ইংরেজ বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, আমরা তার শোধ নেব, ইংরেজ শাসন চাই না, কেউ ক্লাসে যাব না। Prayer এ দাঁড়িয়ে বন্দেমাতরম বলব, flag pole এ আমাদের পতাকা টাঙ্গাব, সবাই এক সঙ্গে থাকব মনে থাকে যেন”।ঘন্টা বাজল, আমরা দোতলায় পতাকা ধরে দাঁড়িয়ে রইলাম যাতে বাইরে সবাই বুঝতে পারে আমরাও বিক্ষোভকারী। দ্বিতীয় ঘন্টার সঙ্গে আমরা prayer line এ এসে দাঁড়ালাম।প্রত্যেক লাইনের শেষে বড় মেয়েরা দাঁড়াল, হাতে গোটানো পতাকা। তারাদিরা hostel এ থাকতো। কেমন করে এতগুলো পতাকা জড়ো করেছিল কে জানে। মিসেস রজা ভয়ানক শক্ত মেজাজের strict disciplinarian মহিলা যাকে আমরা বাঘের মতো ভয় পেতাম, কঠোর দৃষ্টিতে আমাদের দিকে চেয়ে dias এ দাঁড়িয়ে রইলেন, টিচাররাও উদ্বিগ্ন চোখে আমাদের দেখতে লাগলেন। খানিকক্ষণ স্তব্ধতায় কাটল তারপর তারাদির আওয়াজ “অংগ্রেজ ভারত ছোড়ো, বন্দেমাতরম্”।নিমেষে আমাদের সমবেত কণ্ঠের বন্দেমাতরম ধ্বণিতে চারিদিক ভরে গেল। সে যে কী এক অজানা উত্তেজনা বোঝাতে পারব না। মিসেস রজার মুখ রক্তবরন, আমরা তাঁর চোখের সামনে দিয়ে পতাকা উঁচিয়ে ‘বন্দেমাতরম্’ চেঁচাতে চেঁচাতে বাইরের মাঠে জমা হতে লাগলাম।যে কটি minority community র মেয়ে সেদিন স্কুলেএসেছিল তারা লাইনে দাঁড়িয়ে রইল,আমাদের সঙ্গে যোগ দিল না।

বাইরের মাঠে  Flag Post এ আমাদের পতাকা টাঙ্গানোর বৃথা চেষ্টা দেখে কিছু লোক স্কুলের পাঁচিল টপকে ভেতরে ঢোকার উপক্রম করল।চেঁচামেচি, ছুটোছুটি শুরু হয়ে গেল। হঠাৎ দেখলাম গেট খোলা হচ্ছে আর ঝাঁক ঝাঁক সশস্ত্র পুলিশ নির্দয় হাতে লাঠি চালিয়ে ছেলেগুলোকে আছড়ে ফেলছে। চার গাড়ী পুলিশ স্কুলের মধ্যে ঢুকে এলো। মুখে মুখে কথাটা ছড়িয়ে পড়ল যে তারাদি সমেত আমাদের কয়েকজনকে arrest করে নিয়ে যাবে। কিন্তু টিচাররা পুলিশের হেফাজতে মেয়েদের বাড়ী পৌঁছে দেবার দাবী করছেন।

এতক্ষণ বাইরের কোলাহল কানে আসছিল, এবার তার সঙ্গে প্রাণফাটা আর্তনাদ শুনতে লাগলাম।কী হচ্ছে দেখবার জন্য আবার আমরা ছুটে দোতলায় উঠলাম। যা দেখলাম তাতে বুকের রক্ত হিম হয়ে গেল। লালমুখো mounted police হিংস্র জন্তুর মতোএই জন-সমুদ্রকে  থেঁতলে মাড়িয়ে লোহার গোলা লাগানো চামড়ার বেত ঘোরাতে ঘোরাতে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।রক্তাক্ত মানুষগুলো লুটিয়ে পড়ছে আবার উঠে দাঁড়াবার চেষ্টা করছে, হাত তুলে রুদ্ধকণ্ঠে আবার বলছে ‘ভারত ছোড়ো! বন্দেমাতরম্’।পরে শুনেছিলাম বাঁকীপুর গার্লস স্কুলের সামনে ৯ইআগস্টের বিক্ষোভ দমনকারী প্রথম  mounted police charge. এমন নৃশংস বর্বরতা এর আগে চোখে দেখেনি। দেশপ্রেমের উন্মাদনায় নিরস্ত্র সাধারণ মানুষও মরতে ভয় পায়না, তাও প্রথম দেখলাম। ক্ষোভে, দুঃখে অসহায়তার জ্বালায় অভিভূত হয়ে হাউহাউ করে কাঁদতে লাগলাম আমরা।তারাদিও বাদ গেল না। ঐ অবস্থায় আমাদের বাসে তুলে দেওয়া হল। হিতৈষী টিচাররা বোঝালেন,চারদিকে অশান্তি বাড়ার আগে বাবা-মায়ের কথা ভেবেই আমাদের বাড়ী ফেরা কর্তব্য।

অসংখ্য আহত মানুষের জটলাকে পাশ কাটিয়ে হাঁটা গতিতে বাস আমাদের নিয়ে এগুতে লাগল। বাঁকীপুর ময়দান লোকে লোকারণ্য।এতো মানুষ এলো কোথা হতে?  সাজে পোষাকে প্রস্তুতি কিছু নেই কিন্তু নিঃশঙ্ক মুখের চেহারা।সব রকম নিপীড়নের ঝুঁকি নিয়ে চরম দুঃসাহসে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ দলে দলে চলেছে সেক্রেটারিয়েট অভিমুখে।আরও অনেকটা রাস্তা পার করে হাইকোর্টের মাঠেও দেখলাম সেই গতিবান জনতরঙ্গ আমাদের বাসের সঙ্গে সঙ্গে ম্যাংগ্লস রোডের দিকে ছূটছে। বাসের বন্ধ জানলার ওপর বারবার ঘা দিচ্ছে থামাবার জন্য। সভয়ে দেখলা মদানাপুর cantonment এর দিক থেকে গুর্খা regiment এর mounted police ঝড়ের মতো পাটনা শহরের দিকে ছুটছে।এর আগে লালমুখো গোরা পুলিশ পাটনার গভর্ণমেন্ট হাউসেই মোতায়েন থাকতে দেখেছি, শহরের মধ্যে তাদের দাপিয়ে বেড়ানো এই প্রথম দেখলাম।

 Power House এর ফটকে কনককে নামিয়ে বাস আর এগুতে পারে না, অতি সাবধানে পিঁপড়ে গতিতে রেখাদিকে ও আমাকে বাড়ীর সামনে নামাতে পারলো। বাইরের বারান্দায় উদ্বিগ্ন বাবা-মায়েরা মেয়েদের নিরাপদে বাড়ী ফেরার অপেক্ষায় স্থানুবৎ দাঁড়িয়ে। বোঝা গেল, গেজেটেড অফিসাররা lunch break এ বাড়ী এসে আমরা না ফেরা পর্যন্ত অফিস যেতে পারছেন না! নির্দেশ দিয়ে গেলেন দরজা জানলা বন্ধ করে বাড়ীর ভেতরে থাকতে। গেট খুলে বাইরের লোক হাথার মধ্যে ঢুকে এলেও বাধা না দিতে। জলের কল থেকে তেষ্টা মেটাতে ওরা আসতেই পারে।আর গঙ্গাদা যদি আসে তাকে যেন হোস্টেলে ফিরতে না দেওয়া হয়। ইস্কুল-কলেজ এলাকায় দারুন বিক্ষোভ ক্রমেই বাড়বে।কুকুরটা কে পেছনের বারান্দায় বেঁধে রাখা হয় যেন। তার স্বছন্দ গতিতে বাধা পড়ায় জ্যাক মহা অসন্তুষ্ট, ঘেউ ঘেউ চিৎকারে আমাদের পাগল করে তুলেছিলো।

বাড়ীর সামনে সেক্রেটারিয়েট ঘিরে উত্তাল জনতা পরের দিন সকাল থেকেই বাড়ছে -সেইসহ বাড়ছে জ্যাকের চেঁচানি। আমি, নীলু, দিলু বারবার ওকে কোলে নিয়ে বসে শান্ত করে আসছি, কোঁৎকোঁৎ করে জল খাচ্ছে কিন্তু চেনমুক্ত করছিনা দেখে আবার চেঁচাচ্ছে।গঙ্গাদার খবরও আসেনি এই তিনদিন। শোনা গিয়েছিল আশেপাশের বিক্ষোভীরা জমায়েৎ হয়ে পাটনা আসছে ঢেউয়ের মতো।

সেদিন ১১ই আগস্ট, আশঙ্কায় থমথমে দিন। পুলিশ ও লোকে লোকারণ্য ঐ বিস্তীর্ণ এলাকা। হঠাৎ জ্যাকের চেঁচানি বন্ধ হোল।খড়খড়ির ফাঁক দিয়ে দেখতে পেলাম চেন ছিঁড়ে জ্যাক মরীয়া হয়ে ঘোড়ার পেছনে দৌড়চ্ছে–চাবুক পড়ছে তবু থামেনা। Impulsively কারুকে না বলে পড়িমরি করে গোলযোগের মধ্যেই জ্যাককে ধরে আনতে ছুটলাম। গোরা mounted police সেক্রেটারিয়েটের বিস্তীর্ণ মাঠে বিক্ষোভী জনতার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে–অকথ্য হিংসুক অত্যাচার চালাতে। দু-চারটে ঘোড়া তীব্র চীৎকারে দু’পা তুলে দাঁড়িয়ে পড়ছে, জীবন্ত মানুষ মাড়িয়ে ছুটতে অভ্যস্ত নয় বলে বোধকরি। বুকের কাঁপন ধরানো মানুষের কাতরানি।সপাং সপাং বেতের শব্দ আর সেই বেত দু’হাতে টেনে প্রচন্ড শক্তিতে হিঁচড়ে দু’চারটে পুলিশকে মাটিতে আছড়ে ফেলল উন্মত্ত জনতা, তা-ও দেখতে পেলাম।

জ্যাককে ধরে ফেলেছি ৫নং ম্যাংগ্লস রোডের সামনে, বিশাল দুটো অশ্বত্থগাছের গুঁড়ির মাঝে কে যেন আমাকে টেনে তুলে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল, জ্যাকের গলা জাপটে ধরে ঠকঠক করে কাঁপছিলাম। চারপাশের লোকের চোখে সন্ত্রাসের ছায়া দেখে স্তম্ভিত হলাম।যেন মনে হ’ল দুর্ভেদ্য মানুষের দেওয়াল একটা এগিয়ে আসছে সেক্রেটারিয়েট গেট অভিমুখে, হাতে তিরঙ্গা পতাকা, মুখে ‘বন্দেমাতরম্’ ধীর পায়ে মাথা উঁচু করে হাত ধরাধরি করে বজ্রমুষ্টিতে। চারিদিকে গোরা পুলিশ ব্যাটনের গুঁতোয় জনতাকে আটকাতে চেষ্টা করছে।বড়োসাহেব পুলিশ কমিশনার মুখে চোঙ লাগিয়ে হুকুম দিলেন–‘stop or you will be shot’, রোখ যাও, একদম রোখ যাও’। এই হুঙ্কারে মানুষের দেওয়াল আরো ঠাস, আরো বড়ো হয়ে এগুতে লাগল।গঙ্গাদাও নাকি ছিল দ্বিতীয় সারিতে, আমি তাকে দেখিনি। আবার ‘রোখ যাও ’হুঙ্কার।

হঠাৎ দেখলাম আমার পুরনো বৃদ্ধ গৃহশিক্ষকের মহা ডানপিটে মা-মরা বারো বছরের ছেলে দুর্গাপ্রসন্ন ঊর্ধ্বশ্বাসে এইদিকে ছুটে আসছে ঐ পুলিশের ঘোড়া আর মানুষের ভীড় অগ্রাহ্য করে। এতো লোক বন্দে-মাতরম আওয়াজ তুলে কেন জমা হচ্ছে দেখতে তাকে হবেই, রাস্তার একেবারে ধারের গাছটার মগডালে তরতর করে উঠে গিয়ে বসল দু’পা ঝুলিয়ে।ব্যাকুল চোখে এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে ভয়ার্ত চেহারায় এসে উপস্থিত হলেন বুড়ো পণ্ডিত-মশাই একমাত্র সন্তান দুর্গাপ্রসন্নর খোঁজে, গায়ের ফতুয়াটা ঠিকমত পড়তে পারেননি, ধুতির খানিকটা মাটিতে লুটোচ্ছে।

মানুষের দেওয়ালটা ফুলে ফেঁপে তেমনি এগিয়ে আসছিল।তখনো আমি বুঝতে পারিনি যে সেক্রেটারিয়েট গেটের সামনে রাস্তাটা জুড়ে পরপর সাতজন রাইফেলধারী গুর্খা গুলি চালাবার জন্য সম্পূর্ণ তৈরী হয়ে বসে আছে – শুধু হুকুমের অপেক্ষা।একেবারে চোখের সম্মুখে এই বিষম পরিস্থিতির ভয়াবহতা পণ্ডিতমশাই নিশ্চয়ই আন্দাজ করেছিলেন, তাই গাছে বসা দুর্গাপ্রসন্নকে দেখতে পেয়েই অসহায়ভাবে গাছে চড়ার চেষ্টা করতে লাগলেন।

আবার হুঙ্কার হল ‘This is the last warning to stop!’ মানুষের দেওয়ালটা আরো এক পা এগোলো। হুকুম হোল ‘ FIRE ` – নিমেষের মধ্যে সাতটা বন্দুক গর্জে উঠল। সামনের সারির এগারোটি তরুণ লুটিয়ে পড়ল–শরীরের নীচের ভাগে গুলী লেগেছে।পেছন থেকে ঝাঁপিয়ে এসে সঙ্গীদের রক্তাক্ত দেহ পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে মানুষ ইতঃস্তত বিহ্বল হয়ে ছুটলো। জনতা উন্মত্ত হয়ে আরো এগিয়ে গেল।

দ্বিতীয়বার রিভলভার চালানোর হুকুমের সঙ্গে সঙ্গে দুরন্ত দুর্গাপ্রসন্ন বাপের হাতের মার হতে বাঁচার জন্য মাটিতে লাফিয়ে পড়ল। কিন্তু বাঁচা আর হল না। পাঁজরা ভেদ করে পিঠ দিয়ে গুলীটা বেরিয়ে গেল, ভলক ভলক রক্তের ফোয়ারা ছুটিয়ে দেহটা আছড়ে রাস্তায় পড়ল। শুধু ঐ একটা দুর্গাপ্রসন্নর দেহই নয়, আরো কতগুলো তরতাজা মানুষও গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ল। “দুর্গা,দুর্গারে” বুকফাটা আর্তনাদ করে পণ্ডিতমশাই অচৈতন্য হয়ে পড়ে গেলেন।দরিদ্র ব্রাহ্মণের নির্বোধ বালক দুর্গাপ্রসন্ন বিনা সংগ্রামে শহীদ হয়ে গেল !

মৃত্যু যে এমন অতর্কিত ও নিষ্ঠুর হতে পারে নিজে চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করতাম না।  হাতিয়ারহীন জনসাধারনের ওপর ইংরেজের তাঁবেদারীতে দেশের মানুষ গুলী চালাতে পারে এমন বিশ্বাসঘাতকতা আমার মতোই এ জনতাও আশা করেনি–দু’রাউন্ড গুলী চলা পর্যন্ত বিহ্বল হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল,তখনো হিংসায় উন্মত্ত হয়ে ওঠেনি।

যন্ত্রণাকাতর ঘায়েল মানুষগুলো রক্তে ভেসে যাচ্ছে, তাদের তুলে নিয়ে ছুটোছুটি করে বাংলোগুলোর হাথার ভেতরে এনে বড়ো বড়ো ছেলের দল জল, টিংচার আয়োডিন, তুলো, ছেঁড়া কাপড়ের পটি চেয়ে চেয়ে সাথীদের প্রাণ বাঁচানোর অক্লান্ত চেষ্টা করছে। পরম স্নেহে ছেলেটিকে কোলে নিয়ে বসেছে, তার উষ্ণ রক্তে নিজেও ভিজে যাচ্ছে। গুলী যারা বুক চিতিয়ে নিয়েছিল তারা প্রায় সবাই পাটনার ও আশেপাশের কলেজের ছাত্র ছিল।এতো হত্যা, এতো রক্তপাত দেখে মানুষদের সহ্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেল। ক্ষিপ্ত হিংসুক হয়ে এলোপাথারী মার দিতে শুরু করল পুলিশদের।আবার বন্দুক গর্জে উঠল–তৃতীয় রাউন্ড firing…

নিস্পলক চোখে এতক্ষণ ধরে ভয়াবহ ঘটনাবলী দেখে যাচ্ছিলাম কিন্তু নড়তে পারছিলাম না।এই মর্মন্তুদ দৃশ্যের আকস্মিকতা আমার কিশোরী মনের বোধশক্তি লোপ করে দিলো। ভয়ে ক্লান্তিতে স্থানুবৎ সেই গাছের গুঁড়ির ওপরই দাঁড়িয়ে রইলাম।পাশ দিয়ে দু’জন গুলী লাগা ছেলেকে অন্য কয়েকজন মিলে চ্যাংদোলা করে নিয়ে ছুটছে ৫নংম্যাংগ্লস রোডের দিকে, ফিনকি দিয়ে রক্ত পড়তে পড়তে চলেছে, লাল দাগ টেনে দিয়ে গেল মাঠের ওপারে রাস্তা পেরিয়ে সেই বাংলোর গেট পর্যন্ত। ছেলে দুটো খাবি খাচ্ছিল। আমারও দম বন্ধ হয়ে যাবার জোগাড়।দুটো গাছের মাঝে গড়িয়ে পড়ে গিয়েছিলাম। চতুর্দিকে যেন লঙ্কাকাণ্ড বেঁধে গেল। তারি মধ্যে মৃতকল্প ছেলেগুলোকে নিয়ে লোকে পাগলের মতো ছুটছে ডাক্তারখানার খোঁজে।

 

সৌজন্য: শ্রীমতী রত্নোত্তমা সেনগুপ্ত

Leave a Reply