তর্পণে প্রণত মসীশাশ্বত সনাতন

পঞ্চমহাযজ্ঞ : হিন্দু জীবন দৃষ্টি

-শ্রী রাকেশ দাশ

প্রত্যেক হিন্দুর নিত্য আচরণীয় কিছু কর্তব্য শাস্ত্র কর্তৃক নির্ধারিত। আমরা সাংসারিক প্রপঞ্চে বিভিন্ন বস্তু, ব্যক্তি দ্বারা প্রতিনিয়ত উপকৃত হই। প্রতিদানে পবিত্র ভাবে জীবন যাপনের মাধ্যমে সংসারের উপকার সাধন আমাদের মৌলিক কর্তব্য। প্রকৃতি আমাদেরকে জীবনধারণের উপযোগী সাধন প্রদান করে। আমাদের সভ্যতা জীবনকে সঠিক পথে চালিত করার দিশা নির্দেশ করে। জ্ঞান আহরণ, সংরক্ষণ ও বিতরণের মাধ্যমে আমাদের পরম্পরা জীবনের গতিকে সুনিশ্চিত করে।

সভ্যতা, সংস্কৃতি, পরম্পরার অভাব আমাদের জীবনকে দুঃখে নিমজ্জিত করতে পারে। সেজন্য প্রত্যেক সুসভ্য, চিন্তাশীল, সচেতন মানুষের পক্ষে এই সভ্যতার ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কর্তব্য। হিন্দু সভ্যতা জগৎকে আধ্যাত্মিক, আধিদৈবিক, আধিভৌতিক– এই তিন দৃষ্টিকোণ দিয়ে বিচার করে। আমাদের সভ্যতা আমাদেরকে শেখায়— তেন ত্যক্তেন ভুঞ্জীথাঃ মা গৃধঃ কস্যস্বিদ্ ধনম্ (ঈশোপনিষৎ)— ত্যাগ করার পরে ভোগ কর, কারও সম্পদ অপহরণ কর না। এই উচ্চ ভাবের প্রায়োগিক রূপ যজ্ঞ। যজ্ঞে যজমান নিজের আহৃত সম্পদ সমর্পণ করে। প্রত্যেক ব্যক্তিরই এই যজ্ঞচক্রকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়া কর্তব্য।

শাস্ত্র প্রত্যেকের জন্য অবশ্যকরণীয় পাঁচটি যজ্ঞের নির্দেশ করেছেন। এই পাঁচটি যজ্ঞকে একত্রে পঞ্চ মহাযজ্ঞ বলা হয়। এই পাঁচটি মহাযজ্ঞ হল— (১) ব্রহ্মযজ্ঞ, (২) পিতৃযজ্ঞ, (৩) দৈবযজ্ঞ, (৪) ভৌতযজ্ঞ, (৫) নৃযজ্ঞ বা মনুষ্যযজ্ঞ। বৈদিক সাহিত্যে বিভিন্ন ব্রাহ্মণে, বিভিন্ন ধর্মসূত্রে এবং গৃহ্যসূত্রে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিত্য করণীয় কর্ম রূপে পঞ্চ মহাযজ্ঞের অবশ্যকর্তব্যতা, তাৎপর্য এবং প্রক্রিয়ার বর্ণনা রয়েছে।

এই প্রসঙ্গে স্মৃতিকার মনু একটি গভীর দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করেছেন। তাঁর মতে—
পঞ্চসূনা গৃহস্থস্য চুল্লীপেষণ্যুপস্করঃ।
কণ্ডনী চোদকুম্ভশ্চ বধ্যতে যাস্তু বাহয়ন্॥ (মনুস্মৃতি ৩/৬৮)
গৃহস্থের গৃহে পাঁচটি সূনা বর্তমান। এই পঞ্চ সূনা হল চুল্লী, পেষণী, উপস্কর, কণ্ডনী এবং জলকুম্ভ। এর দ্বারা প্রাণিবধ হয়।

যেখানে প্রাণীকে হত্যা করে তার মাংস কেটে বিক্রয় করা হয় তাকে সূনা বলা হয়— সোজা কথায় মাংসের দোকানে মাংস কাটার জায়গা। সূনা প্রাণিহত্যাজনিত পাপের আগার। গৃহস্থের গৃহেও পাঁচটি বস্তু সূনার সমান। কারণ এই পাঁচটি বস্তু প্রাণ ধ্বংস করে। এগুলি হল চুল্লী (উনোন), পেষণী (শিল নোড়া), উপস্কর (বাসন, ঝাঁটা প্রভৃতি ঘরকন্নার আবশ্যক সামগ্রী), কণ্ডনী (ঢেঁকি, হামানদিস্তা), কুম্ভ (জলের পাত্র)। 

মনুস্মৃতির টীকাকাররা এই বিষয়টির বিস্তৃত বিবরণ দিতে গিয়ে বলছেন, চুল্লীতে বিভিন্ন শস্য পাক করা হয় যাদের মধ্যে নতুন প্রাণ সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। শিলনোড়া দিয়ে সেইরকমই প্রাণ সৃষ্টির সম্ভাবনা সম্পন্ন শস্য বা বীজকে পেষণ করা হয়। বাসনে তাদেরকে রান্না করা হয়, ঝাঁটা প্রভৃতির প্রয়োগে পিঁপড়ে প্রভৃতি ক্ষুদ্র প্রাণীর প্রাণনাশ হয়। ঢেঁকি বা হামানদিস্তাতে বিভিন্ন বীজের খোলা ছাড়িয়ে ফেলে তাদের প্রাণ সৃষ্টির সম্ভাবনা নষ্ট করা হয়। জলের পাত্র জলজ প্রাণকে ধ্বংস করে।

এই সমস্ত উপকরণ ব্যতীত আমাদের জীবন ধারণ অসম্ভব। কিন্তু, এই সমস্ত বস্তুর প্রয়োগের কারণে অন্য জীবের যে কষ্ট উৎপন্ন হয় তাতে আমরা পাপে নিমগ্ন হই। এই অনিবার্য পাপের প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ প্রতিদিন গৃহস্থকে পাঁচটি মহাযজ্ঞ পালন করতে হয়। ঋষিরা পাপমুক্তির উপায় স্বরূপ এই পাঁচটি মহাযজ্ঞকেই নির্দেশ করেছেন।

মনু বলছেন—
অধ্যাপনং ব্রহ্মযজ্ঞঃ পিতৃযজ্ঞস্তু তর্পণম্।
হোমো দৈবো বলির্ভৌতো নৃযজ্ঞোতিথিসেবনম্॥ (মনুস্মৃতি ৩/৭০)
অনুবাদ— এই পাঁচটি যজ্ঞ বা মহাযজ্ঞ হল ব্রহ্মযজ্ঞ (অধ্যাপনা বা বিদ্যার প্রসার), পিতৃযজ্ঞ (তর্পণ), দৈবযজ্ঞ (হোম), ভৌতযজ্ঞ (পশুদের জন্য খাদ্যাদি প্রদান), নৃযজ্ঞ বা মনুষ্যযজ্ঞ (অতিথিসেবা)।

তৈত্তিরীয় আরণ্যকের দ্বিতীয় প্রপাঠকের দশম অনুবাকে পঞ্চ মহাযজ্ঞের বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়। পঞ্চ বা এতে মহাযজ্ঞাঃ সততি প্রতায়ন্তে সততি সন্তিষ্ঠন্তে দেবযজ্ঞঃ পিতৃযজ্ঞো ভূতযজ্ঞো মনুষ্যযজ্ঞো ব্রহ্মযজ্ঞ ইতি। যদ্ অগ্নৌ জুহোত্যপি সমিধং তদ্ দেবযজ্ঞঃ সন্তিষ্ঠতে। যৎপিতৃভ্যঃ স্বধা করোত্যপস্তৎ পিতৃযজ্ঞঃ সন্তিষ্ঠতে। যদ্ ভূতেভ্যো বলিং হরতি তদ্ ভূতযজ্ঞঃ সন্তিষ্ঠতে। যদ্ ব্রাহ্মণেভ্যোঽন্নং দদাতি তন্মনুষ্যযজ্ঞঃ সন্তিষ্ঠতে। যৎ স্বাধ্যায়ম্ অধীয়ীতৈকামপ্যৃচং যজুঃ সাম বা তদ্ ব্রহ্মযজ্ঞঃ সন্তিষ্ঠতে।

অনুবাদ— দেবযজ্ঞ, পিতৃযজ্ঞ, ভূতযজ্ঞ, মনুষ্যযজ্ঞ এবং ব্রহ্মযজ্ঞ এই পাঁচটি মহাযজ্ঞ প্রতিদিন অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই দিনেই তার সমাপ্তি ঘটে। (অর্থাৎ একদিনে আচরিত হলে পরের দিনে প্রভাবহীন হয়ে পড়ে)। অগ্নিতে সমিধ্ আহুতি দিলে দেবযজ্ঞ সম্পন্ন হয়। পিতৃগণের উদ্দেশ্যে স্বধা মন্ত্রে জল প্রদান করলে পিতৃযজ্ঞ সম্পন্ন হয়। প্রাণিকুলের উদ্দেশ্যে বলি (প্রিয়দ্রব্য) দিলে ভূতযজ্ঞ সম্পন্ন হয়। কমপক্ষে তিনজন ব্রাহ্মণকে অন্ন প্রদান করলে মনুষ্যযজ্ঞ সম্পন্ন হয়। স্বাধ্যায় অধ্যয়ন করলে কমপক্ষে একটিও ঋক্, যজু বা সাম অধ্যয়ন করলে ব্রহ্মযজ্ঞ সম্পন্ন হয়। (অনুবাদ সায়ণ ভাষ্য অনুসারী)

তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ছাড়াও শতপথ ব্রাহ্মণের একাদশ কাণ্ডের পঞ্চম অধ্যায়ের ষষ্ঠ ব্রাহ্মণে পঞ্চ মহাযজ্ঞের বর্ণনা রয়েছে।

তৈত্তিরীয় আরণ্যকে কেবল পঞ্চ মহাযজ্ঞের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এখানে পঞ্চ মহাযজ্ঞের ক্রম উপদিষ্ট নয়। অর্থাৎ, যে ক্রমে পঞ্চ মহাযজ্ঞ বলা হয়েছে সেই ক্রমে এগুলি পালনীয় নয়। নিত্য সন্ধ্যা আহ্নিক সমাপনান্তে প্রথমেই আচরণীয় ব্রহ্মযজ্ঞ। এর পরে দৈবযজ্ঞ, তার পরে পিতৃযজ্ঞ, তার পরে ভূতযজ্ঞ এবং শেষে মনুষ্যযজ্ঞ করা হয়ে থাকে।

নিজের অধীত বিদ্যা— তার পরিমাণ যতটুকুই হোক— প্রতিদিন চর্চা করা এবং সেটা অপরকে শেখানো প্রয়াস করা প্রত্যেক গৃহস্থের কর্তব্য। সেই সঙ্গে সদ্গ্রন্থাদি পাঠ, আলোচনা করা এবং অন্যকে উৎসাহিত করা। একেই ব্রহ্মযজ্ঞ বলা হয়। ব্রহ্মযজ্ঞ আমাদের জ্ঞানপরম্পরার প্রতি শ্রদ্ধা জাগায়, জ্ঞানপরম্পরার ধারাবাহিক গতিকে অক্ষুণ্ণ রাখে। জ্ঞানীর সম্মান করতে শেখায়।

দৈবযজ্ঞ হল দেবতার আরাধনা। যে সমস্ত পাঞ্চভৌতিক বস্তু আমাদের জীবনধারণের সহায় তাদের সকলকেই আধিদৈবিক দৃষ্টিতে চেতনার অধিষ্ঠান রূপে কল্পনা করা হয়। সেই চেতনাকে দেবতা রূপে আরাধনা করা হয়। আরাধনা পূর্বকালে হোম রূপে করা হত। বর্তমানে সেই পদ্ধতি বদলেছে। কিন্তু মূল ভাবটি একই রয়েছে। দেবতার আরাধনা হল দৈবযজ্ঞ।

পিতৃযজ্ঞ আমাদের পূর্বপুরুষদের, আমাদের শ্রেষ্ঠ সভ্যতার প্রতি স্বাভিমান, গৌরব অর্জন করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন জীবিত পিতামাতার সেবা এবং তাঁদের শরীর চলে যাওয়ার পরে প্রতিদিন তাঁদের উদ্দেশ্য প্রতিদিন পিণ্ডদান করাই পিতৃযজ্ঞ। প্রতিদিন পিণ্ডদান সম্ভব না হলে অন্ততঃ পক্ষে স্বধা মন্ত্র উচ্চারণ পূর্বক তিলোদক (তিলমিশ্রিত জল) প্রদান করাকে তর্পণ বলা হয়। তর্পণই হল পিতৃযজ্ঞ। তর্পণক্রিয়াতে যাঁরা গত হয়েছেন এমন ঊর্ধ্বতন তিন পক্ষের তিন পুরুষকে স্মরণ করে তিলোদক নিবেদন করা হয়। তিন পক্ষ হল পিতৃপক্ষ (পিতা, পিতামহ, প্রপিতামহ), মাতৃপক্ষ (মাতা, পিতামহী, প্রপিতামহী; মাতা জীবিত থাকলে পিতামহী থেকে ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ), মাতামহপক্ষ (মাতামহ, প্রমাতামহ, বৃদ্ধপ্রমাতামহ)। এঁদেরকে ছাড়াও শ্বশুরকুল, নিজ বংশের অন্যান্য মৃত ব্যক্তি, পিতৃদেবতাগণ, ঋষিগণ, যম, ভীষ্ম প্রভৃতির উদ্দেশ্যেও জল প্রদান করা হয়। যাঁদের কুলে কেউ নেই, যাঁদের মৃত্যুর পরে যথাবিহিত সৎকার, শ্রাদ্ধাদি হয়নি তাঁদের উদ্দেশ্যেও জল প্রদান করা হয়। পরম্পরা অনুযায়ী এই তিলোদক কোন বৃহদাকার বৃক্ষের মূলে বা জলাশয়ে নিবেদন করাই বিধি। প্রতিদিন সেই বৃক্ষমূলে পতিত তিল পাখিদের খাদ্য হয়। মাটিতে পড়ে থাকা অবশিষ্ট তিল থেকে যখন বৃক্ষের প্ররোহ ঘটে তখন সেই বৃক্ষ পরিত্যাগ করে অন্য কোন বৃক্ষতলে তিলোদক নিবেদন করতে হয়।

ভৌতযজ্ঞ হল মনুষ্যেতর প্রাণীদের সেবা। ভূত শব্দের অনেক অর্থের মধ্যে একটি অর্থ হল প্রাণী। এই ভূতযজ্ঞে পরিবেশের নানাবিধ প্রাণীর সেবা করা হয়। গরু, কুকুর প্রভৃতি বৃহদাকার প্রাণী; কাক, চড়াই প্রভৃতি পাখি; পিঁপড়ে প্রভৃতি কীট; প্রজাপতি প্রভৃতি পতঙ্গ; মাছ প্রভৃতি জলচর— এদের সকলের উপযুক্ত খাদ্য প্রদান করাকে ভৌতযজ্ঞ বা ভূতযজ্ঞ বলা হয়।

নৃযজ্ঞ বা মনুষ্যযজ্ঞ হল নিঃস্বার্থ ভাবে মানুষের সেবা। বোধায়ন গৃহ্যসূত্রের দ্বিতীয় প্রশ্নের চতুর্থ অধ্যায়ে পঞ্চ মহাযজ্ঞ আলোচনা প্রসঙ্গে মনুষ্যযজ্ঞ সম্বন্ধে বলা হয়েছে, “মনুষ্যযজ্ঞো দানম্ আমূলফলশাকেভ্যঃ”— মূল, ফল শাক প্রভৃতি থেকে শুরু করে সমস্ত প্রকার ভোজ্য পদার্থ দানই মনুষ্যযজ্ঞ। ভারদ্বাজ গৃহ্যসূত্রের তৃতীয় প্রশ্নের পঞ্চদশ সূত্রে বলা হয়েছে “যদ্ অতিথিভ্যোঽন্নং দদাতি স মনুষ্যযজ্ঞঃ”— প্রতিদিন অতিথিদের উদ্দেশ্যে অন্ন প্রদানই মনুষ্যযজ্ঞ। এজন্য হিন্দু গৃহস্থ বাড়ি থেকে ভিক্ষুক, সন্ন্যাসী প্রভৃতিরা ভিক্ষা করতে এলে তাদেরকে ফেরানোর প্রথা নেই। প্রসঙ্গতঃ, হিন্দু সংস্কৃতিতে যাঁরা নেহাতই অভাবের তাড়নায় অন্যের কাছে হাত পাতে তাদেরকে ভিক্ষুক বলা হত না। কারণ ভারতবর্ষের সমাজ ব্যবস্থায় কোন ব্যক্তির প্রয়োজনীয় কর্মের অভাব কখনও হত না। যাঁরা সংসারের প্রতি বৈরাগ্যবশতঃ কিংবা মানবসেবা জন্য নির্মিত আশ্রম বা গুরুকুল চালানোর জন্য গৃহস্থের দ্বারস্থ হতেন তাঁদেরকেই ভিক্ষুক বলা হত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থার পরিবর্তন হলেও এমন ব্যক্তি এখনও সমাজে আছেন। বর্তমানের ফ্ল্যাটবদ্ধ জীবনে, রাস্তাঘাটে যথার্থ ভিক্ষুকের অভাবে এই মনুষ্যযজ্ঞের নির্বহণের যথাযথ পন্থা আশ্রয় করা প্রয়োজন।

শ্রুতি এবং কল্পসূত্র ছাড়াও বিভিন্ন স্মৃতি এবং পুরাণে পঞ্চ মহাযজ্ঞ সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা পাওয়া যায়। যেমন অগ্নিপুরাণ, কূর্মপুরাণ, ভবিষ্যপুরাণ প্রভৃতি পুরাণে পঞ্চ মহাযজ্ঞের বিবরণ আছে তেমনই যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি প্রভৃতি স্মৃতিগ্রন্থেও পঞ্চ মহাযজ্ঞের আলোচনা এবং কর্তব্যতা নির্ধারিত হয়েছে। পঞ্চ মহাযজ্ঞ প্রত্যেক গৃহস্থের নিত্য পালনীয় কর্তব্য।

পঞ্চ মহাযজ্ঞ আমাদের জীবনকে পবিত্র করে। সভ্যতাকে পুষ্ট করে। সংস্কৃতিকে সুদৃঢ় করে। পরম্পরাকে অবিচ্ছিন্ন রাখে। পৃথিবীকে সুন্দর করে তোলে। এই পঞ্চমহাযজ্ঞের ধারণা হিন্দু সংস্কৃতির উৎকর্ষ এবং আর্ষ প্রজ্ঞার যথার্থ রূপটি আমাদের সামনে তুলে ধরে। প্রত্যেক সৎ গৃহস্থের এই পঞ্চমহাযজ্ঞ পালন একান্ত কর্তব্য।

 

শ্রী রাকেশ দাশ – (অধ্যাপক, সংস্কৃত ও দর্শন বিভাগ
রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ শৈক্ষিক ও গবেষণা সংস্থা)
(মানিত বিশ্ববিদ্যালয়)
বেলুড় মঠ, হাওড়া, পশ্চিমবঙ্গ ৭১১২০২)

 

(ছবি: সৌজন্যে Adobe Stock)

Leave a Reply