সংস্কৃতি

কলমচিদের আড্ডাখানায় – ১৩

১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শ্রী কল্যাণ চৌধুরির থিয়েটার রোডের ফ্ল্যাটে প্রত্যেক বুধবার দক্ষিণ কলকাতার সাহিত্যিকরা মিলিত হতেন। এভাবে শুরু হলো বুধসন্ধ্যা। প্রথম সভাপতি শ্রী সাগরময় ঘোষ। সম্পাদক শ্রী সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।কারা কারা বুধসন্ধ্যার সদস্য ছিলেন? সে তালিকাও কম আকর্ষণীয় নয়।সমরেশ বসু, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, তারাপদ রায়, বুদ্ধদেব গুহ, পূর্ণেন্দু পত্রী, দিব্যেন্দু পালিত, শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়, সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত, সুবিনয় রায়, সুরজিত ঘোষ,- এঁরা ছিলেন বুধসন্ধ্যার নিয়মিত সদস্য। ১৯৮৩ সালে রবীন্দ্রসদনে মঞ্চস্থ হয় বুধসন্ধ্যার উদ্যোগে রবীন্দ্রনাথের ‘মুক্তধারা’। মঞ্চ বিন্যাসে পূর্ণেন্দু পত্রী, আবহসঙ্গীতে সুবিনয় রায়, নির্দেশনায় সুরজিত ঘোষ। মঞ্চে অভিনয় করলেন সাগরময় ঘোষ, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব গুহ, শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়, সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত, ডা. ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

বুধসন্ধ্যা থিয়েটার রোড থেকে ভবানীপুরে বিমলচন্দ্র বসাকের বাড়ি স্থানান্তরিত হলো। তারপর নবনীতা দেবসেন, ময়ূখ বসু, স্বপনসাধন বসু, বলরাম চৌধুরী প্রমুখের বাড়ি হয়ে ধ্রুব কুন্ডুর বাড়ি বুধসন্ধ্যার সাপ্তাহিক অধিবেশন বসতো। বুধসন্ধ্যার বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে যে অর্থলাভ হতো তা ব্যয় করা হতো কোনো জনহিতকর কাজে। বুধসন্ধ্যার সাপ্তাহিক প্রতিটি বৈঠকে প্রথম ৪০ মিনিট নির্ধারিত থাকতো গল্পপাঠ, কবিতাপাঠ বা গানের জন্য। কোনো কোনো দিন নানা গুরুগম্ভীর বিষয় নিয়ে উপস্থিত সদস্যরা আলোচনা করতেন। খোলামেলা আড্ডা, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের আড্ডাচ্ছলে গাওয়া গান, ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছড়া, বুদ্ধদেব গুহর গলায় নিধুবাবুর টপ্পা এই আড্ডার আসরকে মাতিয়ে রাখতো।

বুধসন্ধ্যার ইলিশ দুপুর ছিলো বিশেষ আকর্ষণীয়। প্রত্যেক বছর সদস্যদের মধ্যে দুজন একজন একত্রিত হয়ে ইলিশ দুপুর স্পনসর করতেন। যেবার সঙ্গীত শিল্পী সুবিনয় রায় ইলিশ দুপুরের দায়িত্ব নিলেন সেবার ঘটলো এক দারুণ ব্যাপার। ইলিশের নানাবিধ উপভোগ্য পদের ছিলো দেদার আয়োজন। সেদিন নামলো তুমুল বৃষ্টি। শিল্পী সুবিনয় রায় একের পর এক রবীন্দ্রনাথের বর্ষার গান শোনাতে লাগলেন। ১৯৮৯ সালে এক রবিবার ছিলো ১৮ তারিখ। সেদিনের ভোজ উপলক্ষ্যে সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত ও সুরজিত ঘোষ পাঁঠার মাংস খাওয়ানোর ব্যবস্থা করলেন। ছড়াভরা চিঠি গেলো সবার কাছে।

ছড়ায় লেখা ছিলো – “খাওয়া হবে আঠারো/চান্স হলো পাঁঠারও।”

(আগামী পর্বে সমাপ্য)

Leave a Reply