আঙিনাসংস্কৃতি

প্রবাদ প্রবচন

১। আদরের মধু গড়াগড়ি খায়,
অনাদরের মধু দুধে ভাতে খায়
(ভাগ্যের ফেরে আদরের দুলালও ভূলুণ্ঠিত হয়,আবার অনাদরে অবহেলায় বেড়ে ওঠা কেউ কত আয়াসে থাকে)

২।আষাঢ় মাসের বেলা
যত করবে হেলা,
তত বাড়বে বেলা।
( আষাঢ় মাসের বেলা এতটাই বড় যে তাকে হেলায় বইয়ে দিলেও সে আরও বাড়ে)

৩।আগে খেস
তারপর দরবেশ
(দানধ্যান যাই করো,আগে নিজের আত্মীয় স্বজন,পরে ফকির দরবেশের কথা ভাববে)

৪।রাজার লগনে পুঁটির বে
(কোনো একটা বড় কাজের সঙ্গে হয়ে যাওয়া ছোট কাজ।অর্থাৎ বড়লোক বাড়ির ছেলের বিয়ের জন্য প্যাণ্ডেল হয়েছে আগে থেকে,সেই প্যাণ্ডেলেই পাড়ার কোন দুঃস্থ মানুষের মেয়ের স্বল্প আয়োজনে বিয়েটাও সারা হল)

৫।এক বেরে বৌ তুমি হেলাফেলা
দোজবেরে বৌ,তুমি গলার মালা
তেজবেরে বৌ তুমি কেঁদো না,
চাল ভিজিয়ে খাব আমি,তুমি রেঁধো না
( প্রথম বৌ কে অবজ্ঞার পাত্র বলে ধরেই নেওয়া।সে চলে গেলে খানিক শিক্ষা হল;ফলে পরের জনকে খুব আদরে গলার মালা করে রাখা হল,সেও যদি গিয়ে তৃতীয়বার বৌ আনা হয় তবে,তাকে রাঁধতে না দিয়ে ভেজা চালও ভাত ব’লে খেয়ে নেওয়া যায়)

৬।লুচিমণ্ডা ভেসে গেল
কুতরা গুড়ের আদর হল
( নিজের আত্মীয় পরিজনদের চিনতে পারে না,অথচ কোথাকার কোন অজ্ঞাতকুলশীল রাম শ্যাম যদু গোত্রীয় লোককে মাথায় তুলে নাচানো)

৭।পরের নেই দয়া
আন্নির নেই স্বাদ
(আলোনা খাবারের যেমন কোনোভাবেই স্বাদ হয় না, তেমনই অপর লোকে কখনোই তোনার জন্য দয়াপরবশ হবে না)

৮।কেউ ভেনে কুটে মরে
কেউ ফুঁ দিয়ে গালে ভরে
( কেউ প্রাণপাত পরিশ্রমে কোনো কিছু সৃষ্টি করে,কেউ ফোকটে তার ফলভোগ করে)

৯। চিঁড়ের বিশ ফের
(কোনো কাজে চিঁড়ে তৈরির মতন হাজার প্রক্রিয়া বোঝাতে)

১০।মা পায় না সুতো
ছেলের পায়ে চোদ্দ শিকের জুতো
(যে মা তার সবটুকু নিঃশেষ করে দেয় ছেলের বাবুয়ানি বজায় রাখতে)

১১।বল বুদ্ধি ভরসা
চল্লিশ হলেই ফরসা
(চল্লিশ পেরোলেই কমতে থাকে কর্মক্ষমতা)

১২।ঘুঁটে কুড়োলে মুটের বোঝা
(স্বল্প থেকেই অনেক হয়)

১৩। ভাদরের বেলা আদরে যায়
(ছোট বেলা দেখতে দেখতেই চলে যায়)

১৪। তুলে ধরতে গলে পড়ে
( অতীব আহ্লাদী)

১৫।যার জন্যে মন কাঁদে
বীজধান কুটে ভাত রাঁধে
(টান থাকলে তার জন্য শেষ সম্বলটুকুও দিয়ে দেওয়া যায়)

১৬। যে শক্ত তার তিনকূল মুক্ত
(শক্ত,বলিষ্ঠ মানুষের সবদিকেই ঠিক থাকে)

১৭। সাপ হয়ে কামড়ায়
ওঝা হয়ে ঝাড়ে
(বিপদ ডাকে যে,সেই আবার সাহায্যকারী সাজে)

১৮। যে চালে নাড়া আছে
সে চালে চড়ুই বসে
(যে চালে ছাওয়া খড়ের মধ্যে ধানশুদ্ধ আঁটি থাকে,সেখানেই পাখি বসে)

১৯। কানা খোঁড়া
হেঁসেল জোড়া
(শূন্য থাকার চেয়ে হেঁসেল যেমন তেমন জিনিষে ভর্তি থাকাও ভাল)

 

(ক্রমশ)

Leave a Reply