সংস্কৃতি

কলমচিদের আড্ডাখানায় – ৬

(পঞ্চম পর্বের পর)

একবার মিত্র ও ঘোষের দফতরে কাউন্টারে এসে উপস্থিত হলেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।কেমন আছেন জিজ্ঞাসা করলে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলে উঠলেন, – আর কেমন?যে পাবলিশারের কাছেই যাই বলে টাকা পাওনা নেই।তোমরা তো আমার কোনও বইও ছাপাও নি যে টাকা চাইবো।তা এই বই কটা নিয়ে আমায় কমিশন বাবদ দিয়ে দাম দাও তো উপকার হয়।

এই কথা বলে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ঝোলা থেকে কুড়ি কপি ‘ দিবারাত্রির কাব্য’ বের করে দিলেন।ওই বইগুলি তাঁর অথারস কমপ্লিমেন্টারি। যেহেতু মিত্র ও ঘোষ সিগনেট নিউ এজ প্রকাশনা সংস্থার বই রাখেন।অতএব এই বইগুলিও যেন রাখা হয়।দামটা পেলে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় উপকৃত হবেন। তিনি চলে যাওয়ার পরে কর্মচারীরা বলাবলি করলেন যে তাঁর শরীরটা যেহেতু ভেঙে পড়েছে আর বেশীদিন তিনি বাঁচবেন না।এই ঘটনার কিছুকাল পরেই অল্প বয়সে চিরতরে বিদায় নিলেন সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর ফাঁকে ফাঁকেই চলে আসতেন প্রমথনাথ বিশী। তিনি এই আড্ডার অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন।আড্ডার আসরে একবার একজন ভদ্রলোক প্রমথনাথকে জিজ্ঞাসা করলেন, – আপনি গান গাইতে জানেন?
– কেন? প্রমথনাথ জানতে চাইলেন
তখন সেই ভদ্রলোক বলে উঠলেন,
– আপনি এতদিন শান্তিনিকেতনে ছিলেন আর গান জানেন না?
– আপনি এরোপ্লেন চালাতে জানেন?প্রমথনাথ ঘুরিয়ে প্রশ্ন করলেন তাঁকে।ভদ্রলোক প্রশ্ন শুনে বেশ অবাক।
– সে কি?আপনি এয়ারপোর্টের এত কাছে থাকতে পারেন আর এরোপ্লেন চালাতে জানেন না?
প্রমথনাথ বিশীর এই উত্তর শুনে উপস্থিত সকলে হো হো করে হেসে উঠলেন।

মিত্র ও ঘোষের দরবারে আসতেন অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত। তিনি শ্রীশ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব ও জননী সারদামণির কথা বারংবার আনতেন তাঁর লেখায় ও কথায়।সেই অচিন্ত্যকুমারকে নিয়ে মাঝে মাঝে হাসি তামাশা হতো।সদালাপী অচিন্ত্যকুমার জবাব দিতেন, “একসময়ে ইউরোপের সব রাস্তা রোমে যেত, আমার এখন সব আলোচনা ঠাকুর ও শ্রী শ্রী মায়ের বিষয়ে পৌঁছে যায়”। মিত্র ও ঘোষের প্রকাশনা সংস্থায় ১ বৈশাখের দিন একটি খেরোর খাতা রাখা থাকতো।সেই খাতায় এসব আড্ডাধারী কলমচিরা কিছু না কিছু লিখে যেতেন।এই খাতায় অচিন্ত্যকুমার লিখেছিলেন,
” জীবন যখন তৃষ্ণাকাতর কিংবা বীততৃষ্ণ
স্মরণ কর শরণালয় ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ”।

 

(ক্রমশ)

Leave a Reply