আঙিনা

প্রবাদ প্রবচন

 

১. মাথায় রাখলে উকুনে খায়
পায়ে রাখলে পিঁপড়েয় খায়

এতই আদরের যে, তাকে মাথায় রাখতেও ভয়,পায়ে রাখতেও ভাবনা।

২. বাপ বেটা বরিতি
মা বেটি এয়োতি

যে বিয়েতে বাড়ির বাপ ব্যাটা মিলেই বরযাত্রী হয়ে যায় আর মা মেয়ে মিলে এয়োস্ত্রী হয়ে কাজ সেরে ফেলে।অর্থাৎ নিজেদের পরিবারের মধ্যেই কোন কাজ চুপচাপ সেরে ফেলা বাইরের কাউকে জানতে না দিয়ে। এখানে ‘বরিতি’ মানে বরযাত্রী।

৩.কাছে এলে কামড়ায়
দুরে গেলে হামড়ায়

সম্পর্কের নৈকট্য থাকলে ঠোকাঠুকি হয়/ আবার দুরে গেলে মনে হয় ‘কাছে থাকলেই ভাল হত।আমার লোকবল হত’ ইত্যাদি।

৪.শুধু কথায় চিঁড়ে ভেজে না-

দক্ষিণা ছাড়া কোনো কিছুই হওয়া সম্ভব নয়।

৫. মা’র মুখ,খোদার তাবুক-

ঈশ্বর নির্দেশের মতই অমোঘ হয় মায়ের মুখের কথা।

৬.চললে চল্লিশ বুদ্ধি
না চললে হতবুদ্ধি-

সচল,কর্মময় থাকলেই বুদ্ধি আসে।মানুষ কাজ থেকে স’রে গেলেই তার বুদ্ধিও জড়ত্ব প্রাপ্ত হয়।

৭.খাটো খাটো গতর তোমার
সোনার মত জ্বলবে
রাখ রাখ গতর তোমার
রাং গলনে গলবে

পরিশ্রমের বিকল্প নেই।পরিশ্রমেই শরীর ভাল থাকে।তার জেল্লা বাড়ে।আর শুয়ে ব’সে থাকলেই দেহে রোগিব্যাধির আখড়া তৈরি হয়

৮.ছেঁড়া বিছানা উকু মাথা
দুঃখ বলে যাব কোথা

নিজের শরীর ও বসবাস পরিচ্ছন্ন, পরিপাটী না রাখলে দুঃখ,দুর্দশা আপনিই আসে।

৯.একা মলে হয় না
দোসরে ছুঁলে হয়

একজন প্রাণপাত ক’রেও যে কাজ হয় না, দুজন হলে হাত লাগানো মাত্রই সে কাজ হয়ে যায়।

১০. পেটের চামড়া পিঠে আসে না।

পর কখনও আপন হয় না

১১.লোক বুঝে কও কথা
নাপিত বুঝে মুড়োও মাথা

সঠিক নাপিতের লাছে না গেলে ক্ষুরচালনে যেমন মাথা কাটতে পারে,তেমনি, যার তার কাছে মুখ খুললেও সমূহ বিপদ।

১২.কানা বক শুকনো গেড়ে
খাও না খাও আছেই পড়ে

বিপদে আপদে যে সবসময় পাশে থাকে। গেড়ে মানে পুকুর।কানা বক খাবার পাক না পাক,সেখানেই পড়ে থাকে,কারণ সে জানে সেই পুকুরই তাকে ঠাঁই দেবে। অন্যত্র গেলে সে হোঁচট খাবে ঠোক্কর খাবে।

১৩.আটে কাটে দড়
ঘোড়ার ওপর চড়

মনপ্রাণ দিয়ে কাজ কর।চটপটে হও।

১৪.ভালমানুষের বাপ
আঁটকুড়ো

সন্তান প্রসবে অক্ষম পিতার মতই জগতে ভালমানুষের উপস্থিতিও বিরল।

১৫.বেটার ভাত গোনে
জামাইয়ের ভাত কোণে

ছেলের ওপর নিজের জোর থাকে। সর্বসমক্ষে (গোনে) গর্ব ক’রে তার অন্ন গ্রহণ করা যায়।কিন্তু,জামাইয়ের কাছে কুণ্ঠিত থাকতে হয়।তাই তার দেওয়া ভাত কোণে লুকিয়ে খেতে হয়। 

 

(ক্রমশ)

 

 

Leave a Reply