আঙিনাশাশ্বত সনাতন

কিন্নৌর কৈলাশ॥ এক অধুরী কাহানী – ভ্রমণ কাহিনী

– শ্রী সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়

 

০১/০৭/২০১৫ –

অবশেষে দেরাদুন এসে পৌঁছলাম সকাল সাড়ে ৮টায়। ওখান থেকে অটোতে যোগীওয়ালা অলকনন্দা এনক্লেভ। আমার বন্ধুর ডেরা।ও অফিস বেরচ্ছিল।আমি স্নান সেরে পুজো করে ভাত বেগুনভাজা আর করলা দিয়ে মুগের ডাল বানিয়ে খেলাম। এখন বিশ্রাম। রাত ১২টায় বাস টু সিমলা।ঘুম পাচ্ছে। গত দুটো রাত ট্রেনে ভাল ঘুম হয়নি। আগামী ১৯টা রাতও হয়তো ভাল ঘুম হবে না। দেখা যাক নিদ্রাদেবীর কী ইচ্ছা।

০২/০৭/২০১৫ –

গতকাল সিদ্ধার্থ আমার পথচলার বন্ধু ভাইটি খবর নিল যে থাংলিংয়ের ওপরে সেরকম কোনো থাকার জায়গা নেই.. সেক্ষেত্রে টেন্টেই থাকতে হবে। টেন্ট ভাড়া করতে গেলে প্রতিদিন @৩০০/- হিসাবে প্রায় ৩০০০ টাকার ধাক্কা। better to buy a tent… বিকেল ৫টা নাগাদ আমরা বেরোলাম টেন্ট কিনতে। দেরাদুনের পল্টন বাজার ট্রেকিং গুডস কেনার একটা বড় মার্কেট। সেখানে দেখতে গিয়ে বৃষ্টির কবলে পড়ে গেলাম। ক্ষিদেও পেয়েছিল। একটা “বন টিক্কি”র দোকানে দাঁড়িয়ে বন খেলাম। ভালই লাগল। একটা বন কেটে (বার্গারের মত) তার মধ্যে একটা আলুর টিক্কি, পুদিনার চাটনি, পেঁয়াজ, টক দৈ বা ক্রিম দিয়ে হালকা ভাজা। ২০টাকা নিল। খাওয়া তো হল..বৃষ্টি ধরলো না। টাইম চলে যাচ্ছে.. আর আমাদের চিন্তা বাড়ছে। টেন্ট নিয়ে গিয়ে প্যাকিং করতে হবে…খেতে হবে..রাত ১২টার বাস.. হরিদ্বার থেকে সারহান যাবে। সময়মত পেতে হবে। একটা গাড়ী ঠিক করতে হবে। যোগীওয়ালা থেকে ISBT প্রায় ১০-১২ কি.মি ইত্যাদি। চিন্তা…চিন্তা.. বৃষ্টি হয়েই চলেছে..থামার নাম নেই। যাইহোক, বৃষ্টি কমতে আমরা একটা টেন্ট ম্যাট আর প্লাস্টিক কিনলাম। রুমে ফিরতে রাত ৯.৩০।

এসেই তাড়াতাড়ি একটু ভাত আর তরকারী বানালাম। ডালটায় একটু গরম জল অ্যাড করে বানিয়ে নিলাম। তারপর প্যাকিং করতে বসলাম। ওদিকে একটা অটোওয়ালা করনকে বলেছিলাম ১১টায় আসতে। আমাদের প্যাকিং হচ্ছে তো হচ্ছেই শেষ আর হয়না। ১১টায় অটোওয়ালা ফোন করতে শুরু করেছে.. আমাদের খাওয়া হয়নি তখনও। আমাদের ISBT পৌঁছতে হবে…রাত ১২টায় বাস। কি করি? কি করি? ১১.১৫ এর মধ্যে তিনবার করন অটোওয়ালার ফোন হয়ে গেছে… উফফ।
অতঃপর আমাদের যাত্রা শুরু হল। দেরাদুন ISBT থেকে বাস চণ্ডীগড়..ওখান থেকে সিমলার বাস।

একচুয়েলি গতকাল আমরা বেরোতে পারিনি। নাকে মুখে কোনোরকমে গুঁজে আদ্ধেক ভাত কুকুরকে দিয়ে তাড়াহুড়ো করে ১১.৪০এ বেরোলাম। সিধু ঘরের আলো নিভিয়ে দরজা আর বাড়ির মেন গেট বন্ধ করে বেরোতে পৌনে বারোটা…অটোওয়ালা করন এক গলা খেয়ে আমাদের ঘর থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে দাঁড়িয়ে.. আমাদের পিঠে প্রায় ২০-২২কেজির স্যাক। এতটা হেঁটে অটোর কাছে পৌঁছানো। ঝামেলা দেরী হওয়ার জন্য। মানে উৎকন্ঠা বাস বোধহয় মিস করলাম। মাঝরাস্তায় সিধু বলল ও একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ মহার্ঘ বস্তু ফেলে এসেছে যেটা না নিলে ওর মন খুব অশান্ত হচ্ছে। আমিও জানি ঐ অত্যন্ত সংবেদনশীল বস্তুর কথা। পরে বলব ঐ প্রসঙ্গে।

 

(ক্রমশঃ)

 

(লেখক পরিচিতি – বিশিষ্ট জ্যোতিষী; একাগ্র পান্থ)

Comment here