আঙিনা

লৌকিক বাংলার লুপ্ত প্রবাদ –

১) বৈদ্যের বড়ি, ছুঁলে কড়ি।

(কবিরাজের বড়ি খাওয়া হোক বা না হোক তা স্পর্শ করিলেই পয়সা দিতে হয়)

২) আগে পিছে লণ্ঠন
    কাজের বেলায় ঠনঠন।
(আড়ম্বর ও আয়োজনে বাড়াবাড়ি
কাজের বেলায় ফাঁকি)

৩) তুলনা কর অসির
     ধার বড় মসির
(তলোয়ারের চেয়ে কলমের ধার অনেক বেশি, তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধ জয় হয়তো সম্ভব কিন্তু পরিবর্তে হয় এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, তাতে থাকে হিংসা রক্ত দুঃখ সংগ্রাম অত্যাচার। কিন্তু লেখকের কলম অনেক বেশি শক্তিশালী। তা দিয়ে সমাজের যে পরিবর্তন করা যায় তাতে কোন রক্ত দুঃখ হিংসা থাকে না। কলম দিয়ে যে পরিবর্তন হয় তা স্থায়ী, সেই পরিবর্তন হয় মানুষের মন থেকে, তাদের বোঝার ক্ষমতা থেকে)

৪) খাওয়াবে হাতির ভোগে
    দেখিবে বাঘের চোখে

(ছেলেকে ভালোবেসে ভালো করে খাওয়াবে
কিন্তু প্রশ্রয় দেবে না. সর্বদা কঠোর শাসন করবে)

৫) ক্ষেতের চাষে
       দুঃখ নাশে

(চাষের কাজে দুঃখ দূর হয়)

৬) কে আছো পুটন্তি
     স্নান করগে রটন্তী

(রটন্তী চতুর্দশীতে এই স্নান
এই স্নানে পুত্রের কক্যান হয়)

৭) ধনীর চিন্তা ধন ধন
    নিরেনব্বই এর ধাক্কা
   যোগীর চিন্তা জগন্নাথ
   ফকিরের চিন্তা মক্কা

( যার যাতে অনুরাগ সে তার চিন্তা করে)

৮) হেসে চাকি বসে পাটে
     সে বছর শস্য না মোটে

(যে বছর আষাঢ় মাসে অস্তগামী সূর্য হেসে পাটে বসে,
সে বছর শস্য জন্মায় না)

৯) পূর্ণ আষাঢ়ে দক্ষিণা বয়
    সেই বৎসর বন্যা হয়

(সারা আষাঢ় মাস ধরে দক্ষিণা বাতাস বইলে
সেই বৎসর বন্যা হবেই হবে)

১০) শাওনের পান রাবণে না খায়

(শ্রাবণ মাসে পান গাছ লাগালে, সেই পান
রাক্ষসেও খেয়ে শেষ করতে পারে না)

১১) ক্ষেতের কোনা, বাণিজ্যের সোনা

(কৃষিকাজ বাণিজ্যের থেকেও ভালো)

১২) ভাই বড় ধন রক্তের বাঁধন
      যদিও পৃথক হয় নারীর কারণ

(নারীর কারণে নিজের রক্তের সম্পর্কের ভাইও পর হয়ে যায়)

১৩) দুগ্ধ শ্রম গঙ্গাকরি
      এই তিন উপকারী

(দুধ শারীরিক শ্রম এবং স্রোতস্বিনী নারী স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী)

১৪) যথা যায় গোপাল
     সঙ্গে যাবে কপাল

(ভাগ্য চিরসঙ্গী)

১৫) উড়কি ধানের মুড়কি দেবো
       সরু ধানের চিঁড়ে

(অস্তিত্বহীন বস্তু, কল্পিত সুস্বাদু খাদ্যদ্রব্য)

১৬) চুন খেলে গাল পোড়ে
       দই দেখলে ভয় করে

(অতীত অভিজ্ঞতা থেকে ভ্রান্তি ভয় কিংবা ভীতি – পূর্বে ক্ষতির শিকার হওয়া ব্যক্তি সব সময় আতংকগ্রস্থ থাকে, যে কাজ একবার করে যে ব্যক্তি ঠকেছে সে দ্বিতীয়বার সেই কাজ করতে চাইবে না)